করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

স্বপ্নের রঙ ছড়াচ্ছে ‘স্বপ্নবুনন’

রাঙামাটির তরুণদের উদ্যোগে গঠিত সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নবুনন’ এর কর্মীরা নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নিয়েছে নানান উদ্যোগ। তার মধ্যে একটি হচ্ছে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাজারের দোকান গুলোর সামনে অঙ্গন করেছেন গোলাকার বৃত্ত।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রশাসন শহরের মুদির দোকান, ফার্মেসি, কাঁচা বাজারের দোকান ছাড়া সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। এসব প্রয়োজনীয় দোকানগুলোতে প্রতিনিয়ত থাকে লোকজনের আনাগোনা, তাই এখানে সামাজিক দূরক্ত বজায় রেখে যেন সচেতন থাকেন সে উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট দুরত্বের পর পর গোলাকার চক্র অঙ্গন করে দেয়া হয়েছে। তাদের এই সচেতনতা মূলক কর্মকান্ড প্রসংশনীয় বলে জানিয়েছে বাজারে আসা ক্রেতা এবং বিক্রেতারা।

বনরূপা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো: জসিম বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের জন্য সব দোকান পাঠ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় কিছু দোকান খোলা রাখার জন্য বলা হয়েছে প্রশাসন থেকে। তাই আমরা দোকান খোলা রেখেছি। এখানে কাঁচা শাক-সবজি ক্রয়ের জন্য ক্রেতারা আসছেন, এই ভাইরাস ছোঁয়াছে বলে সংগঠনটি গোলাকার বৃত্ত অঙ্গন করে নিদিষ্ট স্থান ঠিক করে দিয়েছে ক্রেতাদের দাঁড়ানোর সুবিধাত্বে। এটি ভালো একটি কাজ হয়েছে।

বাজার করতে আসা আজম খন্দকার জানান, ‘স্বপ্নবুনন নামের সাথে তাদের কাজও সুন্দর। আমি আগে যদিও এ সংগঠনের নাম শুনিনি কিন্তু তাদের কাজের মাধ্যমে নামটা জেনে নিলাম। সংগঠন জানতে হবে তাদের কাজ দিয়ে, নাম দিয়ে নয়। স্বপ্নবুননকে আন্তরিক ভাবে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞা জানাই এ বিপদের সময়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য।’

সামাজিক সংগঠন স্বপ্নবুনন’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নুর তালুকদার মুন্না বলেন, ‘বর্তমানে এক প্রকার অঘোষিত লকডাউন হয়ে আছে পুরো শহর। মুদির দোকান, ফার্মেসী ও কাঁচা বাজারের দোকান ছাড়া সব কিছু বন্ধ। এ দোকান গুলোতে মানুষ এখন বেশি ছুটছে তাদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে। তাই এসব দোকানে ভিরও বাড়ছে তুলনামূলক ভাবে বেশি। এজন্য আমরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন মুদির দোকান, ফার্মেসী ও কাঁচা বাজারের দোকানের সামনে গোলাকার বৃত্ত অঙ্গন করে ক্রেতাদের দুরত্ব বজার রেখে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য উৎসাহ দিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শ্রমজীবি ও দিনমজুর যারা ঠিক ভাবে বাসার বাজারই ক্রয় করতে পারে না, এছাড়া বাজারে বর্তমানে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাওয়াই যাচ্ছে না, যেগুলো আছে তার দাম বেশি, তাই এসব দিনমজুরের পক্ষে ক্রয় করা সম্ভব না। সেজন্য আমরা তাদের মাঝে মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছি। এছাড়া আমরা কিছু সংখ্যাক মাক্স ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে মজুদ রেখেছি। যাতে করে হাসপাতালে নার্স ও ডাক্তারদের যদি কোন সময় মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রয়োজন হয় তাদের মাঝে দেওয়ার জন্য, কারণ তারা এগুলো বাহির থেকে নিয়ে আসতে সময় লাগতে পারে, তাই সে মুহুর্ত্বে তাদেরকে আমরা এ সহযোগিতাটুকু করতে পারবো।

এদিকে স্বপ্নবুনন মাস্ক ও প্রায় পাঁচশত হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ করেছে শ্রমজীবি ও দিনমজুর মানুষের মাঝে। এছাড়াও তারা দিনমজুরদের জন্য এ ক্লান্তিকালে অন্তত এক সপ্তাহের বাজার পৌছানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সাথে রাঙামাটির সংবাদকর্মীদের কাজের সুবিধার্থে তাদের জন্যও মাস্ক এবং স্যানিটাইজার বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

 

 

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button