ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘সমঝোতা’য় সমাধান

বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যর ঘটনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটিতে বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটি স্থানান্তরের কাজ করার সময় মারা যাওয়া তরুণ বাপ্পীর পরিবারের পাশে দাঁড়াবে বিদ্যুৎ বিভাগ,এমন আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছে এলাকাবাসি।
শুক্রবার দুপুরে শহরের দেবাশীষনগর এলাকায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় মোঃ বাপ্পী নামের এক শ্রমিক। তাকে প্রথমে রাঙামাটি সদর হাসপাতাল,পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে,সেখানে সন্ধ্যা সাতটায় মারা যান তিনি। সন্ধ্যায় তার লাশ রাঙামাটি এসে পৌছালে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি মিছিল বের করে এবং রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করে। এসময় বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বেশকিছু দাবিনামা পেশ করেন তারা।

পরে পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন তারা এবং শনিবার সকালে একইস্থানে মানববন্ধন ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। কিন্তু এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমঝোতা হওয়ায় সেই কর্মসূচী পালন করেনি তারা। তাদের দাবি মেনে নেয়ায় পিডিবির বিরুদ্ধে আয়োজিত কর্মসূচী স্থগিত করেছেন তারা।

নিহত বাপ্পী বিবাহিত এবং চারবছর বয়সী এক পুত্র সন্তানের পিতা এবং তার স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা।

শনিবার সকালে শহরের চম্পকনগরস্থ বিদ্যুৎ বিভাগের রেস্ট হাউজে অনুষ্ঠিত এক সমঝোতা সভায়, নিহত বাপ্পীর পিতা আব্দুল কুদ্দুসের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারসহ বিদ্যুৎ বিভাগের বৈঠকে এক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন,৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিমোহন চাকমা, ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামালউদ্দিন, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারন সম্পাদ শামসুল আলমসহ এলাকার মুরুব্বিরা। সকাল সাড়ে দশটা থেকে প্রায় দুইঘন্টাব্যাপি অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যাপক আলোচনার পর এই ‘সমঝোতা’হয় বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিতরা।

বৈঠকে নিহত বাপ্পীর চারবছরবয়সী পুত্র সন্তানের নামে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ফিক্সড ডিপোজিট,তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে সন্তান প্রসব হওয়া অবধি প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা ও সন্তান প্রসবের পর মাস্টাররোলে চাকুরি,নিহতের দাফন কাফনে সহায়তার জন্য ৫০ হাজার টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমঝোতা সভায় উপস্থিত ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবি মোহন চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত বাপ্পীর পিতা আব্দুল কুদ্দুছও এই সমঝোতায় নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন।

মোঃ হান্নান নামের নিহতের এক স্বজন জানিয়েছেন, ‘যেহেতু বাপ্পীর পরিবার খুবই গরীব,তাই মামলা করা এবং সেই মামলা চালিয়ে নেয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নাই। তাই আমরা কিছু দাবিনামা পেশ করেছি,পিডিবি কর্তৃপক্ষ সেটা মেনে নেয়ায় আমরা কর্মসূচী স্থগিত করেছি।’

কাউন্সিলর রবিমোহন চাকমা জানিয়েছেন, আমরা বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছি, এই ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার সময় যেনো সংশ্লিষ্টদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে যেনো এই ধরণের কোন দূর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানিয়েছেন,বিষয়টি নিছক দূর্ঘটনা। তবুও মানবিক কারণে আমরা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। তারা যা যা দাবি জানিয়েছে,আমরা সেইসব মেনে নিয়েছি।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button