খাগড়াছড়িলিড

৬৫টি পাড়ার জন্য মেঠোপথটি সংস্কার প্রয়োজন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ির পার্বত্য জেলার দুর্গম উপজেলা লক্ষীছড়ির সবচেয়ে দুর্গম ইউনিয়নের নাম বর্মাছড়ি। এখানকার ৬৫ পাড়ার সাথে লক্ষীছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বর্মাছড়ির মেঠোপথ। সেটি দিয়ে যাতায়াত করা মোটেও সম্ভব হচ্ছে না। তাই খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি-বর্মাছড়ি সড়কের ১৫ কিলোমিটারের রাস্তা দ্রুত পিচ বা ব্রীক সলিং করে দেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

প্রায় ৭ হাজার বাসিন্দার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন বর্মাছড়ি। দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ির মানুষ যাতায়াত করছেন। সেখানে একটি বাজারও নেই। ফলে এত মানুষ কষ্ট করে হলেও লক্ষীছড়ি বাজারে এসে বেচাকেনা করতে হয়। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মেঠো পথ হেঁটে জনগণকে আসতে হয়। উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। শুস্ক মৌসুমে ৫/৭ ঘন্টা হেঁটে যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষায় তাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে এলাকাবাসীর কষ্টের সীমা নেই। চিকিৎসাসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় শিক্ষার্থী পাইম্রাও মারমা ও অতইশী মারমা বলেন, বর্ষাকালে এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়। কাঁদা পানিতে রাস্তা ডুবে থাকে। যানবাহনও ঠিক মত চলেনা। বাজারে আসা যাওয়ায়সহ সবক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বিশেষত: কৃষি পণ্য মাথায় বয়ে লক্ষীছড়িতে আনতে কৃষকদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উৎপাদিত কৃষি, ফলজ ও বনজ সম্পদ বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বাসিন্দারা ন্যায্য মূল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বর্মাছড়ির বাসিন্দা মংসানু চৌধুরী বলেন, লক্ষীছড়ি থেকে বর্মাছড়ি সড়কটি অনেক বছর ধরে অযতেœ পড়ে আছে। কারো নজড়দারী নেই। আমরা নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া থেকে সব কিছুতে আমরা দূর্ভোগ পোহাচ্ছি। আমরা সরকারের দৃষ্টি কামনা করি।

এদিকে লক্ষীছড়ি উপজেলা সদর হতে বর্মাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দূরত্ব মোট ১৮ কিলোমিটার। তারমধ্যে মাত্র ৩ কিলোমিটার রাস্তা পিচ ঢালাই করে দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। বাকি ১৫ কিলোমিটার কাচা রাস্তা। ১০ বছর আগে উন্নয়ন বোর্ড এই সড়ক নির্মাণে বড় ধরণের প্রকল্প গ্রহণ করলেও অজ্ঞাত কারণে কাজ চলছে ঢিলেঢালাভাবে।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্মাছড়ি সড়কের সব কটি সেতু ও কালভার্ট নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। সহসাই সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে। অবশ্য উপজেলা চেয়ারম্যান উন্নয়ন বোর্ডের কাজ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

লক্ষীছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী জানান, এটি লক্ষীছড়ির আভ্যন্তরিণ সড়ক। ইতিমধ্যে এই সড়কের ব্রিজগুলো হয়ে গেছে। শুধু পিচঢালায় বাকী। আমি সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ রাখছি। আশা করি সহসা স্থানীদের কষ্টের সমাধান হবে।

দুর্গম এলাকার লোকদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্তা করে সরকার রাস্তাটি অবিলম্বে পিচ বা ব্রীক সলিং এর ব্যবস্থা করে দেবে আশাবাদ সকলের।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button