ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

সেই দীপংকরই এবার সভাপতি প্রার্থী !

রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে শনিবার। রাঙামাটি শহরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনকে ঘিরে চলছে নানান হিসেব নিকেষ। সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে অনেকের নামই। এদের মধ্যে সভাপতি হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে আছেন দীপংকর দে,আব্দুল মান্নান, মইনুদ্দিন ইমন এবং শরীফ হোসেন মুন্না। সাধারন সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছে রনি হোসেন,দিদারুল আলম,সাব্বির আলম এবং আলাউদ্দিন টুটুল।

সভাপতি পদের প্রার্থী আব্দুল মান্নান কলেজ গেইট এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক। ছোটবেলা থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত মান্নান আবার বর্তমান কমিটির সাধারন সম্পাদকের ঘনিষ্ঠজনক হিসেবে পরিচিত। কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে বরাবরই সক্রিয় মান্নান সভাপতি হওয়ার দৌড়ে বেশ এগিয়েই আছেন। বর্তমান কমিটির বেশ কজন প্রভাবশালী নেতার আশীর্বাদও তার হয়েই কাজ করবে বলে ভাবছেন সবাই। সভাপতি পদের আরেক প্রার্থী ইমন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সালাউদ্দিন সুমনের ছোট ভাই মঈনুদ্দিন ইমনও এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন। এই পদে বর্তমান কমিটির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাপ্পার অনুসারি হিসেবে পরিচিত শরীফ হোসেন মুন্নাও গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী। তবে সভাপতি পদে সবাইকে ছাড়িয়ে আলোচনায় এখন দীপংকর দে। সাবেক ছাত্রদল নেতা দীপংকর বছর কয়েক আগে ছাত্রলীগে যোগ দেয় এবং ছাত্রলীগের বর্তমান কলেজ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ছাত্রলীগে যোগদানের আগে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে দেয়া তার সরকার বিরোধী,শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু বিরোধী নানান স্ট্যাটাস নিয়ে নানান সময় আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। রাঙামাটি ছাত্রলীগের জেলা সভাপতি আব্দুল জব্বারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত দীপংকরকে এবার সভাপতি প্রার্থী করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপ ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতাকারি মুরুব্বিরা,এমন অভিযোগ করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।’

সাধারন সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা সবাই কলেজের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র। এদের মধ্যে আলাউদ্দিন টুটুল সরাসরি সমর্থন পাচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল জব্বারের। তবে এই পদের চার প্রার্থীর মধ্যে বাকি তিনজনই বর্তমান কলেজ কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের অনুসারি হিসেবে পরিচিত। এই তিনজনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে বা কারা থাকবেন, সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে কাউন্সিল শুরু হওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত।

রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ জানিয়েছেন, আমাদের বর্তমান কমিটির ৭১ জনের প্রত্যক্ষ ভোটেই নতুন কমিটি গঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনে সম্মেলনের পর বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। আমরা প্রথমে চেষ্টা করব আলোচনার মাধ্যমে কমিটি করার,সেটা না হলে ভোটের মাধ্যমেই নির্বাচিত হবে নেতৃত্ব।’ জেলা ছাত্রলীগের কোন হস্তক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি গঠনতান্ত্রিক নিয়মে তারা যেকোন সিদ্ধান্ত নেয় আমরা সহযোগিতা করব,কিন্তু যদি গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে ব্যক্তি সিদ্ধান্তে কিছু করার চেষ্টা করে,তবে আমরা সেই চেষ্টা রুখে দেবো।’

এদিকে সভাপতি পদের প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা দীপংকর দে’কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। অনেকেই এই নেতার বিভিন্ন সময়ে আওয়ামীলীগ,শেখ হাসিনা এবং সরকারের বিরুদ্ধে দেয়া স্ট্যাটাস পোস্ট করে ব্যাপক সমালোচনা করছেন।

এই বিষয়ে রাঙামাটি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ জানিয়েছেন, আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির স্পষ্ট নির্দেশনা আছে যে, অন্য দল থেকে আসা কাউকে নির্বাহী পদে দায়িত্ব না দেয়ার। দীপংকরের বিষয়টি শুধু আমরাই নয়, আমাদের দলের শীর্ষ নেতারাও অবহিত আছেন। সুতরাং এই বিষয়টি ছাত্রলীগের কাউন্সিলররাও বিবেচনায় নিবেন। যে বা যারা আমাদের দল,দলীয় নেত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা,অপপ্রচার ও ঘৃণা ছড়িয়েছে তারা আমাদের সংগঠনের মূল নেতৃত্বে আসতে পারেনা।’

এই বিষয়ে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, ‘দীপংকর দে ছাত্রলীগে যোগদানের আগে ছাত্রদল করতো এবং আমাদের দলের বিরুদ্ধে,নেত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে, মিছিল করেছে এবং উস্কানি ছড়িয়েছে, এমন কিছু প্রমাণ আমার হাতেও এসেছে। আমরা অবশ্যই এসব সিরিয়াসলি দেখবো। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বহিরাগত এবং দলের প্রতি শ্রদ্ধা বা সম্মান নেই এমন কারো কাছে যাক,সেটা চাইনা।’

তবে অভিযোগের জবাবে সভাপতি প্রার্থী দীপংকর দে জানিয়েছেন, আমি ছাত্রদল করেছি এটা সত্য,পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরেই ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছি। এখন আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবেই কাজ করে যাচ্ছি। আমি আমার অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছি। ২০১৩ সালে ছাত্রদল ছেড়ে ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দীপংকর।’ বর্তমানে কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরেক সভাপতি প্রার্থী আব্দুল মান্নান বলেছেন, আমি ২০০৭ সাল থেকেই ছাত্রলীগ করছি,কলেজ ছাত্রলীগের বিগত দুটি কমিটিতেই বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছি। দলের সুখে দু:খে সবসময় আছি। আমার বিশ্বাস দলের নেতাকর্মীরা আমাকে ভালোবাসে এবং আমাকে নির্বাচিত করে কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে দেবে।’ আরেক প্রার্থী দীপংকর দে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর ছাত্রদল ছেড়ে ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছে অভিযোগ করে মান্নান বলেন, ‘অন্য দল থেকে আসা কেউ আমাদের সংগঠনের মূল পদে নেতৃত্ব দিলে সেটা আমাদের জন্যই লজ্জাষ্কর হবে।’

সাধারন সম্পাদক আলাউদ্দিন টুটুল জয়ের ব্যাপারে আশাবাদের কথা জানিয়ে বলেছেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বনরূপা,তবলছড়ি এলাকার নেতাকর্মীদের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। কলেজ কমিটির সভাপতি-সম্পাদক কাকে সমর্থন করছেন,সেটা তিনি নিশ্চিত জানেননা বলেই জানিয়েছেন।

৭১ সদস্য বিশিষ্ট রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিলো ২০১৫ সালের ২২ মে। সুলতান মাহমুদ বাপ্পাকে সভাপতি ও আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদকে সাধারন সম্পাদক করে গঠিত এই কমিটি নিজেদের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষ এবং নানান কাজের কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। ২০১৭ সালে পাল্টাপাল্টি হামলায় সাধারন সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদকে মারধরের ঘটনায় কলেজ ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়,এরপর প্রায় ১৮ মাস কলেজে সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিলো না ছাত্রলীগের। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে ১ বছরের জন্য কমিটি গঠিত হলেও এবার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চারবছরেও বেশি সময় পর।
শনিবার কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা। থাকবেন জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর,পৌর মেয়র ও যুবলীগ সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরীসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button