নীড় পাতা / ব্রেকিং / সৌদি ফেরত কাউখালীর দুই নারীর মুখে নির্যাতনের কথা
parbatyachattagram

সৌদি ফেরত কাউখালীর দুই নারীর মুখে নির্যাতনের কথা

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার মর্জিনা বেগম (৫০) (ছদ্মনাম)। তিন সন্তানের জননী। বাস করেন উপজেলা সদরের নিকটবর্তী একটি গ্রামে। তিন সন্তানের জননী হলেও সন্তানরা ঠিক ভাবে ভরণপোষণ না দেওয়ায় পরিবারের অস্বচ্ছলা দূর করতে ২০১৭ সালে পারি দিয়েছিলন সৌদি আরবে। দেখার ইচ্ছা ছিলো নবীর জন্মভূমিকে। ২ বছর মেয়াদী ভিসা নিয়ে ২ বছর সৌদিতে থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছেন গত ২ মাস আগে। একই এলাকার জরিনা (৪০) (ছদ্মনাম)। দুই মেয়ে এক ছেলে স্বামী নিয়ে তার সংসার। সেও পারি জমিয়েছিলো পারিবারিক অস্বচ্ছলতা দূরী করণের আশায়।

কিন্তু তাদের কারোই পারিবারিক অস্বচ্ছলতা আর দূর হয়নি। বরং অসহনীয় নির্যাতন সহ্যকরে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছে দুজনই। মর্জিনার ভিসার মেয়াদ ২ বছর শেষে আসলেও জরিনা কৌসলে অসহনীয় নির্যাতন সইতে না পেরে ৬ মাসের বেতন না নিয়েই দুই বছর হওয়ার ৩ মাস আগেই চলে এসছেন নিজ জন্মভূমিতে। সৌদি জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার ও নির্যাতনের কথা জানিয়েছেন আমাদের প্রতিনিধিকে। তিনি জানান, সৌদি জীবনের প্রথম ২ থেকে ৩ মাস মোটামুটি ভালোভাবেই কাটে তাদের। তার পর থেকে শুরু হয় নির্যাতনের পালা। নির্যাতনের প্রথম ধাপ খাবার না দিয়ে কষ্ট দেওয়া। ঠিকতম খাবার দেয়না। মালিকরা ঘুম থেকে উঠার আগেই যে যেটা খায় তাদের জন্য সেটা তৈরি করে রাখে। কিন্তু তারা ঘুম থেকে খাবার খেতে গেলে বলে আমরা আগে খেয়ে বাসি খাবার তাদের জন্য রাখি। বাঙালি ভালো না, এই সব কথা বলে নির্যাতনের শুরু। ঠিকমত বেতন দেয়না। বেতন চাইলে মারধর করে। তারা বলে তোদেরতো টাকা দিয়ে আনছি। তুই কাজ পারছ না কেন? কথা বুজছনা কেনো। বেতন যদি না দেয়? খাবার যদি না? দেয় তাহলে মানুষ বাচবে কিভাবে? এমন প্রশ্ন ছুঁড়েই আবার বলতে শুরু করলেন মর্জিনা। কোন কাজে ভুল হলেই মারধর করে। মাছ ভাজার খুনতি দিয়ে ছ্যাক দেয়। খেজুরের কাটা নখের নিচে, পায়ে ও রানে ডুকিয়ে দেয়। মহিলারাও মারে। পুরুষরা বেশি নির্যাতন করে। মোট কথা সবাই মারে। মাথায় মধ্যে থাকা কালো ব্যাল্ট থাকে ওটা দিয়েও মারে।

নির্যাতনের আরেক ধাপ গণধর্ষণ: মজিনা বলেন, এক পরিবারের সবাই পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পরলে এসে দরজা ধাক্কায়। দরজা খুলতে বাধ্য হতে হয়। ওখানে (সৌদিতে) ঘরের মহিলারা বেশির ভাগই রাতে খাবার খেয়ে ক্লাবে বা পার্কে ঘুরতে যায়। পুরুষরা তাদের পার্কে বা ক্লাব দিয়ে ঘরে চলে আসে। এসেই শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়ের। পরিবারে যত পুরুষ আছে সবাই পালাক্রমে ধর্ষণ করতে থাকে। বাবা, ছেলে, ভাই, মামা, চাচা যারা থাকে সবাই। এদের মধ্যে বাবা ছেলে একজনকে বাবার পর ছেলে যেন কোন বিষয়ই না।

তিনি আরও বলেন, একটা মেয়ে কতটুকু সহ্য করতে পারে? আবার বলতে শুরু করলেন, বললেন যদি এটা একদিনের ঘটনা হতো তাওতো সারাযেতো এমন ঘটনাতো প্রায় প্রতিদিনই বললে চলে। এসব ঘটনা ঘরের মহিলাদের বলারও সুযোগ নেই। কখনো যদি দেখে ফেলে তাও উল্টো নির্যানের শিকার হতে হয় আমাদেরই। উঠতি বয়সি অবিবাহিত মেয়েদের বেশি নির্যাতন করে। কাজের মেয়ের সাথে তো যা ইচ্ছা তাই করতে পারে, স্ত্রীর সাথে তা পারেনা। ওরা কাজের মেয়ের নাম করে যৌনদাসী নেয় মূলত। তাদের কাছে সুন্দর-কালো কোনো বিষয়না। চেহারার কাটিং ভালো এবং ফিগার ভালো হলেই হলো।

পুলিশের কাছে অভিযোগ করার কোনো সুযোগ ছিলো কিনা জানতে চাইলে তারা জানান, বাড়ির গেইটের বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ভাবে যদি পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেও তারা মালিকের কাছে নিয়ে গেলে মালিক উল্টো আমরা মিথ্যা করা বলি উল্লেখ করে স্বর্ণ বা মোবাইল চুরি করেছি বলে ফাঁসিয়ে দেয়। পরে নির্যাতনের মাত্রা হয় দ্বিগুণ। আল্লাহর কাছে কান্না করে করে শুধু বলেছি দেশে এসে যাতে মৃত্যু বরণ করতে পারি। যারা সৌদি থেকে বেঁচে ফিরে এসেছে তারা বলবে না খেয়ে থাকবো তাও আর সৌদিতে যাবো না। ওরাতো কাফের থেকেও খারাপ। কাফেররাও হয়তো তাদের থেকে ভালো।

সৌদিতে আর যাওয়ার ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, সৌদিতে আর যাওয়ার ইচ্ছা নেই। যাবো না আর। গোষ্ঠীর বা এলাকার কেউ যেতে চাইলেও অবশ্যই বাধা দিবো। কি দুর্বিষহ জীবনযাপন তা বলে প্রকাশ করা যায় না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চুরির মামলা করে নিজেই ফেঁসে গেলেন বাদী !

রাঙামাটিতে মিথ্যা চুরির মামলায় বাদীর কারাদ- দিয়েছেন আদালত। জেলার কাউখালী থানার আর্দশগ্রাম নিবাসী আবুল কাসেমের …

Leave a Reply