নীড় পাতা / ব্রেকিং / সনাকের সাথে বসতে চায় না জেলা পরিষদ!
parbatyachattagram

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় জানালেন সনাক সভাপতি

সনাকের সাথে বসতে চায় না জেলা পরিষদ!

রাঙামাটিতে সাংবাদিকদের সাথে সনাকের মতবিনিময় সভায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের দুইটি প্রকল্প, রাঙামাটি আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসের সেবা কার্যক্রম ও রাঙামাটির পৌরসভার ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, রাঙামাটি আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসে সম্প্রতি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। অভিযানে দুদক অনিয়মের সত্যতাও পায়। কিন্তু কিছুদিন তা ঠিকঠাকভাবে চললেও এখন ফের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সেবাগ্রাহীদের। অন্যদিকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থ লোপাট করা হচ্ছে। উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছেন বেশির ধনী ঘরের শিক্ষার্থীরাই।’

তারা বলেন, ‘দশ বছর আগেও আমরা রাঙামাটিতে শিক্ষক সংকটের কথা শুনেছি। এখন এই দশ বছর পরও একই কথা শুনতে হচ্ছে। এখানে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

সভায় জেলা সনাকের সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাথে বসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের সাথে বসতে চাচ্ছেন না।’

বুধবার সকালে রাঙামাটি জেলা সনাক কার্যালয়ে ‘দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) রাঙামাটি জেলার সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, জেলা সনাক সহ-সভাপতি এমএস মহিউদ্দিন, সনাক সদস্য ও চাকমা রাজ পরিবারের সন্তান চাঁদ রায়, সনাক সদস্য মুজিবল হক বুলবুল, এঞ্জেলা দেওয়ান, হরি কিশোর চাকমা, তৈরিকা চাকমা রনজিৎ নাথ। মতবিনিময় সভায় জেলা টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার বেনজিন চাকমার সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন- দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক একেএম মকছুদ আহম্মেদ, সাংবাদিক ফাতেমা জান্নাত মুমু, মো: সোলায়মানসহ আরো অনেকেই।

স্থানীয় দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক একেএম মকছুদ আহম্মেদ বলেন, ‘রাঙামাটির সরকারি অফিসগুলোতে দুর্নীতির বাসা বেঁধেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দুইটি প্রকল্পের নামে তারা কোটি কোটি টাকা লোপাট করছে। অন্যদিকে পৌর এলাকার অবস্থাও বেহাল। গত বছর থেকে ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ শুরু হলেও এই কাজে অনিয়মের প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া এখানকার স্থানীয় সাংসদ বিভিন্ন ফোরামে বলেন, রাঙামাটির কোনো জায়গা নাকি উন্নয়ন বঞ্চিত নয়। এক্ষেত্রে আমি বলবো, এখনো অনেক এলাকা উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে।’

সনাক সদস্য মুজিবল হক বুলবুল বলেন, ‘দুই বছর আগে দরপত্র আহ্বান করা হলেও রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। অথচ নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হবে। অন্যদিকে পর্যটন শহরে রাঙামাটি পৌর এলাকার অবস্থাও বেহাল। সড়কের পাশে যেমন-তেমন ভাবে জিনিসপত্র রাখা হয়েছে। বিশেষ করে রাতে বেলায় শহরের বেশিরভাগ স্ট্রিটলাইট জ¦লছে না।’

সনাক সদস্য গৈরিকা চাকমা বলেন, ‘মানুষ আগে থেকে অনেক সচেতন হচ্ছে, কোনটা দুর্নীতি কোনটা অনিয়ম সেটা বুঝতে পারছে। আগে মানুষ পার্সপোর্ট অফিসে নিদ্বিধায় টাকা দিত, এখন সেটা কমই করে। তাই বলা হয়, জনসচেতনতায় এক ধরণের দুর্নীতি বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আপনার লক্ষ্য করলেই দেখবেন, রাঙামাটি পর্যটন শহর হওয়ার পর শহরের ফুটপাতের বেহাল দশা। ফুটপাতে অবৈধভাবে অস্থায়ী টঙ দোকান বসেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’

টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার বেনজিন চাকমা বলেন, ‘তথ্য অধিকার আইনে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। তাই প্রতিটি সরকারি অফিসে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে দাবি জানায় টিআইবি। কিন্তু কারোই তথ্য কর্মকর্তা নেই।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি’র) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৪ বছর মেয়াদী ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান …

Leave a Reply