রাঙামাটি

সেই আট সাংবাদিককে বহিষ্কার, একজনকে অব্যাহতি

রাঙামাটির দুই প্রেসক্লাবের বিরোধ

নানান অভিযোগ করে সংগঠন ত্যাগ করা আট সাংবাদিককে বহিষ্কার ও পদত্যাগপত্র দেওয়া আরেকজনকে অব্যাহতি দিয়েছে নতুন রাঙামাটি প্রেসক্লাব।

সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সুশীল প্রসাদ চাকমা ও নন্দন দেবনাথের নেতৃত্বাধীন প্রেসক্লাব জানিয়েছে, বহিষ্কৃতরা হলেন মোহাম্মদ সোলায়মান,উচিংছা রাখাইন কায়েস,আলমগীর মানিক,নুরুল আমিন মানিক,মিলটন বাহাদুর,ইয়াছিন রানা সোহেল এবং শাহ আলম। অব্যাহতি দেয়া হয় ফজলুর রহমান রাজনকে।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন-‘বহিস্কৃত এবং অব্যাহতি প্রাপ্তরা সংগঠনটির রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ পরিষদের স্থায়ী সদস্যহ বর্তমান কার্যকরী কমিটির বিভিন্ন পদে ছিলেন। ইতিমধ্যে তারা রুবেল-আনেয়ারদের নেতৃত্বাধীন  প্রেসক্লাবে সদস্য পদ গ্রহণ করেছে। তাদের মধ্যে ফজলুর রহমান রাজন ছাড়া অপর আটজন অত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে প্রকাশ্য যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। অত্র সংগঠন পরিপন্থী এমন অপরাধের দায়ে এ আটজনকে বহিস্কার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে অত্র রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘তাদের সঙ্গে অত্র রাঙামাটি প্রেসক্লাবের আর কোনো রকম সম্পর্ক থাকবেনা এবং তাদের কোনো বিষয়ের দায় অত্র সংগঠন বহন করবে না।’

সোমবার রাঙামাটি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

প্রসঙ্গত,সদস্যপদ নিয়ে নানান টানাপোড়েনের মধ্যে সম্প্রতি রাঙামাটি প্রেসক্লাবকে চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি প্রেসক্লাব গঠন করা হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যক্রম চালানোর পর গত সপ্তাহের শেষান্তে সংগঠনটির ৬ জন সদস্যকে সাংগঠনিক শৃংখলাভঙ্গের অভিযোগে শোকজ করা হয়। এর দুইদিন পর এই ৬ জন সহ আরো দুইজন, মোট  ৮ সদস্য এক যুক্ত বিবৃতিতে নানান অভিযোগ এনে সংগঠন ত্যাগের ঘোষণা দেন।  একই দিন ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগপত্র জমা দেন আরেক সদস্য। ওই ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ওই ৯ জনকে সদস্য হিসেবে গ্রহণ করার কথা জানায় রাঙামাটির পুরনো প্রেসক্লাব। তার ৭২ ঘন্টা পর এবার ওই ৯ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিলো নতুন প্রেসক্লাব।

বর্তমানে রাঙামাটির পুরনো প্রেসক্লাবে ২৬ জন এবং নতুন প্রেসক্লাবে ২৯ জন সংবাদকর্মী নিজেদের সদস্য হিসেবে রেখেছেন বলে জানিয়েছে ক্লাব দুটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো।

এদিকে সদস্য নেয়া না নেয়া, পাল্টা প্রেসক্লাব গঠন, বহিষ্কার,অব্যাহতিসহ নানান ঘটনার জেরে রাঙামাটির স্থানীয় সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান কুতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। পাল্টাপাল্টি কদর্য  ও কুৎসিত ভাষায় একে অপরকে আক্রমন করে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে। সাংবাদিকদের নিজস্ব এই বিরোধ আর কাদাছোড়াছুড়ির ঘটনায় সমালোচনায় মুখর হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষও।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button