নীড় পাতা / ব্রেকিং / ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ যেনো আবর্জনার ভাগাড়!
parbatyachattagram

‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ যেনো আবর্জনার ভাগাড়!

যে বাঁধটি হবার কথা ছিল ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’; যেটি হতে পারত স্থানীয় মানুষের প্রাত: বা বৈকালীক আড্ডার প্রাণকেন্দ্র,জেলার বাহিরে থেকে যার টানে বেড়াতে আসার কথা ছিলো পর্যটকের,আড্ডা আর প্রাণচাঞ্চল্যতায় মুখর থাকার কথা ছিল সেই স্থানটি, যেখানে পাশাপাশি হাঁটার কথা ছিলো নবীন আর প্রবীণের অথবা যার সিঁড়িতে বসে আগামীর স্বপ্ন বুনার কথা ছিল কোনো শহুরে যুবাদের অথবা জীবন সায়াহ্নে এসে চাওয়া পাওয়ার হিসেব মেলানোর কথা কোনো প্রবীণ জুটির, নতুবা কোনো দুষ্টমিষ্টি কিশোর-কিশোরীর দৃষ্টি বিনিময়,নতুবা শুধু মাত্র প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে অথবা অবসাদ,ক্লান্তি দূর করতে মানুষের ভীড় জমানোর কথা ছিল যে বাঁধে। অথচ নিয়তির কি নির্মম পরিহান, শুধু মাত্র সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অযতেœ অবহেলায় পড়ে আছে রাঙামাটির শহরের সেই ফিসারী সংযোগ বাঁধটি। সাম্প্রতিক সময়ে এসে আরও বিপর্যয় ঘটেছে বাঁধটির। এ বাঁধ এখন এক শ্রেণির মানুষের কাছে ডাম্পিং স্টেশনে রূপান্তর হয়েছে। ইদানিং প্রায়শই দেখা যায়, ভর দুপুরে বা রাতের আধারে কতিপয় লোক আবর্জনা এনে ফেলছেন বাঁধের দু’ধারে!

কী নেই এ আবর্জনায়, কোমলপানীর মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, বাসা বাড়ি তৈরি শেষে আবর্জনা, ইমারতের ভাঙা অংশ এমন হাজারো বর্জ্য।
এ ব্যাপারে সচেতন কেউ কেউ বাধাও দিয়ে থাকেন, তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন রাঙামাটি পৌরসভার কনজারভেঞ্চি সুপার ভাইজার বিল্পব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘এই বাঁধ দিয়ে যাতায়াতের সময় মাঝে মধ্যেই দেখি, ট্রাক বা পিক-আপ ভরে আবর্জনা এনে এই বাধের পাশে ফেলা হচ্ছে। তখন তাদের বাধা দিয়, গাড়ি পৌরসভার নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে পাঠিয়ে দেই, কখন দেখি অগোচরে আবর্জনা ফেলে চলে গেছে। আমি একজন পৌরকর্মচারী হিসেবেই এদের বাধা দেই তেমনটি নয়, আমিও একজন নাগরিক এসব বলি। আমার নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করি।

তিনি আরও বলেন, মানুষ কতটা বিবেকহীন হলে এমন জঘণ্য কাজ করতে পারে এটা আমার মাথায় আসেনা। অথচ একটু সচেতন হলেই এ আবর্জনাগুলো পৌরসভার নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনেই ফেলতে পারে। কিন্তু তারা তা করবেন না এমনটাই ব্রত নিয়েছে। বিপ্লব আরও বলেন, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আমি কম করে হলেও ৫টি আবর্জনা ভর্তি পিক-আপ এখান থেকে ফেরত পাঠিয়েছি। আমি মনে করি, প্রশাসনের পাশাপাশি সকল নাগরিককেই সচেতন হতে হবে। নিজেও আবর্জনা ফেলবো না অন্য কেউকে ফেলতে দিবো না। তবে বর্তমানের মতো চলতে থাকলে অচিরেই এ বাঁধ আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হবে।

এ ব্যাপারে নির্ঝর সংঘের সভাপতি শংকর হোড় বলেন, এই বাঁধ রক্ষার জন্য আমরা মানববন্ধন করেছি, সমাজে বিভিন্নস্তরের মানুষ এসে সংহতি প্রকাশ করেছে। এখন দেখছি ঘটনা উল্টো হচ্ছে, বাঁধ রক্ষা তো দূরের কথা; এটি এখন শহরের অঘোষিত ডাম্পিং স্টেশনে হয়েছে। যে সকল অর্বাচিন এমন কাজ করছে তাদের সমাজিকভাবে বয়কট করতে হবে এবং প্রশাসনকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

এই বাঁধটিকে রাঙামাটির সিম্বল হিসেবে গড়ে তোলার আন্দোলনের অন্যতম কর্মী ও দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পাদক ফজলে এলাহী বলেন, এই শহরটি আমাদের সবার। এই শহরের সিম্বল অব রাঙামাটি হিসেবেই পরিচিত এই বাঁধটি। একে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। কিন্তু এটিকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং নজরদারি বাড়াতে হবে। যারা এইসব অপকর্ম করছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

এ ব্যাপারে রাঙামাটি পৌরসভা প্যানেল মেয়র ও কনজারভেন্সি কমিটির আহ্বায়ক কালায়ন চাকমা বলেন, আমরা স্বীকার করছি, আবর্জনা অপসারণ আমাদের কাজ, আমরা তা পালন করছি। কিন্তু পৌর নাগরিকগণও সচেতন হতে হবে। আমি বিশ্বাস করতে, পারছি না মানুষ কিভাবে এতটা বিবেকহীন হয়। এই বাঁধে আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দুষিত করছে পাশাপাশি বাঁধকে ঝুঁকিতে ফেলছে। আমরা জানতে পরেছি, এখন বাঁধে যে ইমারত ভাঙা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কারের কাজের উচ্ছিষ্ট। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এগুলো এখানে ফেলছে। তবে তার কোনো নাম্বার বা পরিচয় জানতে না পারায় তাকে অবহিত করতে পারছি না। আমরা তাকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছি। এ দায়িত্ব আমাদের কাধে দিলে হবে না, পুলিশ প্রশাসনকে সচেতন হতে হবে। কারণ রাতে বাঁধটি অরক্ষিত থাকে, তাখনি এ সব দুষ্কৃতিকারিরা আকর্জনা ফেলার মত অপকর্মটা করে। আমি পুলিশের সুদৃষ্টি কামনা করছি, তাহলেই হয়তো এই বাঁধের পরিবেশটা রক্ষা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে গতকাল মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ কে বা কার করছে, তাদের পরিচয়তো পৌরসভার খতিয়ে দেখা দরকার। আপনারাতো স্থানীয় মানুষ, জানেন কে বাড়ি তৈরি করছে, তারাই এই কাজ করছে। আমাকে তাদের নাম ঠিকানা দিন বাকি কাজটা আমি করবো। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ মেনে নেয়া যায় না।’
তবে দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম- এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘চট্টমেট্রো ন১১-২৮০৬ এবং চট্টমেট্রো ন১১-৪১৯৪’ এই দুটি নাম্বারধারি গাড়িতে করে এসব আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। চালকরা দাবি করেছে, এ বর্জ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নঢন বোর্ডের সংস্কার কাজের। এছাড়াও মো. আলমগীর হোসেন নামেও আরেক চালক গত ৭ নভেম্বর তারিখে কাঠের আসবাবপত্র তৈরির কারখানার বর্জ্য ফেলে যান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চুরির মামলা করে নিজেই ফেঁসে গেলেন বাদী !

রাঙামাটিতে মিথ্যা চুরির মামলায় বাদীর কারাদ- দিয়েছেন আদালত। জেলার কাউখালী থানার আর্দশগ্রাম নিবাসী আবুল কাসেমের …

Leave a Reply