খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

সরকারি রাবার গাছ কেটে বিক্রি হচ্ছে লাকড়ি হিসেবে

দীঘিনালায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সৃজিত সরকারি রাবার বাগান কেটে উজাড় করে বিক্রয় করা হচ্ছে লাকড়ি হিসেবে। বাগানের পর বাগান এভাবে উজাড় করা হলেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের জানা নেই বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের দাবি, এভাবে রাবার বাগান উজাড়ের ঘটনা নতুন নয়। লাকড়ি বিক্রির মৌসুমে প্রতি বছরই এভাবে সরকারি রাবার বাগান কেটে লাকড়ি হিসেবে বিক্রয় করা হয়। বিশেষ করে এ মৌসুমে তামাক চুল্লিতে জ্বালানি হিসেবে যাচ্ছে রাবার গাছের লাকড়ি। অন্যান্য গাছের চেয়ে রাবার গাছ দীর্ঘক্ষণ ধরে জ্বলে; তাই জ্বালানি হিসেবে অনেক সাশ্রয়ি। এ কারণেই রাবার গাছের লাকড়ির চাহিদাও বেশি; মূল্যও বেশি।

রাবার বাগান উজাড়ের সংবাদ পেয়ে বুধবার সরেজমিনে বোয়ালখালি ইউনিয়নের কড়ইতলি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা হয় রাবার বাগান ধ্বংসের চিত্র। সকাল ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, প্রায় ১০-১৫ একর জায়গার বাগান গত কয়েকদিনে কেটে সাবাড় করা হয়েছে। সেসব গাছের গোড়ালি থেকে এখনো ঝরছে রাবার কস। এর পরের অংশে নতুন করে কাটা হচ্ছে বাগানের রাবার গাছ। ৪জন শ্রমিক গাছ কাটায় ব্যস্ত থাকলেও তারা নিজেদের নাম পরিচয় দিতে রাজি হননি। তবে শ্রমিকরা জানান, তারা প্রতিজনে প্রতিদিন ৪০০টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। কাজ করাচ্ছেন সে এলাকার জনৈক শাক্ক্য চাকমা। শ্রমিকদের নিকট থেকে শাক্ক্য চাকমার মোবাইল নাম্বার নিয়ে তাঁকে ফোন দেওয়া হয়। রাবার গাছ বিক্রয়ের কথা প্রথম স্বীকার করেন শাক্ক্য। পরে প্রতি গাড়ি কত টাকায় বিক্রয় করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাবার বাগান ব্যবস্থাপনা ইউনিট সূত্রে জানা যায়, দীঘিনালার রাবার বাগান দেখভাল করছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের দীঘিনালা অফিসের সুভাষ চাকমা। ফোনে জানতে চাইলে সুভাষ চাকমা জানান, কড়ইতলি এলাকার সে বাগানটি কাটারুং ১নং প্লটের আওতাধীন। সে এলাকায় কোন ব্যাক্তিগত বাগান নেই; সকল বাগান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের। তবে রাবার বাগান কেটে লাকড়ি হিসেবে বিক্রয় করার বিষয়টি তাঁদের জানা নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের খাগড়াছড়ি কার্যালয়ের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন রাবার বাগান দীঘিনালা ইউনিটের ব্যবস্থাপকের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন জানান, গত বছরের ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। আর বর্তমানে বাগান কাটার বিষয়টি তিনি জানতেন না। বুধবার জানার পর অফিসের একজনকে বলা দেওয়া হয়েছে সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কিছু সমস্যার কারণে ভালভাবে আ্যকশানে যাওয়া যায় না।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button