ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

স্বস্তিতে ফিরছে শংকার জীবন

রূপনগরের রাবেয়া আক্তার (২৭)। গত বছরের পাহাড় ধসের দুর্বিষহ স্মৃতি এখনো চোখে ভাসে। তাই গত তিনদিনের বৃষ্টির পুরোটা সময় আশ্রয় নিয়েছিলেন রাঙামাটি শহরের টেলিভিশন উপকেন্দ্র আশ্রয়কেন্দ্রে। কিন্তু মঙ্গলবার বিকাল থেকে আগ্রাসি বৃষ্টি বন্ধ হলে বুধবার সকালে ফিরে গেছেন ঘরে,সাথে স্বামী দিলদার আর সন্তান। আতংকের চোখে মুখে হাসিটা লেগেই ছিলো, কারণ রেখে যাওয়া বসত ঘরটি যেভাবে রেখে গেছেন ঠিক সেভাবেই ছিলো। রাবেয়ার মতো আরো এমন অনেকেরই চোখে মুখে এমন কৃতজ্ঞতার হাসি ছিলো বুধবারের সকালে বাড়ীফেরা সবার। তবে আকাশের কালো মেঘ মুহুর্তেই তাদের মুখের সেই হাসি যেনো কেড়ে নেয়ার শংকাই তৈরি করেছে।

টানা তিনদিনের ভারি বর্ষন আর উদ্বেগ উৎকন্ঠার পর স্বাভাবিক হয়ে এসেছে পার্বত্য জেলার জনজীবন। মঙ্গলবার বিকাল থেকে বর্ষন বন্ধ হওয়ায় দৃশ্যত স্বাভাবিক হয়ে উঠা শহরে শুরু হয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ।

রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোও ফিরে যাচ্ছেন নিজের বসতভিটায়।

বাঘাইছড়ি উপজেলার পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি সরে যাওয়ায় তারাও আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে নিজ বাসস্থানে ফিরে গেছেন। জেলার সাথে যে সকল উপজেলার যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ ছিলো সেগুলো স্বাভাবিক হয়েছে। তবে প্রবল বর্ষনের কারনে সড়কের বেশ কিছু স্থানের প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে গেছে। ধসে পড়া সড়ক সংস্কারে ব্যস্ত দেখা গেছে সওজ এর কর্মীদের।

রাঙামাটি সড়ক বিভাগের উপ সহকারি প্রকৌশলী আবু মুছা জানিয়েছেন, রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সকল বাধা অপসারণ করা হয়েছে,বুধবার রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে,বৃহস্পতিবার রাঙামাটি-বান্দরবান ও রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কের কাজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

রাঙামাটি শহরের বিভিন্নস্থানে ঝুঁকে পড়ে দেয়াল,ধসে পড়া সড়ক কিংবা সীমানা প্রাচীর নিয়ে শংকায় আছে শহরবাসি। শহরের কল্যাণপুরের কাদের মার্কেটের প্রতিরক্ষা দেয়াল না থাকায় এর পেছনে বসবাসকারি শতাধিক পরিবার ঝুঁকিতে পড়েছে। একই অবস্থা শহরের চম্পকনগরের পরিবার পরিকল্পনা প্রশিক্ষন ইন্সটিটিউট এর নবনির্মিত দেয়ালেরও। শহরের ঐতিহ্যবাসি শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ও পড়েছে ব্যাপক ঝুঁকিতে। পেছনের পাহাড়ধসে মাটি সড়ে স্কুলের কাছেই চলে এসেছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার বিকাল থেকে নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে শহরের বিভিন্নস্থানে যেভাবে ভবন,দেয়াল,মাটি ধসেছে, এটা বেশ শংকার। দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা এই শহরটিকে ঝুঁকিহীন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার। আমি বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছি,আমার কাছেই এসব স্থাপনা ও স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে। বৃহস্পতিবারই আমি পৌরসভার মেয়রের সাথে বসব। দেখি কি করা যায়।

এদিকে মঙ্গলবার রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় বিভিন্নস্থানে পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃতদেহ পারিবারিক উদ্যোগে দাহক্রিয়া শেষ হয়েছে। নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম থামেনি। আকস্মিক এই ঘটনায় হত বিহ্বল তারা। নানিয়ারচরে আগে কখনো পাহাড়ধসের ঘটনা না ঘটায় এই ঘটনায় বিস্মিত স্থানীয়রাও। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার সকল মসজিদ মন্দির বিহার থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসিকে বৃষ্টি হলে নিরাপদ কোন স্থানে কিংবা এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। একই সাথে একই ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নানিয়ারচর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোয়ালিটি চাকমা বলেছেন, ‘নানিয়ারচরে ইতোপূর্বে এই ধরণের ঘটনা আর ঘটেনি। এটাই ছিলো প্রথম। তাই আমরাও যথাযথ প্রস্তুুতিতে ছিলাম না। এখন আমরা সবাইকে সতর্ক করছি। আশা করছি এইরকম ঘটনা আর ঘটবে না।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button