রাঙামাটি

স্থগিত কালাপাকুজ্যা যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতি করিম, সম্পাদক সম্রাট

লংগদু প্রতিনিধি

দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিরদের নিয়ে হট্টগোলে স্থগিত হওয়া লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সম্মলেন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) বিকালে উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আব্দুল করিমকে সভাপতি ও সামিউল বাশার স¤্রাটকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন কাউন্সিলররা।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনের আয়োজন করা হলেও কাউন্সিলরদের হট্টগোলের কারনে স্থগিত করা হয় সেদিনের কাউন্সিল অধিবেশন। পরে দফায় দফায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বৈঠকের পর আজ (২৭ অক্টোবর) সেই কাউন্সিল সম্পন্ন হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার ও সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুর রহিমকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দৃশ্যত এরপর থেকেই দুই ভাগে বিভক্ত হয় লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু’র নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী সংগঠিত। অপরদিকে অব্যহতি পাওয়া সিনিয়র দুই নেতা যুবলীগের সম্মেলনকে ঘিরে বিকল্প বলয় তৈরীর চেষ্টা করেছেন তারা।

আর তারই ধারাবাহিকতায় লংগদু উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষের কোন্দলের কারণে ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলন প্রতিযোগিতামূলক শেষ হয়েছে। আধিপত্য বিস্তারে দুটি পক্ষই চেয়েছিল তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি নেতৃত্বে এসেছে সেলিম ও বাবু’র পছন্দের প্রার্থীরা। বাকি ২টি ইউনিয়নে নেতৃত্বে এসেছে বারেক ও রহিমের প্রার্থীরা। ইউনিয়ন সম্মেলনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কাউন্সিল সম্পন্ন হওয়ায় কোনো ইউনিয়নেই অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।

কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু’র নেতৃত্বে লংগদু উপজেলা আওয়ামী পরিবার সংগঠিত আছে। আগামী দিনের সকল লড়াই সংগ্রামে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব আরও জোড়ালো ভূমিকা পালন করবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে জননেতা দীপংকর তালুকদারকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করাই এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থেকে চেষ্টা করেছি যুবলীগকে সংগঠিত করতে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সহযোগিতায় সফলভাবে উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে যুবলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করতে পেরেছি। আগামীতে উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নেতাকর্মীরা যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে আবারও উপজেলা যুবলীগের দায়িত্ব নিতে চাই।

কাউন্সিল অধিবেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম, সহ সভাপতি হোসেন আলী, সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য আছমা বেগম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবরিনা তানিয়া হাওয়া, কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তাহের, জেলা যুবলীগের সহ সভাপতি শহিদুল আলম স্বপন, আবু তৈয়ব, ফজলুল হক, আশিষ কুমার চাকমা নব, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর প্রমূখ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − five =

Back to top button