ব্রেকিংরাঙামাটি

‘সন্তু লারমাদের ‘দ্বিচারিতা’ ও ‘হত্যার রাজনীতি’ ছাড়তে হবে’

বললেন বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা

বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র কেন্দ্রীয় সহসভাপতি,একজন কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা,বান্দরবান জেলা সভাপতিসহ ৬ নেতাকর্মীকে হত্যার জন্য সরাসরি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও সন্তু লারমাকে দায়ি করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র কেন্দ্রীয় নেতা সুদর্শন চাকমা।
আয়তনে দেশের সবচে বড় উপজেলা বাঘাইছড়িতে মাঝে একবার বিরতি দিয়ে দুইদফায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া প্রভাবশালী রাজনীতিক বলেন, সন্তু লারমারা একদিকে পাহাড়ে শান্তির কথা বলবেন আর অন্যদিকে পাখির মতো নিরিহ মানুষকে,ভিন্নমতাবলম্বীদের গুলি করে হত্যা করবেন,এটা স্পষ্ট দ্বিচারিতা। এই হত্যা-খুনের অপরাজনীতি,দ্বিচারিতা তাদের ছাড়তে হবে।’
সুদর্শন চাকমা দাবি করেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি,কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আরেকজন সফরসঙ্গী নিয়ে বান্দরবানে গিয়েছিলেন সাংগঠনিক সফরে। সকালে নাস্তা করার প্রস্তুতিকালেই সন্তু লারমার সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আকস্মিক সেখানে উপস্থিত হয়ে আমাদের ছয় নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা সবাই নিরীহ রাজনৈতিক কর্মী। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও আদর্শিক ভিন্নতার কারণে এদের মারা হলো।’
এই হামলাকে ‘কাপুরুষিত ও বর্বরোচিত’ মন্তব্য করে সুদর্শন চাকমা বলেন, সন্তু লারমাদের পায়ের নীচে আর মাটি নেই। তাই গনভিত্তি হারিয়ে এখন খুনের রাজনীতি বেছে নিয়েছে।’
এই জনপ্রতিনিধি বলেন, আমরা এই হামলার সাথে জড়িত সবার গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছি সরকারের কাছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার সকালে সাড়ে ৬টায় বান্দরবান সদরের রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজার পাড়া এলাকায় ব্রাশফায়ারে জেএসএস (এমএন লারমা০’র ৬ জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা (৬৮), কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা চিংথোয়াইয়াং মারমা ডেবিড (৫৬), বান্দরবান জেলা সভাপতি রতন তঞ্চঙ্গা (৫০), যুব সমিতির সদস্য রবিন্দ্র চাকমা মিলন (৫০), রিপন ত্রিপুরা জয় (৩৫), জ্ঞান ত্রিপুরা দিপেন (৩২)। নিহতদের মধ্যে শুধুমাত্র ডেবিট বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বাসিন্দার। অন্যরা সবাই খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, গুইমারা উপজেলার বাসিন্দার। একই ঘটনায় আহতরা হলেন- জেএসএস সংস্কার সংগঠনের সদস্য খাগড়াছড়ির বাসিন্দার নিরু চাকমা (৪২), বিদ্যুৎ ত্রিপুরা (৩৩) দুজন এবং অপরজন বাঘমারার বাসিন্দার কলেজ ছাত্রী।
এই ঘটনার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র পক্ষ থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ি করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস’র ১০ নেতার নাম উলে­খ করে অজ্ঞাত’সহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাতে সোয়া আটটায় সদর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন সংগঠনের বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সিক্সমার্ডারের ঘটনায় সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি উবামং মারমা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দশ জনের নাম উলে­খিত এবং অজ্ঞাত দশ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের স্বার্থে এই মুহুর্তে আসামীদের নাম প্রকাশ করা যাবেনা।
মামলার বাদী সেক্রেটারি উবামং মারমা জানান, সংগঠনের নির্দেশনায় দলীয় নেতাদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছি। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের ক্যাডাররা জড়িত। তাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button