করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

স্বাস্থ্য বিধি মেনেই খুলেছে শহরের খাবার হোটেল

কাস্টমার কম,সময় বাড়ানোর অনুরোধ মালিকদের

করোনা ঝুঁকি কমাতে সরকার কতৃক সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরে প্রায় দুমাসেরও বেশি সময় বন্ধ ছিলো রাঙামাটি শহরেরর সকল হোটেল রেঁস্তোরা। বরিবার থেকে সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হওয়ার পর রাঙামাটির খাবার হোটেল- রেঁস্তোরাগুলো সচল হতে শুরু করেছে।
সোমবার সরেজমিনে শহরের কোর্ট বিল্ডিং ও বনরূপার কয়েটি হোটেলে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে সব হোটেলেই আসন সংখ্যা অর্ধেক করা হয়েছে। কোন কোন হোটেলে এক টেবিলে মাত্র দুটি কেরে চেয়ার রাখা হয়েছে। সড়িয়ে ফেলা হয়েছে টেবিলও।

রাঙামাটির প্রাচীন হোটেল ‘হোটেল দরবার’র মালিক, নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনা মেনে শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে, খাবার আসনের পুনর্বিন্যাস করেছি, হোটেলের চেয়ার ও টেবিল কমিয়ে ফেলেছি, যাতে মানুষ একে অপরের সংস্পর্শে না আসে।
তিনি আরও বলেন, আজ প্রথম হোটেল চালু করলাম, এখনো হয়তো আমাদের কিছু নিয়ম পালনে ত্রুটি আছে। আশা করছি দুয়েক দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে।

শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকার ড্রীমল্যান্ড হোটে ‘র মালিক রতন জানান, আমার হোটেলের ২৫টি চেয়ার কমিয়ে ফেলেছি, আগে টেবিলের এক পাশে দুটো করে চারটি চেয়ার সাজানো ছিল, এখন যদিও চার পাশে চারটি চেয়ার দিয়েছি, কিন্তু দুজনের বেশি বসতে দিচ্ছিনা। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানতে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে হোটেলের প্রবেশ মুখে দুটি বেসিন স্থাপন করেছি, যাতে মানুষ হোটেলে ঢোকার আগেই ভালভাবে হাত ধুয়ে হোটেলে প্রবেশ করে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা ভালো হচ্ছে না, মানুষ কম, যারা আছেন, তারাও হয়ত সচেতনতার কারণে হোটেলে কম প্রবেশ করছেন। যারা হোটেলে খাচ্ছে, তারা অনেকটা নিরুপায় হয়েই খাচ্ছেন।
রতন আরো বলেন, আমি আসলে এখন ব্যবসা করার জন্য হোটেল খুলিনি, নিজেকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতেই হোটেল খুলেছি, পাশাপাশি একান্ত নিরূপায় মানুষদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সব সময় ব্যবসা করতে হয় না, কখনো কখনো সেবাও করতে হয়।

বনরূপার ভাতঘর হোটেলের কর্ণধার নাজিম উদ্দিন জানান, আমার হোটেলে বয় বাবুর্চি সকলেই বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করছে। তাছাড়া সামাজিক দুরত্ব রক্ষা করার জন্য আগত কাস্টমারদেরও সচেতন করে যাচ্ছি।
তিনি জানান, এই মহামারিতে আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত, আমরা এখন চারটার মধ্যে হোটেল বন্ধ করে দিতে হয়, সরকার যদি বিশেষ বিবেচনায় রাত আটটা পর্যন্ত হোটেল খোলা রাখার অনুমতি দিতো, তাহলে আমাদের ক্ষতি কিছুটা কম হতো।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টোর ( এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, হোটেল রেঁস্তোরা খোলার ব্যাপারে হোটেল মালিকদের সাথে আলোচনা হয়েছে, আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দশনা তাদের জানিয়ে দিয়েছি, সেভাবেই শহরের সকল হোটেল রোস্তোরা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু করেছে। আমরা নিয়মিত এগুলো তদারকি করবো।
সময় বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন কোন ভাবেই সময় বাড়ানো সম্ভব নয়। আমরা মনে করি না এখনো সে সময় এসেছে। এছাড়া মন্ত্রনালয় থেকেও এমন নির্দেশনাই আমাদের দেয়া হয়েছে। তবে সরকারের নতুন কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে আসলে , সেটাও আমরা তাদের তাৎক্ষনিক জানিয়ে দিব।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button