খাগড়াছড়ি

স্কুল পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিবাদ আওয়ামীলীগে !

সংঘর্ষ,পাল্টাপাল্টি মামলা দীঘিনালায়

জাকির হোসেন, দীঘিনালা
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টা-পাল্টি দুইটি মামলা হয়েছে।

একটিতে আসামি করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিক ও তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তার এবং ভাইকে। সে মামলার বাদী হয়েছেন মেরুং (উত্তর) আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হরমুজ আলি। অপর মামলায় শফিক নিজেই বাদী হয়েছেন। আসামি করা হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার শাহআলম ভূইয়া সজিব ও তাঁর ভাই এবং স্বজনসহ হরমুজ আলীকে।

গত শুক্রবার উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বেতছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা। দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভাঙচুর করা হয়। সেদিন রাতে মামলা হলেও শনিবার বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুর ইসলাম জানান, কমিটি গঠন প্রক্রিয়া চলাকালিন সময়ে হঠাৎ করেই মেম্বার শাহ আলম ভূইয়া সজীব সদলবলে ঢুকে সভার কার্যবিবরণী খাতা ছিনিয়ে নেয় এবং হামলা করে। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। থামাতে গিয়ে তিনি নিজেই আঘাত পেয়েছেন। শেষে পুলিশ এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে। সর্বশেষে দেখতে পান তাঁর (প্রধান শিক্ষকের) কক্ষ্যে থাকার বঙ্গবন্ধুর ছবিও ভাঙচুর করেছে হামলাকারীরা। প্রধান শিক্ষক আরও জানান, সভায় শফিকের স্ত্রী শামীমা আক্তারকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অপরদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার শাহ আলম ভূইয়া সজীব জানান, অবিভাবকদের যে তালিকা থেকে কমিটি গঠন করার কথা সে তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তিনি খাতাটি নিয়ে শিক্ষা অফিসারকে দেখাতে যাচ্ছিলেন। এসময় শফিক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। তিনি প্রতিবাদ করলে শফিক দলবল নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। সজীব প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকের কক্ষে সভা চলছিল। সে কক্ষেই সংঘর্ষের ঘটনা হয়েছে। তাহলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে থাকার ছবি ভাঙচুর করল কে?’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শফিক জানান, মেম্বার সজীব সভাপতি নির্বাচিত হরে না পেরে তাঁর স্বজন এবং দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে ছবি ভাঙচুর করে বিদ্যালয়ের খাতা ছিনিয়ে নিয়েছে। দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম চন্দ্র দেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুইটি মামলা হয়েছে; তদন্ত এবং আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + 8 =

Back to top button