নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / ২৫ নভেম্বরেই চোখ রাঙামাটি আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের
parbatyachattagram

২৫ নভেম্বরেই চোখ রাঙামাটি আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের

কিছুটা অস্বস্তি তো ছিলোই,ছিলো টেনশনও,কিন্তু শেষাবধি সব দু:শ্চিন্তা দূরে রেখেই বেশ ‘স্বস্তিকর’ ভাবনায় শেষ হয়েছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের প্রান্ত থেকে জেলার ঠিক আগ অবধি সবগুলো ইউনিটের সম্মেলন। দশ উপজেলার মধ্যে ৯টিতেই শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন শেষ হলেও বরকলে কাউন্সিল করতে না পারার অস্বস্তিটা রয়েই গেলো জেলা নেতাদের। তবে বাকিসবগুলো ইউনিটের সম্মেলন ঠিকঠাক শেষ করতে পারায় ফুরফুরে মেজাজে থাকা জেলা নেতারা এবার উঠেপড়ে লেগেছেন জেলা সম্মেলন নিয়ে। আপাতত: পেছনে ফেলে আসা ব্যর্থতা কিংবা পূর্ণতা ভুলে সবাই আগামী ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জেলা সম্মেলন নিয়েই শুরু করেছেন নতুন ভাবনা ও পরিকল্পনা।

আওয়ামীলীগের জেলা সম্মেলনের কাউন্সিলরের নিয়মটা বেশ কৌতুহলপ্রদ। জনসংখানুপাতে প্রতি দশহাজারে একজন কাউন্সিলর পাবে উপজেলা ও পৌর ইউনিটগুলো। সেই হিসেবে যে উপজেলার জনসংখ্যা বেশি তাদের কাউন্সিলর বেশি,যাদের কম তাদের কপালে জুটবে কমই।

সময় ঘনিয়ে আসছে। হাতে প্রায় ২২ দিন। এখনো ঠিক স্পষ্ট নয় সভাপতি সম্পাদক হিসেবে লড়ছেন কারা। তবে রাঙামাটি আওয়ামীলীগের ইতিহাস বলে সভাপতি পদে বারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন জিতে জিতে ক্লান্ত দাদাই(দীপংকর তালুকদার) হয়তো আবারও একই নাটকের মঞ্চায়ন শেষে সভাপতি হবেন। সুযোগসন্ধানীরা বলছে, সম্ভবত: দাদা এবার প্রার্থী হবেন না। তবে নিন্দুকেরা বলছে, তিনি প্রার্থী হবেনই। তবে সুযোগসন্ধানি নাকি নিন্দুক কারা বিজয়ী হন সেটা দেখার জন্য ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

কিন্তু সুযোগসন্ধানি বা নিন্দুকদের ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে যদি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত নেয়া যায়,তারা কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিতেই পারেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনামতো,স্থানীয় সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী কিংবা জনপ্রতিনিধির দলীয় পদ না নেয়ার বা না দেয়ার সিদ্ধান্ত যদি বাস্তবে রূপলাভ করে,তবে সভাপতি প্রার্থী হতে পারবেন না দীপংকর সেটা স্পষ্টই। সেক্ষেত্রে কি হবে ? ‘দাদাহীন আওয়ামীলীগ’-ভাবতেই অনভ্যস্ত দলটির নেতাকর্মীরা বিকল্প কাকে সামনে নিয়ে আসবে সেটাই হবে দেখার বিষয়। তবে সাংবাদিক মন বলছে, যদি দাদাহীন দল হয়,তবে সভাপতির দৌড়ে নেমে পড়বেন বর্তমান তিন সহসভাপতি চিংকিউ রোয়াজা,নিখিল কুমার চাকমা এবং বৃষ কেতু চাকমা। এই তিনজনের যার উপর দাদার আশীর্বাদ থাকবে,তিনিই হয়তো দাদার বিকল্প হবে,দলীয় প্রধান হিসেবে। আপাতত সেই সম্ভাবনা ‘শুধুই গল্প’ কিংবা ‘কেবলি আশাবাদ’। সময়ই বলে দেবে,দাদা নাকি দাদার ছায়াই হচ্ছে রাঙামাটি আওয়ামীলীগের পরবর্তী সভাপতি !

গত দুই যুগ ধরে রাঙামাটি আওয়ামীলীগের সম্মেলন মানেই সাধারন সম্পাদক পদে লড়াই। কে হবেন সাধারন সম্পাদক সেটা ঠিক করাই যেনো সম্মেলনের প্রথম,প্রধান এবং একমাত্র কাজ ! এবারো তার খুব একটা ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। সঙ্গতকারণেই সবার নজর এই পদের দিকেই। এবার এখানে লড়বেন বলে শোনা যাচ্ছে বেশ কজনের নাম।

বর্তমান সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর তো মাঠেই ঘোষণা দিয়েই আছেন। সাথে মাঠে নেমেছেন গত কাউন্সিলে ভোটযুদ্ধে পরাজিত হয়ে সাধারন সম্পাদক পদ হারানো হাজী কামালউদ্দিন। শোনা যাচ্ছে,সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন,যুগ্ম সম্পাদক সন্তোষ কুমার চাকমা,জসীমউদ্দীন বাবুল, প্রেসক্লাব সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেলের নামও। বাতাসে ভেসে বেড়ানো এসব নাম কর্মীদের মুখে মুখেও প্রচার হচ্ছে। কিন্তু মুছা-কামালের বাইরে আদৌ এরা কেউ নির্বাচন করবেন কিনা কিংবা শেষাবধি মাঠে থাকবেন কিনা সেই সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট নয় কোন আলামতই। এনিয়ে ধোঁয়াশা আছে কর্মীদের মধ্যেই। আপাতত সাধারন সম্পাদক পদের প্রার্থী অনেক। কিন্তু দাদার আশীর্বাদ কার উপর কর্মীরা জানেনা,যদিও প্রার্থীদের প্রত্যেকের দাবি,তার মাথার উপরই হাত আছে দাদার। বাস্তব পরিস্তিতি কিন্তু তা বলছেনা। কৌশলী দীপংকর খুব সহজে এবং সহসাই অবস্থান জানান দেয়ার মতো নেতাই নন। সেটা জানেন সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। তাই তারাও খেলছেন,খেলাচ্ছেন। পাতছেন নিজেদের মতো করেই নিজস্ব ফাঁদ,তৈরি করছেন নতুন নতুন ধোঁয়াশা।

রাঙামাটি আওয়ামীলীগের কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক পদটি মূলত: একটি মিউজিক্যাল চেয়ার। বহুদিন ধরে এই পদে দুইবার নেই কেউই। ফলে আশুতোষ বড়ুয়া,সেলিম চৌধুরী,হাজী কামালের পর মুছা মাতব্বরও কি ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিদায় নিবেন নাকি ফের সেক্রেটারি হয়ে নতুন ইতিহাস নির্মাণ করবেন কে জানে ! আপাতত: রাঙামাটি আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের সব নেতাকর্মীদের মতো রাঙামাটিবাসির চোখও ২৫ নভেম্বরের পানেই,যেদিন নির্ধারিত কাউন্সিলেই নির্বাচিত হবে পার্বত্য এ জেলার আওয়ামীলীগের আগামী দিনের নেতা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

তবলছড়ি কালিমন্দির পরিচালনার দায়িত্বে আশীষ-পংকজ-অরূপ

রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহি শ্রী শ্রী রক্ষা কালিমন্দির এর নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। গত রবিবার অনুষ্ঠিত এক …

Leave a Reply