নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / ৩৮ হাজার বাঙালি পরিবারকে যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি

৩৮ হাজার বাঙালি পরিবারকে যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে ৮২ হাজার পাহাড়ি পরিবারকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে খাগড়াছড়িতে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাঙালি সংগঠনগুলো। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে জেলা শহরের শাপলা চত্ত্বরে এই কর্মসূচি পালন করে পার্বত্য অধিকার ফোরামের নেতাকর্মীরা।

এসময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘শরনার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্স কর্তৃক উদ্বাস্তু সাজিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে মায়ানমার ও ভারতীয় ৮২ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। অথচ পাহাড়ের প্রকৃত উদ্বাস্তু গুচ্ছগ্রামে বন্দি ৩৮ হাজার বাঙালি পরিবারকে এখনও যথাযথ পুনর্বাসন করা হয়নি। এ নিয়ে বর্তমান টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি’র কঠোর সমালোচনা করেন তারা।

তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি অনুসারে ২০ দফার আওতায় ভারত প্রত্যাগত ২২ হাজার উপজাতীয় পরিবারকে সম্পূর্ণভাবে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন শান্তিবাহিনীর হাতে খুন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ৬১ হাজার বাঙালি পরিবার উদ্বাস্তু হয়েছিলো। যারা এখনো গুচ্ছগ্রামে বন্দি জীবন যাপন করছে। চুক্তির দীর্ঘ ২০ বছর পার হলেও এসব হতভাগা পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের কোনও উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি। ২০১৪ সালে শরণার্থী পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্সের সভায় গুচ্ছগ্রামে বন্দি বাঙালি পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের দাবি উত্থাপন করা হলে তৎকালীন চেয়ারম্যান বলেছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন উদ্বাস্তু নেই এবং বাঙালি উদ্বাস্তুদের তালিকাও নাকোচ করা হয়েছিলো। তাহলে টাস্কফোর্সের ৯ম সভায় ৮২ হাজার উদ্বাস্তু পরিবারকে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত কিভাবে দিলেন? বর্তমান টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি- এমন প্রশ্ন রাখেন বক্তারা।

‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো কাক্সিক্ষত জুম্মল্যান্ড বানাতে গোপনে মায়ানমার ও ভারত থেকে রাতের আঁধারে সীমান্ত পার করে ৮২ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করতে তাদের উদ্বাস্তু সাজাচ্ছে’- বলে মন্তব্য করেন তারা।

এসময় বক্তারা অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামকে রক্ষায় সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানো, পুনর্বাসনের নামে টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তের ষড়যন্ত্র বন্ধ, পুনবার্সন তালিকায় স্থান পাওয়া পরিবারের সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে পাহাড়ে উদ্বাস্তু বাঙালি পরিবারদের পুনর্বাসনে উদ্যোগ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। অন্যথায়, আগামী ১৩ অক্টোবর খাগড়াছড়ি টাস্কফোর্স কার্যালয়ের সম্মুখে অবস্থান ধর্মঘটসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মাঈন উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুম রানা, সংগঠটির খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার সভাপতি এস এম হেলাল প্রমূখ। অবস্থান কর্মসূচি শেষে একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে পার্বত্য অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

আরো দেখুন

রাঙামাটি শহরে আওয়ামীলীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৮

পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে নির্বাচনী পথসভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × 4 =