নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / হঠাৎ আলোচনায় বিএনপি নেতা শাহ আলম!

হঠাৎ আলোচনায় বিএনপি নেতা শাহ আলম!

নির্বাচনী বছরে হঠাৎ নেতাকর্মীদের মুখে আলোচনার ঝড় তুলেছে রাঙামাটি জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ শাহ আলমের নামই। তৃনমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা,গত কয়েকবছরে নানান পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আসা দলটি, এবার কেবল কেন্দ্রের ইচ্ছাশক্তির বাস্তবায়ন নয়; দুঃসময়ের কান্ডারী নেতাদেরই মনোনয়ন দিবে এবং পরীক্ষিত ও ত্যাগি নেতারা মূল্যায়িত হলে রাঙামাটিতে মনোনয়ন পাবে মোঃ শাহ আলমই।

তবে রাঙামাটির দলটির নেতারা অবশ্য জানিয়েছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ছাড়া কোনো ভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না তারা। তবে নেত্রীর কারামুক্তি দিলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

নির্বাচনী বছরে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা চলছে নিজ দলীয় প্রার্থীতা নিয়ে। কে হবেন বিএনপির যোগ্য প্রার্থী এই নিয়ে তৃনমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ স্থানীয় নেতারা দলীয় কার্যালয় থেকে চায়ের টেবিল সর্বত্রই চালাচ্ছেন আলোচনা। নেতাকর্মীরা বলছেন, আর ভাড়া করা প্রার্থী নয়,এবার নিজ দল থেকেই দেয়া হোক দলীয় মনোনয়ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এনিয়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষন।

বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনগুলোর সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শাহ আলম দলটির সাথে যুক্ত আছেন। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই তার এই রাজনীতিতে আসা। তখন তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে পার্বত্য জনপদে বিএনপির রাজনীতির বিকাশে ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দায়িত্ব নেন। তৎকালীন সময়ে তার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রঘুনাথ ত্রিপুরা। বিএনপি জন্ম নেয়ার আগে মোঃ শাহ আলম জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন ।

১৯৮১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসে এরশাদ সরকার। ৮২ সালে সারাদেশে ছাত্র আন্দোলন নিষিদ্ধ হলে পালিয়ে ছিলেন এই ছাত্রনেতা। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে তিনি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। এরপর একই উপজেলার সভাপতিসহ পরপর দুইবার ছিলেন রাঙামাটি পৌর বিএনপির দায়িত্বে। এরপর ১/১১ এ পলাতক সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর নিপিড়ন নির্যাতনকালে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন এই নেতা।

বর্ণাঢ্য এই রাজনীতিবিদকে এবার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। তৃনমূলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহ আলম সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথেই আছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি অবশ্যই পাহাড়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে যোগ্য নেতাকেই মনোনয়ন দিবে। জেলা বিএনপির এই নেতা সংগঠনের সকল ইউনিট সংঘবদ্ধ করে রাজনৈতিক স্তর চষে বেড়াচ্ছেন। তাই একটাই প্রত্যাশা এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শাহ আলমকেই চাই।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির বলেন, ‘নির্বাচনের চেয়ে আমাদের দেশনেত্রীর মুক্তিটাই মুখ্য বিষয়। দেশনেত্রীর মুক্তি পর যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনেই কাজ করবো।’ এক প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বিএনপি অবশ্যই পার্বত্য এলাকার কথা বিবেচনা করে যোগ্য নেতাকে মনোনয়ন দিবেন।’

রাঙামাটি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, ‘বিএনপি যদি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তখন তৃনমূল পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই-বাচাই করে অতীতের ত্যাগ ও পরীক্ষিত বিবেচনায় যাকেই মনোনয়ন দিবে; আমরা তার জন্যই কাজ করে যাবো।’ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ আমাদের বিশ^াস কেন্দ্রীয় বিএনপি অবশ্যই প্রার্থী দেওয়ার সময় রাঙামাটির সার্বিক বিষয় ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা বিবেচনায় রাখব। আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিয়েই মাঠে নামবো।’

রাঙামাটি জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল বলেন, ‘দেশনেত্রীর মুক্তি ছাড়া বিএনপি কোনভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রশ্নই উঠেনা। নেত্রীর মুক্তির পর কেন্দ্রীয় কমিটি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা শাহ আলম ভাইকেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবেই চাইবো। আমরা শাহ আলম ভাইয়ের নেতৃত্ব সামনের দিনগুলিতে এগিয়ে যেতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘শাহ আলম ভাই জেলা বিএনপির প্রাণ। তার রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রদল থেকে শুরু করে আজ জেলা বিএনপির নেতৃত্বে দিচ্ছেন। অতীতে যারা রাজনীতি করেছেন আমরা তাদের সম্মান করি; শ্রদ্ধা করি। আমরা চাই যারা সারাবছর তৃনমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে যিনি রাজপথে আছেন। আন্দোলন সংগ্রামে মধ্যে ছিলেন তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক। যারা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থেকেই হুট করেই মনোনয়ন চাইবে; তাদের মনোনয়ন দিলে তো তৃনমূলের চাওয়া-পাওয়ার বাস্তবায়ন হবে না। আমাদের এই চাওয়াটা কেবল আমাদেরই নয়; এটা তৃনমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম জানান, ‘আমরা প্রথমেই দেশ নেত্রীর মুক্তি চাই। আর পরবর্তীতে যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবো। আমরা বারবার কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দকে বলছি, আপনারা তৃনমূলের মতামত নিয়ে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন দিবেন। এর আগে ২০০১ সালে যখন মনি স্বপন দেওয়ান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছে; তখন আমিও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।’

শাহ আলম বলেন, ‘আমার দাবি, তৃনমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে যেনো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু শুধুই কেন্দ্রীয় ঘোষিত প্রার্থী দেয়া হলে তৃনমূল নেতাকর্মীদের অমূল্যায়ন করা হবে। আমার প্রার্থীতা বড় কথা নয়; আমি চাই তৃনমূলের নেতাকর্মীদের দাবি মানা হোক। তখন দল যাকেই মনোনয়ন দিবে, আমরা তার জন্যই লড়ে যাবো।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তৎকালিন জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ¦ নাজিমউদ্দিন আহমেদ। সেই ছিলো সর্বশেষ কোন জাতীয় নির্বাচনে রাঙামাটি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোন নেতার দলীয় মনোনয়ন পাওয়া। এরপর ১৯৯৬ সালে পারিজাত কুসুম চাকমা,২০০১ সালে মনিস্বপন দেওয়ান,২০০৮ সালে মৈত্রী চাকমা দলীয় মনোনয়ন পেলেও তারা কেউই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে ছিলেন না। এদের কেউ কেউ ছিলেন নির্বাচনে জোয়ারে আকস্মিক ভেসে আসা কিংবা উত্তরাধিকার রাজনীতির প্রতিনিধি। যদি এবার শাহ আলম মনোনয়ন পান,তবে তিনি হবেন ২৭ বছর পর দলটির সভাপতি পদে থাকা দ্বিতীয় প্রার্থী যিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন। এখন দেখার বিষয় আদৌ কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থা কিংবা বিশ^াস অর্জন করতে পারেন কিনা ১৯৭৮ সালে ছাত্রদল হয়ে রাজনীতি শুরু করে নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ৪০ বছর পর রাঙামাটি বিএনপি’র সবচে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসা এই নেতা।

আরো দেখুন

পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১

বান্দরবানে একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার রাজু (৩৪) …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × two =