বান্দরবানব্রেকিংলিড

সশস্ত্র জিঘাংসার বলি ৬ প্রাণ

সম্প্রীতির বান্দরবানে ভয়াবহ রক্তপাত

ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। এবার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের বিরোধে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় নেতাসহ বান্দরবানে গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টায় বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজার পাড়া এলাকায় এ হত্যাকান্ড ঘটে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা (৬৮), কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা চিংথোয়াইয়াং মারমা ওরফে ডেবিট (৫৬), বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি রতন তঞ্চঙ্গা (৫০), পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির সদস্য রবিন্দ্র চাকমা মিলন (৫০), রিপন ত্রিপুরা জয় (৩৫) ও জ্ঞান ত্রিপুরা দিপেন (৩২)।

নিহতদের মধ্যে শুধুমাত্র ডেবিট বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। অন্যরা খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, গুইমারা উপজেলার বাসিন্দা। আহতরা হলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) দুই সদস্য খাগড়াছড়ির বাসিন্দা নিরু চাকমা (৪২), বিদ্যুৎ ত্রিপুরা (৩৩) এবং অপরজন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শিক্ষিকার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। তবে কলেজ পড়ুয়া মেয়ের নাম পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) ১০/১২ জনের একটি গ্রæপ আশ্রয় নেয় বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজারপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে। খবর পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রæপের সশস্ত্র শাখার অস্ত্রধারী সদস্যদের একটি গ্রæপ তাদের উপর সকাল বেলায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ কয়েকজন নেতাসহ ছয় জনের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়ে আরও ৩ জন। আহতদের বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংগঠনের দুই সদস্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (চমেক) এবং স্কুল শিক্ষিকার কলেজ পড়–য়া মেয়েকে চকরিয়া মালুমঘাট ক্রিশ্চিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা জানিয়েছেন, ‘সাংগঠনিক কাজে বান্দরবান সফরে গিয়ে জেলা সভাপতি রতন তঞ্চঙ্গার বাড়িতে আশ্রয় নেয় দলের শীর্ষনেতারা। কিন্তু সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতিসহ ছয়জন নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও তিন জন আহত হয়েছে। সন্তু লারমার অগণতান্ত্রিক সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধে এবং নৃশংস হত্যাকান্ডে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে ভয়াবহ এই হত্যাকান্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সদর হাসপাতাল এলাকায়ও নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা এবং সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরীন আক্তার জানান, ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী দু’গ্রæপের সংঘর্ষে নিহত ৬ জনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। গুলিবিদ্ধ আহত ৩ জনের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ও ছাত্রীকে চকরিয়া মালুমঘাট ক্রিশ্চিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’

বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ক্যঅংপ্রæ মারমা বলেন, ‘জেলার বাহিরের সন্ত্রাসী একটি গ্রæপ গভীররাতে বাঘমারা এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল শুনেছি। খবর পেয়ে সকালে সশস্ত্র আরেকটি গ্রæপ হামলা চালায়। মঙ্গলবার সকালে সাড়ে ছয়টায় হামলার সময় আশ্রয় নেয়া গ্রæপটি নিরস্ত্র ছিলো বলে জেনেছি। ব্রাশফায়ারে বাহিরের গ্রæপের ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। এছাড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে দুজন রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং একজন ছাত্রী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button