নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / ৩ বছরের যুবলীগ পেরোলো ৬ বছর!
parbatyachattagram

৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

৩ বছরের যুবলীগ পেরোলো ৬ বছর!

তিন বছরের জন্য নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ পেরিয়ে দ্বিগুণ হয়েছে,ওয়ার্ড কিংবা উপজেলায় রাজনীতি শুরু করে অনেকেই এখন আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কেউবা রাজনীতিতেই নেই বহুদিন,তবুও ৬ বছরেও সম্মেলন করার ‘সময় ও সুযোগ’ কোনটাই পাননি রাঙামাটি জেলা যুবলীগ নেতারা।

২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে পথচলা শুরু করা রাঙামাটি জেলা যুবলীগের ১০১ সদস্যের কমিটির বেশিরভাগই এখন আর সক্রিয় নেই যুবলীগের রাজনীতিতে। কেউ গেছেন আওয়ামীলীগে,কেউবা চাকুরিতে,কেউ কেউ জীবনের প্রয়োজনেই অন্য কোথাও। কিন্তু সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য যে নতুন নেতৃত্ব দরকার,সেটা নিয়ে ভাবনা নেই যুবলীগ নেতারা। এনিয়ে হতাশ ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা প্রভাবশালী নেতাদের কারণে ‘বুক ফাটে তো মুখ ফাটেনা’ অবস্থায় বিপন্ন বোধ করছেন।

তবে এইসব নেতাকর্মীদের অভিযোগ,সভাপতি-সম্পাদক ব্যস্ত নিজ নিজ কাজে। কমিটিতে এমন অনেক তরুণ কোটিপতি ব্যবসায়ি ও ঠিকাদারকে রাখা হয়েছে,যাদের যুবলীগের প্রতি ন্যুনতম মমত্বও নেই,কর্মসূচীতেও তার গরহাজির। শহর যুবলীগের কোন কার্যক্রমও নেই বহুদিন। উপজেলাগুলোর অবস্থাও নাজুক। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন আর আওয়ামীলীগের কর্মসূচীতে রুটিন অংশগ্রহণ ছাড়া আর কোন কাজ নেই সংগঠনটির।

৬ বছর আগে ২০১৩ সালে তৎকালিন সময়ে ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নেয়া দুই নেতা আকবর হোসেন চৌধুরীকে সভাপতি ও নুর মোহাম্মদ কাজলকে সাধারন সম্পাদক করে যাত্রা শুরু হয় জেলা যুবলীগের। জেলা এবং উপজেলায় একদল সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়েই গঠিত যুবলীগ শুরুতেই বেশ চাঙ্গা ভাব নিয়েই শুরু করে কার্যক্রম। কিন্তু ২০১৫ সালে সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর যেনো ভাটা পড়ে যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে। সভাপতির পৌরসভা নিয়ে ব্যস্ততা আর সাধারন সম্পাদকের ঠিকাদারি কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে পড়ে ‘হাঁসফাঁস’ অবস্থা সংগঠনটির। দুয়েকটি ব্যতিক্রমবাদে উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক কার্যক্রমও নেই এই জেলায় সংগঠনটির। সম্প্রতি শেষ হওয়া আওয়ামীলীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন সম্মেলনে সংগঠনটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী যুবলীগ ছেড়ে আওয়ামীলীগের হাল ধরেছেন। কিন্তু এনিয়ে ‘রা’ নেই জেলা যুবলীগের। গত ৬ বছর এতোটাই ব্যস্ত ছিলেন যে যুবলীগ নেতারা,ছয়বছরে সময় পাননি গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের। তাই এই বছরেরই গত মাসেই ( অক্টোবরে) দায়িত্ব নেয়ার ৬ বছর পর তারা সদলবলে গেছেন বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে !

যুবলীগের কার্যক্রমে হতাশ নেতাকর্মীরাও। কিন্তু দলের সভাপতি সম্পাদক দলীয় রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় এনিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলারও সাহস নেই তাদের। ফলে যেভাবে চলার সেই ঢিমেতালেই চলছে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাসিনো কেলেংকারির কারণে দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত সংগঠনটি।

যুবলীগের সম্মেলনের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে নেতৃত্বশূণ্যতায় পড়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। রোকন-সাইদুলের কমিটি বিদায় নেয়ার ৫ বছর পরও নেতৃত্বহীন হয়ে আছেন। যুবলীগের কোন ইউনিটেরও সম্মেলন না হওয়ায় এইসব সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতীক্ষার প্রহরও যেনো শেষ হচ্ছেনা। বাড়ছে হতাশা,ক্ষোভও।

তবে রাঙামাটি জেলা যুবলীগ সাধারন সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল নিজেদের কমিটিকে ‘সফল এবং নেতাদের ৯৫ শতাংশই সক্রিয় দাবি’ করে বলেছেন, আমরা সম্মেলন করার জন্য বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় কমিটিকে বলেছি,কিন্তু তারা সময় না দেয়ায় সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি এক আদেশে কেন্দ্রীয় সম্মেলন না হওয়া পর্যন্ত জেলা-উপজেলা ও ইউনিট সম্মেলন বন্ধ রাখার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে আমরাও চাই সম্মেলন হোক এবং নতুন নেতৃত্ব আসুক,যাদের গতিশীল নেতৃত্বে আরো বেশি শক্তিশালি হবে এইদেশের যুবসমাজের প্রাণের এই সংগঠনটি।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুব অঙ্গসংগঠন সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর গঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। ২০১২ সালের ১৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে চেয়ারম্যান পদে ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ হারুনুর রশিদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত ক্যাসিনো কেলেংকারিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। ক্যাসিনো অভিযানে সবচেয়ে আলোচিত এই সংগঠনটি নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে আগামী ২৩ নভেম্বর। এদিন আওয়ামী যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় এই কংগ্রেসে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বড় ঝড়টা যাচ্ছে যুবলীগের ওপর দিয়েই। কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদকসহ আত্মগোপনে গেছেন বেশ কয়েকজন। খোদ সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীও সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দৃশ্যত আড়ালে আছেন। এমন এক কঠিন অবস্থায় আজ ১১ নভেম্বর সংগঠনটির ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে সারাদেশে। ব্যতিক্রম নয় পার্বত্য রাঙামাটিও। এখানে দিনটি উপলক্ষ্যে বিকালে শহরের রিজার্ভবাজার টেক্সিস্ট্যান্ড থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চুরির মামলা করে নিজেই ফেঁসে গেলেন বাদী !

রাঙামাটিতে মিথ্যা চুরির মামলায় বাদীর কারাদ- দিয়েছেন আদালত। জেলার কাউখালী থানার আর্দশগ্রাম নিবাসী আবুল কাসেমের …

Leave a Reply