করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

স্বাস্থ্যসেবায় ক্ষত কোথায় আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন সচিব পবন চৌধুরী

‘পাওয়ার জন্য ইচ্ছে থাকতে হবে, তবেই পাওয়া যাবে’

করোনা বিষয়ক ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব পবন চৌধুরী আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন রাঙামাটির স্বাস্থ্য সেবায় কোথায় ক্ষত রয়েছে। রাঙামাটির সাধারণ মানুষের দাবি পিসিআর অবিলম্বে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ স্থাপন। কিন্তু এগুলো কোনটির বিষয়ে আবেদন করা হয়নি এতোদিন মন্ত্রণালয়ে। এমনকি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য যে প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে, সেখানেও আইসিইউ চাহিদা দেয়া হয়নি। ‘না চাওয়াটাই না পাওয়ার মূল কারণ’ উল্লেখ করেছেন করোনা বিষয়ক জেলাভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত এই সচিব। তিনি শুক্রবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয় সভায় এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এসব পাওয়ার জন্য ইচ্ছে থাকতে হবে, তবেই পাওয়া যাবে। না চাইলে কোনও কিছু পাওয়া যাবে না।

সভায় তিনি বলেন, আমি সিএসের(সিভিল সার্জন) মাধ্যমে জানতে পেরেছি রাঙামাটিতে ২৫০ শয্যা উন্নীতকরণের যে প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে, সেখানে আইসিইউ রাখা হয়নি। তিনি বলেন, ২৫০ শয্যা হাসপাতালে যদি আইসিইউ না থাকে তো কোথায় আইসিইউ থাকবে। চট্টগ্রাম হাসপাতালে এক মাস আগেও আইসিইউ ছিলো না, কিন্তু এখন ১০টা হয়েছে, সামনে আরো ১০টা হচ্ছে। ছিলো না বলে সামনে প্রয়োজন হবে না এমনটা তো না। তিনি প্রজেক্ট রিভাইস করে আইসিইউ জন্য চাহিদা দেওয়ার আহŸান জানান।

এ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর কর্মরত প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ বোর্ডের অধীনে বাস্তবায়িত প্রকল্প বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরী প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা যেখানে বর্তমান শিল্পনগরী গড়ে তুললাম, সেখানে এক সময় মাথা পরিমাণ পানি থাকতো। এখন সেখানে শিল্প নগরী গড়ে উঠেছে। এসব কমিটমেন্টের বিষয়, না চাইলে কখনো পাবেন না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এক বিনিয়োগকারী চট্টগ্রাম মেডিকেলে ২০টি ভেন্টিলেটর দিয়েছেন। এসময় আমাকে জানানো হয়েছিল, আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ভেন্টিলেটর লাগবে কিনা, আমি সিএসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানালেন ভেন্টিলেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নেই। সচিব বলেন, যেহেতু এখানকার সবাই এটা চেয়েছে, তাহলে মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ করে একটা ব্যবস্থা করা যায় কিনা চেষ্টা করে দেখুন, প্রয়োজনে আমি নিজেই আমাদের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা করে দিতো পারবো।

এছাড়া পিসিআর বিষয়ে তিনি সিএসকে অনুরোধ করে জানান, আপনি দ্রæত একটি প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করুন। আপনারা যদি মন্ত্রণালয়কে ব্যাখা করতে পারেন যে আপনার স্ট্রাকচার এখানে আছে, জনবল এখানে আছে, এটা চালানোর মতো কোনও অসুবিধা হবে না, তাহলে মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিবে। সরকারের জন্য ৬০-৭০ লাখ টাকা এখানে বরাদ্দ দেয়া কোনও ব্যাপার না। যদিও বরাদ্দ পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে আমি নিজেই আমার বিনোয়োগকারীদের কাছ থেকে এটা ব্যবস্থা করবো। শুধু চেষ্টা করে যেতে হবে, তবেই পাওয়া যাবে।

করোনাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা এসব কথার মাধ্যমেই যেন আমাদের আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেছেন, আমাদের শরীরে ক্ষত কোথায়? টাকায় নয়, ইচ্ছায়। এবার দেখা যাক রাঙামাটিবাসীর জন্য সচিবের এই আন্তরিকতা জেলার কর্তা-ব্যক্তিরা পূরণ করতে পারে কি না।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button