ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

হঠাৎ রাঙামাটি শহরে চোর বেড়েছে !

সারা বেলার ক্লান্তি শেষে রাতে শখের মোবাইলফোনটি চার্জে রেখেই ঘুমিয়ে পড়েন রাসেল বণিক। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে হাত বাড়িয়ে দেখেন যেস্থানে মোবাইলফোনটি রেখেছিলেন; সেখানে চার্জার পড়ে রইলেই ফোনটি নেই! মোবাইলফোনটি খোঁজার জন্য অন্য মোবাইলফোনটি খুঁজে সেটিও পাননি তিনি। এক পর্যায়ে ঘরের বেড়ার দিকে চোখ পড়লে তিনি অকপটেই বুঝতে পারেন রাতের যেকোনো সময় তাঁর মোবাইলফোনটি খোয়া গেছে। কারণ রাতের বেলায় খুব কৌশলে বেড়াকেটে ঘরে ঢুকেই তাঁর মোবাইলটি চুরি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৭ ডিসেম্বর রাতে রাঙামাটি শহরের দক্ষিণ কালিন্দিপুর এলাকায়।

এর আগেরদিন (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ঘর থেকেই টিউশনের টাকা জমিয়ে কেনা ফোনটি চুরি হয়ে যায় শহরের ফরেস্ট কলোনী এলাকার বাসিন্দা জয় দে’র। অবশ্য মোবাইলফোনটি চুরির পর মনের অবস্থা বুঝে পেরে জয়কে সান্তনা দিয়েছিলেন রাসেল বণিক। কিন্তু একরাতের ব্যবধানে নিজের মোবাইলফোন দুইটি চুরি হওয়ায় রীতিমতো আশ্চার্য্য হলেন বণিক। সম্প্রতি রাঙামাটি শহরে হঠাৎ বেশকয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রাঙামাটি কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। এতে করে সাধারণ মানুষ বেশ আতঙ্কিত ও উদ্বেগে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে গতকাল কথা হয় রাসেল বণিকের সাথে। তিনি জানান, সারাদিনের কর্মযজ্ঞ শেষে রাতে ঘরে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করে মোবাইলফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি, মোবাইল দু’টির একটিও নেই। এছাড়া আমার প্যান্টের পকেটে থাকা টাকাও চুরি করে নিয়ে গেছে। তিনি জানান, ‘বেশ আশ্চর্য্য হয়েছি, রাতের বেলায় ঘরের বেড়া কেটে অভিনব কায়দায় এমন ঘটনাটি ঘটালেও আমরা কেউই টের পাইনি। টাকা নিয়েছে, এতে এতটা আপসোস নেই। তবে মোবাইলে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ছিলো। যা সবই হারিয়ে ফেলেছি। তাই বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করলাম। এখন পুলিশের ওপরই নির্ভর করছি, যেন ফোনটা ফিরে পাই।’

শহরের ফরেস্ট কলোনী এলাকার বাসিন্দা জয় দে জানিয়েছেন, গত ৬ ডিসেম্বর দিনের বেলায় ঘরের সামনের কক্ষে ফোনটি চার্জে দিয়ে ভেতরের কক্ষে আসি। ১০ মিনিট পরে গিয়ে দেখি ফোনটি চুরি হয়ে গেছে। পরে আমি থানায় জিডি করেছি। এ ঘটনার পর মোবাইলের সাথে চুরি হয়ে হয়ে যাওয়া সিমটি রিপ্লেসমেন্ট করার জন্য টেলিকমিউনিকেশন অফিসে গিয়ে দেখি আমার মতো অনেকেই সিম রিপ্লেসমেন্ট করতে এসেছেন। অনেকের সাথে আলাপ করে জানতে পারি তাদের প্রায়জনের মোবাইলফোন চুরি হয়ে গেছে।

জয় দে’এর এমন কথা শুনে বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা গেল সাম্প্রতিক সময়ে সিম রিপ্লেসমেন্ট বেড়েছে। তবে কেন এমন হচ্ছে- এমন বিষয়ে তারা কিছুই জানাতে পারেননি।

তিন সপ্তাহ আগে শহরের প্রধান সড়কের পাশে কাঁঠালতলী এলাকার জাহেদ আহম্মদের বাসায়ও দিনে-দুপুর চুরি ঘটনা ঘটেছে। এদিন দিনের বেলায় ঘরে ঢুকে মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। তিনি জানান, ‘হঠাৎ করে এমন চুরির ঘটনা রাঙামাটির জন্য ভালো লক্ষণ নয়। আমরা ধারণা করছি, এটা কোনো সংঘবদ্ধ চোরচক্রই ঘটিয়ে চলছে। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হয়। অন্যথায় এমন ঘটনা দিনদিন আরও বৃদ্ধি পাবে।’

এ বিষয়ে রাঙামাটি পৌর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার জানিয়েছেন, ‘হঠাৎ করে পর্যটন শহর রাঙামাটিতে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়া এটা উদ্বেগের বিষয়। সাধারণত রাঙামাটিতে এমন কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে। হঠাৎ চোরচক্র কী মেসেজ দিতে চাচ্ছে তা আমার জানা নেই। আমি মনে করি, পুলিশ প্রশাসন চাইলেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে ধরতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটি শহরে এসব সংঘটিত চুরির কথা আমাদের নজরে এসেছে। এসব ঘটনায় আমরা বেশ কয়েকজনকে আটকও করেছি। কিন্তু তারা সবাই অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের নিচে)। আইনের সীমাবদ্ধতা থাকায় এদের আদালতের মাধ্যমে দণ্ড প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমরা তাদের অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে মুচলেকা নিয়ে অনেক সময় এদের ছেড়ে দিই। কিন্তু মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কারণে তারা ফের একই ধরণের কর্মকাণ্ড চালাতে দ্বিধাবোধ করে না। এ তাই পারিবারিকভাবে সন্তানদের নজরে রাখা দরকার।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button