করোনাভাইরাস আপডেটরাঙামাটি

সনাতন মৃতদেহ সৎকারে কমিটি গঠন রাঙামাটিতে

মহামারী করোনাকালে রাঙামাটিতে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাহ ক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি রাঙামাটির জগদ্ধাত্রী মন্দিরে রাঙামাটির সনাতনী সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় এই কমিটি গঠন করা হয়।

সৎকার সমন্বয় কমিটিতে লিটন দেব আহবায়ক ও শংকর হোড়’কে সদস্য সচিব করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন খোকন কুমার দে, রিপন ঘোষ, বটন কুমার ধর, কিশোর চৌধুরী, বিমল চক্রবর্তী, ঝিনুক ত্রিপুরা, অজিত শীল, সৈকত দাশ রানা, উজ্জ্বল চৌধুরী, রাজু শীল, সুব্রত দে, রকি দেবনাথ ও কাকন দে। এছাড়া মৃতদেহ সৎকারের জন্য কৃষ্ণ নন্দীকে আহŸায়ক করে আরো একটি সৎকার কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই কমিটির সম্মিলিত প্রয়াতে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিকে দাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাঙামাটিতে করোনায় মৃতদেহ সৎকার সমন্বয় কমিটির প্রথম সভায় আসামবস্তি হিন্দু ও বৌদ্ধ মহাশ্মশানে করোনা উপসর্গ বা করোনায় মারা যাওয়া সনাতন সম্প্রদায়ের মৃতদেহ সৎকারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার পাশাপাশি সেখানে করোনায় মারা যাওয়া দেহগুলো সৎকারের জন্য টিনসেড ঘরসহ একটি লোহার চুল্লি বসানোও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাছাড়াও এই সমন্বয় কমিটি করোনায় মৃত্যুবরণকারী অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনকে দাফন কিংবা দাহ কার্যে সহযোগিতার জন্য তাদের ডাকা হলে সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির নেতারা।

সৎকার সমন্বয় কমিটির আহŸায়ক লিটন দেব জানিয়েছেন, আমরা চাই করোনায় কেউ মারা না যাক। তারপরও কেউ যদি মারা গিয়ে থাকে, তাকে সৎকারের যাবতীয় ব্যবস্থা আমরা করবো। পাশাপাশি সনাতন সম্প্রদায়ের নয় এমন কেউ মারা গেলে সহযোগিতা চাওয়া হলে তাকেও আমরা সাধ্যমত সহযোগিতা করবো। সৎকার কমিটি ও সমন্বয় কমিটি যৌথ ব্যবস্থাপনায় আমরা করোনায় মারা যাওয়া মৃতদেহগুলো সৎকার করবো। মারা যাওয়া পরিবারগুলো নিজেকে অসহায় ভাবার কিছু নাই, আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে আমরা সৎকারের সকল ব্যবস্থা করে দিব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাহ ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগও করেছি। তারা যখন আমাদের ডাকবে তখনই সৎকার কমিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে।

আহŸায়ক কমিটির সদস্য রাজু শীল জানিয়েছেন, আশীষ দাশ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর দাহ নিয়ে কিছুটা সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত গাউছিয়া কমিটির কয়েকজন সদস্যের সহযোগিতায় কিছু হিন্দু ও বড়–য়া যুবক আশীষ দাশের দাহ সম্পন্ন করে। বিষয়টি সামনে আসায় ভবিষ্যতে করোনায় মৃতদেহ দাহ নিয়ে যাতে আর জটিলতা সৃষ্টি না হয়, তার জন্য রাঙামাটির সনাতনী সমাজের বিভিন্ন নেতাদের নিয়ে একটি সভার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। তিনি বলেন, কারো করোনায় মৃতদেহ দাহ করার জন্য ০১৮৬৬৯৮০৩৫৯ ও ০১৮২৭১৮৫৮৪১ এই নাম্বারে যোগাযোগ করলে তাঁর মৃতদেহ দাহ করার জন্য কমিটি উদ্যোগ নিবে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর(এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ জানিয়েছেন, করোনায় মারা যাওয়া সনাতন সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের দাহ প্রক্রিয়া সম্পাদন কাজটি সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি সৎকার কমিটি স্থানীয়রা গঠন করে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই করোনার এই সময়ে সৎকার কাজ সম্পাদনে এগিয়ে আসার জন্য। তিনি আরো বলেন, আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কথা বলেছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে করোনায় বা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে সৎকার করা হবে, সে বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য। স্বাস্থ্যবিভাগ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছে, প্রস্তুতি শেষে তারা আমাদের জানালেই আমরা প্রশিক্ষণের আয়োজন করবো।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button