ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘হত্যা-নির্যাতন ধর্মের কাজ নয়’

লংগদুতে কঠিন চীবর দানোৎসবে দীপংকর তালুকদার

খাদ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেছেন, যেহেতু আমরা জগৎ সংসারে আছি, সে ক্ষেত্রে নানান সমস্যা থাকবেই। তার জন্য সমাধানের পথও আছে। সমস্যা আছে বলেই আমি নৃশংস জীবন, অস্ত্রবাজী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির পথ বেচে নিতে পারিনা। হত্যা নির্যাতন করা এগুলো ধর্মের কাজ নয়। আমাদের গৌতম বুদ্ধ বলেছেন মৈত্রী ভাবনা করতে। মৈত্রী ভাবনা করে আমাদের পথ চলতে হবে। ধর্ম দিয়ে প্রতিযোগিতার কাজ নয়। তারপরও আমি আগের তুলনায় অনেক বেশি ধর্মের চর্চা করে থাকি। আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ব্যাপারে বিষণ আন্তরিক। তিনি চান প্রত্যেক ধর্মের লোকেরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের আন্তরিকভাবে ধর্ম পালন করতে পারে।

মঙ্গলবার রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ডানেআটারকছড়া আর্যগিরি বনবিহারে দুই দিনব্যাপী তৃতীয় দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত সোমবার সকালে পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্যদিয়ে চীবর দান অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাত ১টায় বেইন বুনা শুরু হয়। সংঘ দান, বুদ্ধমুর্তি দান, কল্পতরু দান, অষ্ট পরিস্কার দান এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিন্ড দানসহ নানাবিধ দান করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে নানিয়ারচর তক্ষশীল বন বিহারের অধ্যক্ষ করুনা বর্ধন মহাস্থবীবের সভাপত্বি ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন। নাথোরাম চাকমা, ধ্রুব চাকমা ও সুপ্তা চাকমার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, লংগদু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার। ধর্মীয় দেশনা দেন নানিয়ারচর বেনুবন অরণ্য কুঠির বনবিহারের অধ্যক্ষ পন্থক ভান্তে মহাস্থবীর। বিশেষ অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাইনুল আবেদীন, লংগদু উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্যাথোয়াই প্রæ মারমা, লংগদু উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ঝান্টু চৌধুরী, লংগদু থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ নুর, রাঙামাটি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপক চাকমা, লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু, আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা। এছাড়া বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

দীপংকর তালুকদার আরও বলেন, এখানে তৃতীয় বারের মতো কঠিন চীবর দান হচ্ছে। তাই দেশনাবল, ভোজনবল, অষ্টশীল প্রার্থনার ঘর লাগবে। তাই তার জন্য এই অর্থ বছরে ৭০ লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বানও হয়েছে। যদি কাজ অসম্পূর্ণ থাকে তাহলে পরবর্তীতে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। এতে এখানে ভালোভাবে একটি বনবিহার প্রতিষ্ঠিত হবে।

ধর্মীয় দেশনায় বক্তারা বলেন, পূণ্য লাভে বনভান্তের শাসন অনুশাসন ও আদর্শকে বুকে ধারণ করে চলতে চলতে হবে। এসময় বনবিহারে পূণ্য লাভের আশায় আগত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সাধু সাধু ধ্বনি দেন। শেষে বর্তমান দেশ ও জাতি করোনা প্রভাব থেকে যেন মুক্ত হতে পারে সেই প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় ডানে আটারকছড়া আর্য গিরি বনবিহারে হাজার বাতি প্রজ্জ্বালন করা হয়েছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button