পাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়াব্রেকিংরাঙামাটিলিড

হেভিওয়েটদের তিন হেভিওয়েট চীফ এজেন্ট

রাঙামাটির ২৯৯ নং সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারি ৬ প্রার্থীর মধ্যে প্রধান ৩ জন হলেন আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের দীপংকর তালুকদার,যিদি ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ছিলেন এবং আছেন। বিএনপির প্রার্থী ২০০১ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান এবং জনসংহতি সমিতির সমর্থিত প্রার্থী ও দলটির সহসভাপতি,বর্তমান সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। এই তিনজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যেই ভোটের লড়াই হবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের। মজার ব্যাপার হলো,এই তিন হেভিওয়েট এর চীফ এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন আরো তিন হেভিওয়েট।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী নৌকার দীপংকর তালুকদারের চীফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য,আওয়ামীলীগের সাবেক জেলা সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান সহসভাপতি হাজী কামালউদ্দিন। একসময়কার স্বনামধন্য এই ক্রীড়াবিদ একসময় বাম ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও গত দুই দশকধরেই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং দীপংকর তালুকদারের বেশ আস্থাভাজন হিসেবেও পরিচিত। অভিজ্ঞ ও প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ তার উপর অর্পিত কঠিন দায়িত্বটি নিষ্ঠার সাথে পালনে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী তিনি। বললেন, নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে নৌকাই জয় লাভ করবে। তবে আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র হুমকি ও ভয়কে উপেক্ষা করে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী ধানেরশীষের মনিস্বপন দেওয়ানের চীফ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খোদ দলটির জেলা সভাপতি ও নিজেই প্রার্থী হতে আগ্রহী হাজী মোঃ শাহ আলম। রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি থেকে রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি,জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি হওয়া শাহ আলম ব্যক্তিগত জীবনেও সজ্জন ও অমায়িক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিএনপির পরীক্ষিত ও সুখ দুখের সাথি শাহ আলম এবার নিজের দলের প্রার্থীতা বাছাই থেকে নির্বাচনী যুদ্ধ,সবকিছুতেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মনিস্বপন দেওয়ানের সাথে জেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় জনসংযোগে যাওয়া কিংবা নির্বাচনের খুঁটিনাটি দিক লক্ষ্য রেখে পুরো কাজকে এগিয়ে নিয়েছেন এ যাবত তিনিই। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী শাহ আলম মনে করেন,জনতার নীরব সমর্থন ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত হলে ধানের শীষই বিজয়ী হবে। তিনি সবাইকে দেশ ও গনতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ভয়ে ভোট দিতে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার,এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তার দল জনসংহতি সমিতি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত না হওয়ায়,তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও মূলত: দলটির সার্বিক সহযোগিতায় দলটির প্রার্থী হিসেবেই মাঠে আছেন তিনি। গতবারের মতো এইবার তার নির্বাচনী চীফ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনসংহতি সমিতির তরুণ ও জনপ্রিয় নেতা উদয়ন ত্রিপুরা। বাগ্নিতার কারণে সুপরিচিত উদয়ন দলটির সবস্তরের কাছেই বেশ গ্রহণযোগ্য ও মেধাবী নেতা হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক এই সভাপতির নিজের বাড়ী খাগড়াছড়ি জেলায়,তবে রাজনৈতিক কারণেই দীর্ঘদিন তিনি রাঙামাটিতেই অবস্থান করছেন। খাগড়াছড়ি জেলা জনসংহতি সমিতির সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি দলটির গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ সদস্যও। নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে,লেভেন প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকলে তার দলের সমর্থিত প্রার্থীই বিজয়ী হবেন, এমন আশাবাদের কথাই জানালেন তিনি। একইসাথে জয় পরাজয় যাই হোক,তা মেনে নিয়ে সব প্রার্থীর প্রতি কোন প্রকার সাম্প্রদায়িক উস্কানি না দেয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button