রাঙামাটিলিড

৯৯৯-এ কল করে উদ্ধার পেল পর্যটক দল

মিশু মল্লিক ॥
পর্যটন নগরী রাঙামাটি বেড়াতে এসে কাপ্তাই হ্রদে আটকে পড়া পর্যটকদের একটি দলকে উদ্ধার করেছে রাঙামাটি জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড থেকে রাঙামাটি বেড়াতে আসে ৮সদস্যের একটি পর্যটক দল। রাঙামাটি সদর থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে সুবলং ঝর্ণায় পৌঁছায় তাঁরা। সুবলং ঝর্ণা ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে কাপ্তাই হ্রদে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাথে কচুরিপানার ঝাঁকে তাদের নৌকাটি আটকে যায়। কচুরিপানা পেঁচিয়ে তাদের নৌকার পাখাটিও নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও কচুরিপানা ঝাঁক থেকে নিজেদের মুক্ত করতে না পেরে বাংলাদেশ পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করে সাহায্য চায় তাঁরা।

রাঙামাটি জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে ঘটনস্থালের কাছাকাছি অবস্থিত জারুলছড়ি পুলিশ ক্যাম্পে খবর পৌঁছালে ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা পর্যটক দলটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। দা, শাবলের মাধ্যমে কচুরিপানার ঝাঁক কেটে ১ ঘন্টার উদ্ধার অভিযান শেষে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁদের জারুলছড়ি পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে রাত ৯টায় তাঁদের রাঙামাটি জেলা পুলিশ পরিচালিত রাঙামাটি পলওয়েল পার্কে আনা হয়।

উদ্ধার হওয়া পর্যটক দলের সদস্য এস.এম রিয়াদ জিলানী বলেন, চারিদিকে যখন ঘোর অন্ধকার দেখছিলাম তখনই আলোর পথ দেখিয়ে আমাদের নতুন জীবন দান করলো বাংলাদেশ পুলিশ। কাপ্তাই হ্রদে এভাবে কচুরিপানার ঝাঁকে আটকা পড়ে যাবো কল্পনাও করতে পারি নাই। জাতীয় জরুরি সেবা এবং রাঙামাটি পুলিশের প্রতি আমরা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।

এই বিষয়ে রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা থেকে রাঙামাটি পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে আমরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করি। পর্যটক দলটিকে উদ্ধারে জারুলছড়ি পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়। জনগণের যেকোন বিপদে ভবিষ্যতে পাশে থাকবে রাঙামাটি পুলিশ। রাঙামাটি বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে আরো সতর্ক হওয়ারও আহবান জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + 16 =

Back to top button