পাহাড়ের রাজনীতিরাঙামাটিলিড

সভাপতির সাথে ‘বাকবিতন্ডায়’ পদ খোয়ালেন সাংগঠনিক সম্পাদক!

লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগ

অরণ্য ইমতিয়াজ
লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকারের ‘মুখে মুখে কথা বলা’ এবং ‘মারতে উদ্যাত হওয়ার’ অভিযোগে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদককে ‘অব্যাহতি’ দিয়েছে লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগ। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনা ঘটনার পর সোমবার সকালেই, চব্বিশ ঘন্টার আগেই ‘আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে’ এই পদক্ষেপকে ‘অসাংগঠনিক’ বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী আওয়ামীলীগ নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারক হোসেন।

রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাইনী ইউনিয়নের হাজাছড়া এলাকায় একটি সামাজিক বিচারে সংঘটিত তুচ্ছ ঘটনার জেরে উপজেলা আওয়ামীলীগের বিগত কমিটির ও বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেনকে ‘জরুরী সম্পাদকমন্ডলীর সভা’ ডেকে অব্যাহতি দেয় উপজেলা আওয়ামীলীগ।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু জানিয়েছেন, রবিবার একটি সামাজিক বিচারে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বারেক সরকারের সাথে সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন ‘ভালো আচরণ’ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন বারেক সরকার। এবং তাকে অপমানিত করা ও ‘মারতে চেয়েছেন’ বলে অভিযোগ উঠায় সোমবার সকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদকমন্ডলীর জরুরী সভায় তাকে ‘সাময়িক অব্যাহত ’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেই সিদ্ধান্তের সুপারিশ রেজুলেশন আকারে জেলায় পাঠানো হবে।’

মোশাররফের বক্তব্য না নিয়েই তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি সাংগঠনিক ভাবে ‘সঠিক’ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বাবু জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ে উপস্থিত একাধিক আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের একাধিক নেতা উপস্থিত থাকায় তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নেয়া হয়।’ তবে একই সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে জনপ্রতিনিধিরা ছাড়া আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যেনো কোন বিচার সালিশ না করে।’

অব্যাহতি পাওয়া আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, ‘ রবিবার সন্ধ্যায় হাজাছড়ার মোহাম্মদ আলীর চায়ের দোকানে একজনের জমি সংক্রান্ত একটি সামাজিক ইস্যুতে সালিশ বসে। সেখানে বারেক সরকারের সাথে আমিও উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু সব বিচারের মতো বারেক ভাই এখানেও কাউকে কথা বলতে দিচ্ছিলেন না। আমি একটি বিষয়ে ভিন্নমত জানালে বারেক সরকার আমাকে মা-বোন ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান শুরু করেন। এক পর্যায়ে রাগ সামলাতে না পেরে আমিও পাল্টা গালি দিই। এর চেয়ে বেশি কিছুই সেখানে হয় নাই,কারণ যে এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে সেটি চেয়ারম্যানের নিজের এলাকা এবং সেখানে উপস্থিত লোকজনও প্রায় সবাই তার মানুষ।’ ঘটনার পর আমি মন খারাপ করে বাসায় চলে আসি এবং এরপর উপজেলা সেক্রেটারি বাবু দা ( বাবুল দাশ বাবু) আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে আমি তাকে বিস্তারিত জানাই এবং ওনি আমাকে পরদিন উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য বলেন এবং সেখানেই বিষয়টির সুরাহা করে দেয়া হবে বলেও আশ^স্ত করেন। সেই মোতাবেক সোমবার সকালে দশটার দিকে আমি উপজেলা সদরে রেস্ট হাউজে গেলে চেয়ারম্যান আবার আমার দিকে তেড়ে আসেন এবং এই সময় তার মেয়ের জামাই সাদেক,কর্মচারী শহীদসহ ৪/৫ জন আমাকে ধাক্কা দিতে থাকে এবং বের করে দেয়। সেই সময় বাবু দা’র পরামর্শে আমি সভায় যোগ না দিয়ে বাড়ি ফিরে যাই। সেই সভায় কি সিদ্ধান্ত হয়েছে আমি জানিনা।’

‘তবে উপজেলা আওয়ামীলীগ আমাকে বহিষ্কার করতে পারেনা। তার বড়জোর জেলাকে সুপারিশ করতে পারে। আর আমার কোন বক্তব্য না শুনে যদি এক তরফ কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়,তবে বারেক সরকার লংগদু উপজেলায় যা যা করছে,যে ত্রাসের ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে,তা প্রমাণসহ সাংবাদিক সম্মেলন করে জনগণের সামনে হাজির করতে বাধ্য।’

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য বারেক সরকারের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি সচরাচর ফোন বন্ধই রাখেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, ‘ লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে এই রকম কোন ঘটনার বিষয় আমি কিছু এখনো জানিনা। যদি আমাকে জানানো হয়,তবে জেলা আওয়ামীলীগের অভিভাবক জননেতা দীপংকর তালুকদারের নির্দেশনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বরাবরই নানান ‘বিতর্কিত’ কর্মকান্ডের জন্য সমালোচিত লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের দুই দশকের সভাপতি বারেক সরকার। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ইতোমধ্যেই নানা ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি । প্রায়শই নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে গালাগাল, বিচার সালিশে গায়ে হাত তোলা,দলীয় কর্মসূচীতেও আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া, উপজেলা বিএনপির খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনার মিলাদে অংশ নেয়া, বিপুল অর্থবৈভব ও ভূ-সম্পত্তির কারণেও আলোচিত তিনি।  যদিও ইতোপূর্বে তিনি এসব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপপ্রচার,মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি’ বলেই মন্তব্য করেছিলেন পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে। তিনি বলেছিলেন, ‘নেতাকর্মীদের ঠিক রাখতে তিনি মাঝেমধ্যে শাসন করেন, এটা করতে হয় নানা কারণে।’  বিএনপির ‘খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনার মিলাদে অংশ নেয়ার ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছিলেন-‘ আমিতো বিএনপির ইফতারে গেছি,তারা ইফতারের আগে কি করেছে এবং তাদের ব্যানারে কি লেখা ছিলো,সেটা খেয়াল করি নাই। আর আমার উপজেলায় আমিতো বিএনপিকে নিয়ন্ত্রনে রাখছি। সরকার বিরোধী কিছু করতেও দিইনা।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button