রাঙামাটি

১১ দিনেও স্বাভাবিক হয়নি কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ!

জয়নাল আবেদীন,কাউখালী
২৭ ও ২৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) দুই দফায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে হাপাতালের অভ্যান্তরিত বৈদ্যুতিক লাইন পুড়ে বিদ্যুৎ বিহীন হয়ে পড়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কর্মকর্ত কর্মচারী কোয়াটার গুলো। দীর্ঘ ১১ দিনেও সচল হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ লাইন। ফলে বেশ ভোগান্তিতেই আছে ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগি, দায়িত্বরত ডাক্তার, নার্স  ও কোয়াটারে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারীরা। নষ্ট হয়ে গেছে কোয়াটারে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারীদের ফ্রিজে থাকা সব খাবার।

এঘটনায় ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলো সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী গত মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তবে অল্প সংখ্যাক জনবল নিয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। ২০২১ সালের শেষের দিকে উদ্বোধন হওয়া ৫০ শয্যার নতুন ভবনে এ দুর্ঘটনাকে কাজের নিন্মমান বলেও অভিযোগ করে আসছিলো স্থানীয়রা।

হাসপাতাল ভবনে বিদ্যুৎ লাইন বিছিন্ন হয়ে পড়লে অস্থায়ী মিটার দিয়ে আলাদা বিদ্যুৎ লাইন টেনে জরুরী কিছু জায়গায় কয়েকটি লাইট ও ফ্রিজিং করা ঔষদ নষ্ট হওয়ার সংঙ্কা ঠেকাতে ইপিআই রুমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকালে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ঘুরে দেখাযায়, হাসপাতালটির নিচ তলায় তার টানার কাজ করছেন কয়েকজন। কাজ শেষ করতে আরও তিন থেকে চার দিনের বেশি সময় লাগবে বলে জানান তারা। এদিকে শুক্রবার আবাসিক কোয়াটার গুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আবার কারিগরি ক্রটি দেখা দেয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একজন জানান শুক্রবার ট্রান্সফরমারে সমস্যা হয়েছে। যা শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরামত করতে নিয়ে যাওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তদন্ত কমিটির সদস্য বেতবুনিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহের আবাসিক প্রকৌশলী মো. আতিকুল আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে একবার ট্রায়েল দেওয়া হয়েছিলো, কারিগরি ত্রুটি থাকায় সেবারও বিদ্যুৎ লাইনের ফিউজ কেটে যায়। শুক্রবার ঠিকাদারের লোকজন চট্টগ্রাম থেকে ইঞ্জিনিয়ার এনে আবার লাইন দেওয়ার চেষ্টা করে টান্সফরমারের ক্রটি খুঁজে পায়। যা মেরামরেত জন্য চট্টগ্রামে পাঠিয়েছে তারা।

কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও উপজেলা তদন্ত কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদুল আলম জানান- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কাজের অদক্ষতা প্রকাশ পেয়েছে। তদন্তে কাজের অনেক ভুল উঠে এসেছে। বিদ্যুতের সাব স্টেশনের আইসুলেটর নষ্ট ছিলো, ওটা পরিবর্তন করে কোয়াটার গুলোতে ট্রায়েল দিলে আবার ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যায়। হাসপাতাল ভবনের অভ্যান্তরিন বিদ্যুৎ লাইন টানার কাজ ৫০ ভাগ হয়েছে। বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। অদক্ষ ও কম জনবল দিয়ে কাজ চলছে স্থানীয়দের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি আমরা লক্ষ্য করছি কিন্তু তারা (ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন) মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বলা ছাড়া কিছুই করার থাকছেনা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + fifteen =

Back to top button