খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

হঠাৎ সাবেক প্রেম !

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি কর্মকান্ডে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতি প্রীতি ফুটে উঠেছে। যা এলাকায় নানান সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় মোবাইল মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে। সেসব ক্যাম্পের ব্যানারে তারিখের স্থানে সাদা কাগজে কয়েকমাস আগের তারিখ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সেসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিও করা হয়েছে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে।

অনুষ্ঠানগুলো দুর্গম এলাকায় করার কারণে বিষয়টি জানাজানি হয় অনেক পরে। যার নেতৃত্বে এসব মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন করা হয়েছে ডাঃ একরামুল আজম; তিনিও বদলি হয়ে চলে গেছেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দীঘিনালায় যোগদান করেছেন ডাঃ তনয় তালুকদার। আর এ কারণে সম্প্রতি দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা হয়েছে বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান। সে অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি করা হয়েছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নবকমল চাকমাকে। অথচ চলতি বছরের ১৮মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে ১৩মে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজি মোহাম্মদ কাশেম। বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে এড়িয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুষ্ঠানগুলো সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাখার বিষয়টি রীতিমতো রহস্যজনক বলে ভাবছেন অনেকে। সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নবকমল চাকমা তখন নির্বাচিত হয়েছিলেন পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের সমর্থীত প্রার্থী হয়ে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার (সিবিএইচসি) এর সিবিএইচসি অপারেশন প্লানের ট্রাইবাল হেলথ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হয়েছে। সেখানে রোগীদের চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণসহ চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের খরচ সে বরাদ্ধ থেকে বহন করা হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, উপজেলার কাঙ্গারা খিয়া এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হয় চলতি বছরের ১৮ জুলাই। অথচ ব্যানারে তারিখের জায়গায় সাদা কাগজে লিখে লাগানো হয়েছে ১৩/০২/২০১৯; যা দেখলেই স্পষ্ট চোখে পড়ার মতো। একই ভাবে সীমানা পাড়ায় মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হয় ১৭ আগস্ট, কিন্তু ব্যানারে আলাদা কাগজে তারিখ লাগানো হয়েছে ১৭/০৬/২০১৯। এসব মেডিক্যাল ক্যাম্প বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পরে হলেও প্রতিটি অনুষ্ঠানেই প্রধান করা হয়েছে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে।

জানতে চাইলে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নবকমল চাকমা জানান, অনুষ্ঠানগুলো আগের তারিখের বলে তাঁকে জানিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়ে তিনি গিয়েছিলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এরকম ৮টি প্রোগ্রামে আমি নিজে উপস্থিত থেকেছি; আমাকে ছাড়া আরও ৫টি প্রোগ্রাম করা হয়েছে বলে জেনেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দীঘিনালা থেকে সদ্য বদলি হয়ে যাওয়া পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ একরামুল আজম বলেন, ‘প্রোগ্রামগুলো আগের, তখন ফান্ড ছিল না। কিন্তু বাজেট এসেছে পরে, সে কারণেই ব্যাকডেট দেখিয়ে প্রোগ্রামগুলো করা; যা সবাই জানে।’

অপরদিকে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ কাশেম বলেন, ‘প্রোগ্রামগুলো নিয়ম নীতির মধ্যে হয়ে থাকলে প্রধান কোন সমস্যা নাই; কিন্তু নীতিমালা বহির্ভূত হলে যে বিভাগেরই হোক না কেন তা মানার মতো না।’

বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠানে সাবেক চেয়ারম্যানকে প্রধান অতিথি করার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তনয় তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টির সাথে তো আসলে আমি জড়িত নই। তারা শুধু আমাকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বলেছিল।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button