পাহাড়ের অর্থনীতিরাঙামাটিলিড

সাফল্যের পথ দেখাচ্ছে ‘রেডলেডি’

আরমান খান, লংগদু ॥
ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে বেশ জনপ্রিয়। একসময় শুধু পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য একসময় বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করা হতো ফলটি। বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় লংগদু উপজেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হয়েছে পেঁপের। দুই বছর আগে নিজের এক একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল রেডলেডি জাতের পেঁপের চাষ করেন কৃষক মমিনুল হক। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় প্রথমবার চাষ করেই সাফল্যের দেখা পান তিনি। সব খরচ মিটিয়ে আয় করেন আট লাখ টাকার মতো। এরপর আর পেছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি উদ্যোমী এই কৃষককে। রেড লেডি চাষে কৃষক মমিনুলের সাফল্য দেখে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন পেঁপের এই নতুন আবাদে।

সম্প্রতি উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম ঘুরে দেখা মেলে সারি সারি রেডলেডি পেঁপে বাগানের। প্রতিটি বাগানেই আশানুরুপ ফলন এসেছে। রোগ বালাই কম হওয়ায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার নাই বললেই চলে। রেডলেডি জাতের পেঁপে সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ব্যাপক।

বগাচত্বর ইউনিয়নের রাঙ্গীপাড়া এলাকার কৃষক আমির হোসেন প্রথমবারের মতো নিজের এক একর জমিতে চাষ করেছেন রেডলেডি পেঁপের। তার বাগানের প্রায় আট শতাধিক গাছে ফলন এসেছে। আর দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই পেঁপে বিক্রি শুরু করবেন বলে আশা করছেন এই চাষি।

পেঁপে চাষি আমির হোসেন বলেন, আমার এক একর জমিতে এক হাজারের মতো রেডলেডি পেঁপের আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে আটশতাধিক গাছে ফলন এসেছে। আশা করছি ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার পেঁপে বিক্রি হবে। তবে লংগদু উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় পণ্য পরিবহনে খরচ এবং ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।

রাঙ্গীপাড়া গ্রামের পাশেই মহাজনপাড়া গ্রামের কৃষক শুক্কুর আলী তামাক চাষের পরিবর্তে করেছেন রেডলেডি পেঁপের আবাদ। তার বাগানের প্রায় ছয়শত পেঁপে গাছের প্রতিটিতে এসেছে পর্যাপ্ত ফলন। রেডলেডি চাষি মমিনুলের সাফল্য দেখেই নতুন এই আবাদে নেমেছেন তিনি।

কৃষক শুক্কুর আলী বলেন, আগে তামাকের চাষ করতাম। খরচ আর দামে কুলিয়ে উঠতে পারতাম না। বাজারে রেডলেডি জাতের এই পেঁপের চাহিদা অনেক। প্রতিকেজি পেঁপে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০/৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এখানে খরচ কম কিন্তু লাভ অনেক বেশি। তাই এই বিদেশী জাতের পেঁপে চাষে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখি।

সফল কৃষক মমিনুলে দেখানো পথে শুধু শুক্কুর আলী বা আমির হোসনে নয়। তার সাফল্য দেখে উপজেলার গুলশাখালী, ভাসান্যাদম, মাইনীমূখসহ সাতটি ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক আবাদ করেছেন তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল রেডলেডি জাতের পেঁপে। সম্ভাবনাময় জনপ্রিয় এই ফলের আবাদে কৃষকের দিন বদল হবে এবং পাহাড়ের কৃষিতে সমৃদ্ধির পথ দেখাবে বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে পাহাড়ি এ উপজেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেডলেডি জাতের পেঁপের আবাদ শুরু হয়েছে। এ বছর প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ করেছে চাষীরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, রেডলেডি জাতের পেঁপে সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। স্বল্প সময়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। রেডলেডি চাষে লাভ ভালো হওয়াতে অনেক কৃষক এর আবাদ শুরু করেছেন। উপজেলা কাপ্তাই লেকের ওপারে তিনটি ইউনিয়নে চাষাবাদ বেশি হয়। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পন্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি কৃষকদের সংগঠিত করে আধুনিক চাষাবাদ ও প্রযুক্তি সম্পর্কে চাষিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে। পাশাপাশি উপজেলাতে একটি হিমাগারের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button