করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রাঙামাটি শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

রাঙামাটি শহরকে পরিস্কার ও জীবানুমুক্ত রাখতে যেসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে দিনভর তারাই এ মুহুর্তে সবচেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। শহরের সকল ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করার  জন্য রাঙামাটি পৌরসভায় নিয়োজিত আছেন ‘সেবক’ নামেই পরিচিত ১১০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, যাদের মধ্যে ২৫ জন সরাসরি আবর্জনা পরিবহনের সাথে জড়িত এবং বাকিরা শহরজুড়ে ঝাড়ু দেয়ার দায়িত্ব পালন করে থাকে। এসব  পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মধ্যে যারা পৌরসভার গাড়িতে করে ময়লা পরিস্কার করে,তারাই সবচে ঝুকিপূর্ণ আবর্জনার ব্যবস্থানার সাথে জড়িত।  । কিন্তু করোনা নিয়ে দেশের সকল মানুষ যখন কিছুটা অতিরিক্ত সচেতন হচ্ছে এবং গ্রহণও করছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা,সেই সময়ও নিজেদের অসচেতনতায় বিপন্ন এসব কর্মীরা এবং তাদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ। 

পৌরসভার পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাস্ক, গ্লাভস,স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ দেয়া হলেও কাজের চাপে তা পরিধান করে কাজ করতে পারছে না তারা। অথচ শহরকে পরিস্কার রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করছে এসব পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। সারাদিন কাজ করতে হয় বলে রাঙামাটি পৌরসভা থেকে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করলেও উপেক্ষিত রয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা।

সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অনেকটা অরক্ষিতভাবেই কাজ করছে। মাস্ক আছে কিন্তু পড়ছে না বা অনেক সময় গ্লাভস পরলেও আবার অনেক সময় গ্লাভস ছাড়া কাজ করছেন। এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরতে পারে এসব পরিচ্ছন্ন কর্মীরা  এবং সাথে সাথে খুবই ঝুঁকিপুর্ণ হচ্ছে তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবনও।

রাঙামাটি পৌরসভা থেকে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের নিরাপদ রাখতে, মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান দিলেও মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের অনীহা রয়েছে।

এ জন্য অবশ্য পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বলেন, আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না, ভয় পেলে এমন কাজ করতে আসতাম না। এতো গরমের মধ্যে সব সময় গ্লাভস ও মাস্ক পরিধান করে থাকা খুবই অস্বস্তিকর ও কষ্টকর, তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি জানার পর শহরকে পরিস্কার রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছি।

রাঙামাটি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সুপারভাইজার বিপ্লব তালুকদার বলেন-‘ আমরা সাধারনত পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রত্যেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে মাসে ২ টি ডেটল এবং একটি বাংলা সাবান দিই। কিন্তু এবার করোনার কারণে মেয়র মহোদয়ের উদ্যোগে সবার জন্য মাস্ক,গ্লাভস’র পাশাপাশি ময়লার প্রতিটি গাড়ীতে হ্যান্ডওয়াশ ও স্যানিটাইজার রেখেছি। পাশাপাশি মাসের শেষে যে ডেটল ও সাবান পাওয়ার কথা,সেটা আগেই দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা নিজেরা যেমন অসচেতন ও এসব ব্যবহারে অনাগ্রহী,তেমনি কাজের চাপেও ব্যবহার করতে পারেনা অনেক সময়, এটাও সত্য। তবুও আমরা চেষ্টা করছি তাদের সচেতন করতে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা: হিরো চন্দ বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সবসময় স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তবে এমন করোনার সময়ে অনেক বেশী সচেতন হয়েই তাদের কাজ করা উচিত।  কারণ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শুধু পরিচ্ছন্ন কর্মীরা থাকবে তেমনটি নয় তাদের পরিবাররাও পড়তে পারেন নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায়। তাই আবর্জনা পরিস্কারের সময় অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস পরিধান করা উচিত এবং কাজ শেষ করেই দ্রুত সাবান দিয়ে ভালো করে গোসল করে নিতে হবে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button