ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

হঠাৎ কেনো রাঙামাটি শহরে নাম্বারবিহীন অটোরিকশার ছড়াছড়ি !

দেশের সবচে বড় জেলা রাঙামাটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের একমাত্র যানবাহন সিএনজিচালিত অটোরিকশা। পার্বত্য এই শহরে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিদিন তাদের নিজস্ব গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহার করে থাকে এ বাহনকেই। তাই শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির সড়কে হঠাৎ করেই বেড়েছে নাম্বারবিহীন সিএনজি অটোরিকশা। দিনে কিংবা রাতে সব সময় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে এসব নাম্বার বিহীন গাড়িগুলো। হঠাৎ করে এমন করে অটোরিকশা বেড়ে যাওয়ায় অবাক হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকগণ। গাড়ির নাম্বার না থাকায় যাত্রীরা থাকছে ঝুঁকিতে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন রাস্তায় একদম নতুন নাম্বার বিহীন গাড়ি চলাচল করছে। অপরদিকে কিছুটা পুরাতন গাড়িও চলছে, যেগুলোতেও কোনো নাম্বার প্লেট নাই। অনেক গাড়িতে কোনো ধরনের নাম্বার না থাকলেও কিছু গাড়িতে গাড়ির মালিক ও চালকরা ‘রাঙামাটি-থ- ১১-০৬’ পর্যন্ত লিখে রেখে পরবর্তী ডিজিট খালি রেখেছে!

সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহরে অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণে তৈরি হয় যানজটের। এরমধ্যে আরও নতুন অটোরিকশা ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। অনেকে ধারনা করছেন, আগে থেকেই অনেক অবৈধ সিএনজি শহরে চলছে। সম্প্রতি ‘জেলা প্রশাসন থেকে আরও দুইশত সিএনজি রেজিস্ট্রেশন প্রদান’ এর খবর ছড়িয়ে পড়লে আরও অনেক অটোরিকশা বেড়েছে শহরজুড়ে। আবার অনেকেই অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, রেজিস্ট্রেশন বিহীন গাড়ি অটোরিকশা চালক সমিতির নেতা ও ট্রাফিক পুলিশের সামনে চলাচল করলেই সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এদিকে জেলা বিআরটিএ অফিস রাঙামাটিতে চলাচলকারী কতটি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন আছে তা জানাতে পারেনি। তবে একটি সূত্র জানায়, রাঙামাটি শহরে প্রায় ১ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে নিয়মিত। যার মধ্যে বৈধ কাগজ আছে মাত্র ৬৬৪ টির।

অটোরিকশা চালক বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা বৈধ চালক, তারাই নিয়মিত ইনকাম তুলতে পারিনা। কারন এত অবৈধ নাম্বার বিহীন গাড়ি চলাচল করে, যার প্রভাব পড়ে আমাদের ওপর।’

আবু আজাদ নামের আরেক চালক বলেন, ‘এমনিতেই সিএনজির সংখ্যা বেশি। তারপরও আরও নাম্বার বিহীন সিএনজি আমাদের যেমন ফেলছে ভোগান্তিতে তেমনই ঝুঁকিতে। কোনো গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটালে নাম্বারও নাই যে অভিযোগ করবে।’

জেলা অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি পরেশ মজুমদার বলেন, ‘নাম্বার বিহীন নতুন গাড়ি শহরে চলাচল করছে, সেটা আমরা ভালোভাবে দেখছি। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময় ধরে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম নাম্বার ব্যবহার করে যে গাড়িগুলো চলাচল করে তারও বিরোধীতা করে প্রশাসনকে অনেকবার বলেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয় নাই।’
এ বিষয়ে জানতে জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. ইসমাইলের মুঠোফোনে একাধিবার চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএ রাঙামাটির পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় এমন রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ি চলা নিয়ে কোনো তথ্য নেই। নতুন রেজিস্ট্রেশন দেয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে শফিক বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন বন্ধ আছে সেটি বলা যাবে না। আবার চালু আছে সেটিও বলা যাবে না। রেজিস্ট্রেশন দেয়া না দেয়া সম্পূর্ন জেলা প্রশাসকের এখতিয়ার।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button