রাঙামাটি

৩ বছর ৩ মাস পর ১৭৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা ছাত্রদলের

রাঙামাটি

শুভ্র মিশু

আংশিক কমিটি ঘোষণার পর কেটে গেছে ৩৯ মাস, অর্থাৎ ৩ বছর ৩ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রাঙামাটি জেলা শাখা। শুক্রবার ( ২৭ আগস্ট) বিকালে ১৭৩ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন শ্যামল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ সাব্বির।

এর আগে ২০১৮ সালের ৫জুন দীর্ঘ  ৯ বছর পর নতুন করে গঠন করা হয়েছিল রাঙামাটি জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আংশিক কমিটি। এতে ফারুক আহমেদ সাব্বির সভাপতি, আলি আকবর সুমনকে সাধারণ সম্পাদক ও বেলাল হোসেন সাক্কুকে সাংগঠনিকে সম্পাদক করে তেত্রিশ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে তৎকালিন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক।

তখন খুব দ্রুত সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলা হলেও দীর্ঘ ৩৯মাস পর অনুমোদন দেয়া হলো রাঙামাটি জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির জানান, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর দল ক্ষমতার বাইরে, এই সময়টা যারা ছাত্রদল করছে তারা সকলেই ত্যাগী, তাদের মধ্যে থেকে অল্প সংখ্যাক কর্মীকে বেঁছে নেওয়া আসলেই কষ্ট কর। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলমান ছিল সকলকে যাচাই বাছাইরের মাধ্যমে কমিটিতে আনা হয়েছে, যার কারণে কিছুটা সময় লেগেছে। আগে কিন্তু ৩৩সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ছিল। এখন আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে নতুন উদ্যামে এগিয়ে যাব।’

তবে ছাত্রদলের সম্ভাব্য জেলা কমিটি ঘোষণা নিয়ে কদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছিলো কথা চালাচালি। সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতারা জানাচ্ছিলেন প্রতিক্রিয়া। এদেরই একজন আব্দুস শাকুর জাবেদ। তিনি লিখেন-‘

শুনলাম কেন্দ্রীয় ছাত্রদল “এক নেতার এক পদ” ঐ স্লোগান সামনে রেখে রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের কমিটি সাজানোর কথা বলছে কিন্তুু জেলা ছাত্রদলকে ৩৩ জনের আংশিক কমিটি দিয়ে আগে থেকে প্রেগন্যান্ট করে রেখেছে কেন্দ্র সেই ব্যাপারে কেউ কথা বলছেনা,সর্বক্ষেত্রে সমানভাবে আইনটি প্রয়োগ করা হোক, এইখানে কেউ কেউ জেলারও বড় নেতা আবার ইউনিটের বড় নেতা থাকবে আর কেউ ১০/১৫ বছর রাজনিতি করার পরেও মূল্যায়ন হয়না,যারা জেলায় আছে তাদের কে অন্য পদ ছেড়ে দিতে বলেন তাতে আরেকজন সুযোগ পাবে, এতো বড় নেতা রাঙ্গামাটি এখন নাই যতটা কেন্দ্রীয় নেতারা ভাবেন, আমরা তৃনমূল সবার অংশগ্রহনে আগামী আন্দোলন সংগ্রামে একসাথে রাজপথে থাকতে চাই তাই এই বিষয়গুলো বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের অনুরোধ করছি…. ।’ তার এই স্ট্যাটাসটি শতাধিক প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি মন্তব্য করেছেন মন্তব্য করেছেন ৩০ জন, শেয়ার করেছেন চারজন,যাদের প্রায় সবাই কমবেশি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। জাভেদ একই স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেন-‘সমস্যা হলো যে বিগত এক বছর দলীয় কোন কর্মসূচীতে নাই নিজের জেলাই কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তেল তুল মারার কাজটা করে গেছে নিয়মিত তাই ওরা ভাবে রাঙ্গামাটিতে শুধু ঐ মালিশ ওয়ালারাই নেতা ওদের কথামতই সব হচ্ছে।’
কাউসার আহমেদ তুষার নামে এক ছাত্রদল নেতা লিখেছেন-‘তেলের দাম অনেক বেশি তাইতো আজ দলের এই দশা।।।কিছু কিছু নেতা দেখা যাই জেলা,পৌর এবং সদর থানা কমিটির নেতা যারা ইউনিট কমিটির ও যোগ্য না।’
শরীফুল ইসলাম লিখেছেন-‘ভাই কমিটির পর কমিটি করে লাভ কি? সঠিক মূল্যায়ন এখন আর হয় না,মাঠ কর্মীর চাইতে এখন তোষামোদের কদর বেশি। ৫০ জমের কমিটি দিলেও মাঠে পাবেন ৫ জনকে। এরপর যত দোষ দায়িত্ব প্রাপ্তদের। কিন্তু কমিটি দেওয়ার সময় মাঠ রক্ষা না করে যে মন রক্ষ্যা করা হয় এই কথা আর কেউই মনে রাখেনা।’
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির লিখেছেন -‘সিদ্ধান্ত গ্রহন করা আছে কিন্তু প্রয়োগ নাইরে ভাই।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button