ব্রেকিংরাঙামাটি

হঠাৎ ভোটের মাঠ থেকে উধাও জনসংহতি সমিতি !

তবে কোনদিকে ঝুঁকবে তাদের ভোট ?

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। অস্ত্র ছেড়ে সংসারে ফিরে আসার সময়কালও পেরিয়েছে বহুদূর। পেছনে ফেলে আসা চব্বিশ বছরে কাপ্তাই হ্রদের বুকে বহমান কর্ণফুলি,চেঙ্গী,কাচালং নদীর পানিও প্রবাহিত হয়েছে লক্ষ কোটি কিউসেক ! বদলেছে পাহাড়ে রাজনীতির রঙ ক্ষণে ক্ষণে। বন্ধু শত্রু হয়েছে, শত্রুও বন্ধু। জাতিগত জিঘাংসা পরিণত হয়েছে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে। অযুত নিযুত দু:সংবাদের ভীড়ে আশাবাদের সবচে বড় জায়গা ছিলো চার ধারায় বিভক্ত আঞ্চলিক দলগুলোর ভোটের রাজনীতিতে প্রবেশ ও গনতান্ত্রিক চর্চার প্রতি প্রবল আগ্রহ।

রাঙামাটি জেলার রাজনীতিতে গত দুই দশকের সবচে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। বিভক্তির পরও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন এই দলটি এখনো এই জেলার শহর থেকে দুরগ্রামে,নিজস্ব প্রভাববলয় নিয়ে দাপটের সাথেই আছে,জনপ্রিয়তায়,আধিপত্যে কিংবা অবস্থানগত মর্যাদায়।

আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে আসার পর ২০০১ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করার ‘ভুল’ কিংবা ‘পিছিয়ে পড়া’ থেকে শিক্ষা নিয়ে ধীরলয়ে ভোটের রাজনীতিতে প্রবেশ করে দলটি। স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় নির্বাচন,সর্বত্রই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তৈরি করে জাতীয় দলগুলোর জন্য ‘কঠিন ও কঠোর’ চ্যালেঞ্জ। ফলও পায় দ্রুত। ২০১৪ সালে সারাদেশে আওয়ামীলীগের ভূমিধস জয়ের মধ্যেই রাঙামাটিতে হারিয়ে দেয়,সেই সময় নির্বাচনকালিন সরকারের মন্ত্রী দীপংকর তালুকদারকে। চমকে উঠে পুরো জনপদ,পুরো দেশও। এরপর স্থানীয় সরকার পরিষদের উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ঈর্ষনীয় সাফল্য দেখায় দলটি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে না পারা দলটি নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করতে না পেরে ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী দিয়েই দলীয় নেতা ও সমর্থিতদের বিজয়ী করেছে বিভিন্ন জায়গায়,ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদেও।

তবে তুমুল সাফল্যের ভীড়েও দলটির ‘চারণভূমি’ রাঙামাটি শহরের মূলকেন্দ্র পৌরসভায়,সমর্থিত প্রার্থী দিয়েও কোনবারই সাফল্য পায়নি দলটি। মূলত: ভোটের রাজনীতির ‘অসমতা’র কারণেই এই পৌরসভায় সাফল্য না পাওয়া দলটি সর্বশেষ ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলো। সেই নির্বাচনে ‘নজিরবিহীন কারচুপি’র পর নির্বাচন বর্জন,মিছিল সমাবেশ,হরতাল,অবরোধসহ নানা কর্মসূচীও পালন করেছিলো দলটি। জোর দাবিও করেছিলো ‘পুনর্নির্বাচনের’।

কিন্তু পাঁচ বছর পর এসে ২০২১ সালে ভোটের রাজনীতি থেকে যেনো যোজন যোজন দূরে দলটি। এই নির্বাচনে নিজেদের সরাসরি কিংবা সমর্থিত,কোন প্রার্থীই নেই দলটির ! তাদের এই হঠাৎ পিলে চমকানো ভোটের মাঠে অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও চলছে নানান জল্পনা কল্পনা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কিংবা মাঠের ক্রীড়নকরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন,চিন্তার খোরাক হচ্ছে রাজনীতি সচেতন মানুষের মনে,নানা প্রশ্ন। তবে জনসংহতি সমর্থিত ভোটগুলো কোথায় যাবে ? কার কপালে ‘রাজটিকা’ কিংবা ‘কলংকতিলক’ এঁকে দিবে জনসংহতি সমিতির ‘নিয়ন্ত্রিত ভোটগুলো’ ? আপাতত এই প্রশ্নের জবাব নেই ! চেষ্টা করেও কথা বলা গেলোনা দলটির দায়িত্বশীলদের সাথে,সংযোগহীনতায় !

ভোটের মাঠ থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া দলটির ‘রাজনৈতিক কৌশল কিংবা পলিসি’ বোঝাও বরাবরই মুশকিল বটে ! সাবেক গেরিলা সংগঠনটি প্রকাশ্য রাজনীতিতে এলেও ‘কথায় এবং কাজে’ এখনো ‘লুকোচুরি’ কিংবা ‘গোপনীয়তা’র নীতিই অনুসরণ করে বেশিরভাগ সময়।

এখন দেখার পালা,আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি,পৌরভোটের দিনে,জনসংহতির অঙ্গুলি হেলনে হাঁটানো ভোটাররা কেন্দ্রমুখি হাঁটে আদৌ কিনা। তবে সংঘবদ্ধ এই ভোট পেতে মরিয়া চেষ্টাই চালাবেন,নৌকা ধানের শীষের দুই প্রার্থী’ই। সুযোগ নিতে চাইতে পারেন, লাঙ্গল প্রতীকে একমাত্র পাহাড়ী মেয়র প্রার্থী প্রজেসও। দেখা যাক,ভোটের রাজনীতির ‘গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক’ এই ভোট আর ভোটারদের গন্তব্য কোন দিকে !

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button