ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

২৮ মাস পর রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগের ‘সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ কমিটি’

২০১৫ সালের ২২ মে কাউন্সিলে সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ২৮ মাস পর ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেছে,রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর কলেজ ছাত্রলীগের ‘সমঝোতার কমিটি’ হওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেতাকর্মীরাও। কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া নতুনরা খুশি,অন্যদিকে বাদ পড়ারা জানিয়েছেন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া। তবে সবমিলিয়ে সমঝোতা হওয়ায় খুশি সংগঠনটির নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা।

২৮ মাস আগে কলেজ ক্যাম্পাসে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচিত হন সুলতান মাহমুদ বাপ্পা,যিনি তার প্রতিদ্বন্ধি মঈনউদ্দীন বাপ্পীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। সাধারন সম্পাদক পদে রাজু চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সাধারন সম্পাদক হন আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ।

সম্মেলনের ৮ দিন পর ৩০ মে-২০১৫ তারিখেই পূর্ণাঙ্গ কলেজ কমিটির অনুমোদন দেন সেইসময়কার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ এমরান রোকন ও সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইদুল। কিন্তু ২ জুন জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে নাটকীয়ভাবে সভাপতি মনোনীত হন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল জব্বার সুজন। সুজন জেলা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রত্যাখ্যান করেন অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কিন্তু সুজন ও তার অনুসারি হিসেবে পরিচিত কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বাপ্পার সাথে এনিয়ে বিরোধ তৈরি হয় কলেজ সম্পাদক রিয়াদ ও জেলা সম্পাদক প্রকাশের। পাল্টা একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে সুজন ও বাপ্পা। সেই কমিটিতে নিজের সাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন জেলা সম্পাদক প্রকাশ চাকমা।

এরই মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের বিরোধ পৌঁছায় কলেজেও। পাল্টাপাল্টি দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষে আহত হন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রিয়াদসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী। এর জেরে দীর্ঘদিন কলেজের বাইরে অবস্থান করতে হয় কলেজ সভাপতি বাপ্পা ও তার অনুসারিদের। থানায় পাল্টাপাল্টি মামলায় হতাশ ও ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন নেতাকর্মীরা। নির্জিব হয়ে পড়ে রাঙামাটি কলেজে ছাত্রলীগের সামগ্রিক কর্মকান্ড।

তবে সাম্প্রতিক এক ‘বিরল সমঝোতা’য় আগের দুই কমিটিকে ‘অস্বীকার’ করে ২৮ মাস পর সভাপতি-সম্পাদককে বহাল তবিয়তে রেখে ৭১ সদস্যের নতুন এক কলেজ কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন ও সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা। ছাত্রলীগ নেতারা পুরনো বিরোধ ভুলে সামনের জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্যই আগের দুই কমিটির সমন্বয়ন করে নতুন কমিটি করেছেন বলে দাবি করেছেন।

কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ,তাদের আমলেই তিনটি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, আমাদের মধ্যে দ্বন্ধ ও ভুল বোঝাবুঝি ছিলো,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার সব ভুলে নিজেরা এক হয়ে কাজ করার জন্যই পুরনো দুই কমিটির ১৫/২০ জনেক বাদ দিয়ে, নিয়মিত ছাত্র ও সক্রিয়দের মধ্য থেকে ১০/১২ জনকে এদিকে ওদিক করে নতুন কমিটির ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছেছি। সেটাই জেলা কমিটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদন করেছে। এখন আর রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগে কোন বিরোধ থাকবেনা বলে জানান তিনি। কমিটিতে রাঙামাটি কলেজের ছাত্র নয়, এমন কয়েকজনকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সত্যি তারা এখন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করায় আর কলেজের ছাত্র নয়,তবে তারা আমাদের কথা দিয়েছেন এই কলেজেই ভর্তি হবেন,তাই তাদের রাখা হয়েছে। কমিটিতে বিবাহিত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমাদের জানা ছিলোনা।

কোন চাপ বা গোপন সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করে রিয়াদ বলেছেন, আমরা উপর হামলাকারিদের অনেকেও এই কমিটিতে আছে এটা ঠিক,আমি দলের স্বার্থে তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি নিজের উপর কোন দায় রাখতে চাইনি বলেই সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি করেছি। কোন প্রলোভন বা ঠিকাদারি কাজের বিনিময়ে সমঝোতা হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। সমঝোতা হওয়ায় দুই পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। জেলা ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক সমঝোতার সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনিয়ে আমি কোন মন্তব্য করব না,আমি কলেজ নিয়েই ভাবছি আপাতত।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে নিজেদের মধ্যকার বিরোধ ও সংঘাতের কথা স্বীকার করে রিয়াদ বলেন, অতীত ভুলে আমরা সামনে এগোতে চাই। সব ভুলে যেতে চাই। নতুন করেই সব শুরু হবে এখন।

এদিকে কলেজ কমিটি থেকে বাদ পড়া এবং জেলা কমিটিতে ঠাঁই পাওয়ার আশ্বাস পাওয়া এক ছাত্রনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘রিয়াদ ভাই আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তার পেছনে রাজনীতি করে আমি সব হারিয়েছি,তিনি নিজের লাভের জন্য আমাদের বলি দিয়েছেন। এখন জেলা কমিটিতেও যদি না রাখে কিছুই করার থাকবেনা।’ তিনি একই সভাপতি-সম্পাদকের অধীনে দুইবার দুই জেলা কমিটি কর্তৃক দুটি কমিটি অনুমোদনকে ‘বিতর্কিত’ ও ‘অগঠনতান্ত্রিক’ দাবি করেছেন।

এদিকে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, দলের স্বার্থেই কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপকে সমঝোতায় বাধ্য করা হয়েছে। একইভাবে জেলা ছাত্রলীগও সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং নিজেদের মধ্যকার ‘সমঝোতার কমিটি’ ইতোমধ্যেই কেন্দ্রে প্রেরণ করেছে অনুমোদনের জন্য। সূত্রটির দাবি,দলীয় সভাপতি দীপংকর তালুকদার ও মুছা মাতব্বর এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এ ব্যাপারে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছিলো।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর অনুষ্ঠিত জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে কাউন্সিল ছাড়াই কেন্দ্র মনোনীত ৬ সদস্যের কমিটি গত ২৭ মাসেও পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি নিজেদের জেলা কমিটি। সম্প্রতি কমিটি নিয়ে সুজন ও প্রকাশ সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেই কমিটি কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদি সেই ৬ জনের মধ্যে একজন ইতোমধ্যেই চাকুরিতে যোগ দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

১টি কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − seven =

Back to top button