রাঙামাটিলিড

পর্যটক শূন্য সাজেকে দৈনিক ক্ষতি চারলক্ষ টাকা

শুভ্র মিশু ॥
করোনার সংক্রমণ রোধে লকডাউনের নানা বিধি নিষেধে গত বছরের মত এবছরও ঈদের সময় পর্যটক শূন্য রাঙামাটি। যেখানে প্রতিবছর ঈদ পরবর্তী সময়ে পর্যটন স্পটগুলো থাকতো পর্যটকমুখর, পর্যটন ব্যবসায়ীরা আয় করতো কোটি কোটি টাকা। সেখানে এই বছর শুধু সাজেকেই দৈনিক ক্ষতি গুণছে ৪লক্ষ টাকার বেশি। অপরদিকে জেলার হোটেল মোটেলগুলোর প্রায় ৯০ভাগ কর্মচারীকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক ছুটিতে।

চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পর্যটকের ঢল নামে রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে। তেমনি ভাবে ঈদের ছুটিতেও হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকতো রাঙাামাটি। কিন্তু করোনার সংক্রমণের নানা বিধি নিষেধে এই বছরও গত বছরের মতো বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু উৎসবে যেমন পাহাড় মেতে উঠেনি তেমনি ভাবে ঈদের ছুটিও নিরবে পার করছে পাহাড়ের পর্যটন স্পটগুলো।
গত বছর করোনার কারণে টানা চার মাস পর্যটন স্পট বন্ধ থাকা এবং এই বছর ৩১মার্চ থেকে এখনো পর্যন্ত পর্যটন স্পর্টে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এতে রাঙামাটির পর্যটনশিল্প বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছে এই শিল্পের সাথে জড়িতরা।

পর্যটনশিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, চৈত্র সংক্রান্তি ও ঈদের ছুটি ঘিরে প্রতিবছর পর্যটকের ঢল নামে সিম্বল ও রাঙামাটি খ্যাত পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রিজ, পলওয়েল পার্ক, রাজবন বিহার ও রাজবাড়ী, বড় গাঙ, কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝর্ণা ও সাজেক ভ্যালি পর্যটন স্পটে।

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সূত্রে জানা যায়, সেখানে সমিতির আওয়ায় থাকা ৮২টি কটেজ ছাড়াও বেশ কিছু কটেজ গড়ে উঠেছে ,এতে কটেজের সংখ্যা একশতের বেশি। যার প্রতিটি কটেজেই বর্তমানে কোন পর্যটক নেই, আর্থিক ক্ষতি কমাতে কটেজ মালিকারা ৫০শতাংশের বেশি কর্মচারিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। অপরদিকে বেকার সময় পার করছে পরিবহণ কাজে নিয়োজিত জিপ চালক শ্রমিকরা।

তেমনি ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল ও কটেজগুলো। শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেসরকারি মালিকানাধীন ৫৩টি হোটেল মোটেলের প্রায় ৯০ভাগ কর্মচারীকে পাঠানো হয়েছে বাধ্যতামূলক ছুটিতে। কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে নিয়োজিত দুই শতাধিক টুরিস্ট বোট। টেক্সটাইল মার্কেটসহ প্রত্যেক্ষ পরোক্ষ ভাবে পর্যটকদের নানামুখি সেবায় নিয়োজিত অন্তত ১৭টি পেশাখাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

কটেজ মালিক সমিতি অব সাজের’র সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মণ জানান, এই ঈদের সময়টাতে প্রতিদিন আমাদের কটেজ রেস্টুরেন্ট মিলে প্রায় চার লক্ষটাকার মতো আয় হয়। এছাড়াও পরিবহন খাতের আয় আছে। করোনা পরিস্থির কারণে গত বছরও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এই বছরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

রাঙামাটি হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মো. মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, আমাদের ৫৩টি হোটেলের প্রায় ৯০ভাগ কর্মচারীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে আর্থিক ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য। ঈদের এই সময়টাতে প্রতিবছর পর্যটকের ঢল নামতো রাঙামাটিতে।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়–য়া জানান, চৈত্র সংক্রান্তি ও ঈদের সময়টাতে আমাদের এখানে পর্যটকের ঢল নামে, প্রায় সব রুম বুকিং থাকে। কিন্তু কারোনার এই মহামারি কারণে গত বছরও আমরা ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছিলাম এই বছরও হচ্ছি। এই মাসে আমাদের ক্ষতি ধরা হয়েছে ৩০-৩৫লক্ষ টাকা। আর এভাবে নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকলে প্রতি মাসেই এমন ক্ষতি হতে থাকবে। যা বছর শেষে তিন কোটি টাকা ছাড়াবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button