নীড় পাতা / ব্রেকিং / সেন্ট ট্রিজার নাকি সেন্ট তেরেজা?
parbatyachattagram

সেন্ট ট্রিজার নাকি সেন্ট তেরেজা?

রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মিশনারি স্কুলের নাম নিয়ে দেখে দিয়েছে ধোঁয়াশা। ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি সকলের কাছে সেন্ট ট্রিজার নামেই পরিচিত।

স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যানারে এবং নোটিশ বোর্ডে বাংলায় সেন্ট ট্রিজার উল্লেখ করে। স্কুল কর্তৃপক্ষ যখন আবার ইংরেজিতে স্কুলের নাম লিখে তখন লিখে St. Teresa’s School নামে। এ নামকরণ নিয়ে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্কুলের ছাত্রদের রেজাল্ট কার্ড, পরীক্ষার প্রবেশপত্র, নোটিশ বোর্ডসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ব্যানার এমনকি স্কুলের অফিসিয়াল প্যাডে ও দেখা যায় ইংরেজিতে St. Teresa’s School এবং বাংলায় সেন্ট ট্রিজার স্কুল লেখা ।

অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তেরেজার নামে স্কুল কোন কারণে বা উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রিজার করা হল এর পিছনে অন্য কোন কারণ আছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। স্কুলের নাম বাংলায় যা হবে ইংরেজিতেও তেমনটি হওয়া উচিত বা তার সঠিক অনুবাদে করা উচিত। স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে স্কুলের নাম St. Teresa’s School আছে তা এখনো অপরিবর্তিত আছে, তাহলে বাংলায় কি করে সেটি ট্রিজার হয়।

এ বিষয়ে স্কুলের সাবেক ছাত্রী এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, এ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ছিলেন আমার মা প্রয়াত সুপ্রভা দেওয়ান। ১৯৫৬ সালে খ্রিস্টান মিশনারিরা যখন রাঙামাটিতে স্কুল খোলার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন,তখন স্কুলের জন্য পুরুষ শিক্ষকের পাশাপাশি মহিলা শিক্ষকও হন্য হয়ে খুঁজছিলেন। সে সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দিতে পারেন এমন শিক্ষিত নারীর সংখ্যা ছিল নগণ্য। তাঁরা কেমন করে জানি খবর পেলেন,মা সেই ব্রিটিশ আমলের ম্যাট্রকুলেট। তাঁরা সরাসরি আমাদের বাসায়(মা’র কাছে শোনা, কারণ তখন আমি ৪ বছরের শিশু)এসে অনেক অনুরোধ করে আমার গৃহিনী মা’কে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেন। সাথে শিক্ষিকা হিসাবে নিয়োগ পান মাঝের বস্তির নীলিমা মাসি। পরবর্তিতে মহিলা শিক্ষক হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন আলো রাণী মাসি(ড: অমিত চাকমা, কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট/ভিসি’র মা)। আমার শিক্ষা জীবন শুরু এই সেন্ট ট্রিজার্স স্কুল থেকে(স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল সেন্ট তেরেজা স্কুল)। সেই সময়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রী এখনও বেঁচে আছেন আর তাঁরা এখনও মা এবং তাঁর সহকর্মীদের স্মরণ করেন।

স্কুলের সাবেক ছাত্র ও পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল (অব.) মনিষ দেওয়ান বলেন, নিরূপা দির বক্তব্যের জের ধরে, আমি বলতে চাই যে, এ স্কুলের মাধ্যমে আমারো লেখা পড়ার সূচনা (১৯৬০-১৯৬১)। সেসময় স্কুলের নাম ছিলো সেন্ট তেরেসা স্কুল। যার ইংরেজি বানান ছিলো (St. Teresa’s School) যা এখনো আছে। কিন্তু এ বানান কিভাবে ট্রিজার হয়, সে ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না। এতেই বুঝা যায়, কি অন্তঃসার শূন্য একটা প্রতিষ্ঠানে এটি পরিণত হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিকা গোমেজ বলেন, বাংলায় আর ইংরেজিতে যা লিখা আছে তা ঠিক আছে। ইংরেজি উচ্চারণে যেটি ট্রিজা বাংলাতেও তা ট্রিজা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

অস্ত্রের মুখে রুমায় ৬ গ্রামবাসীকে অপহরণ 

বান্দরবানের রুমায় অস্ত্রের মুখে ৬ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।  রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে পুলিশ …

Leave a Reply