করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

সংশয়ে শিক্ষা, ক্লাস পরীক্ষা কবে হবে জানেনা কেউই

কোভিড ১৯ বা করোনা আতংকে স্তব্ধ সারা বিশ্ব। করোনার এমন বাস্তবতায়, বৈশ্বিক অর্থনীতি যেমন মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে ঠিক তেমনই ব্যহত হচ্ছে  শিক্ষা কার্যক্রম। সারা বিশ্বের মত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে রাঙামাটিতেও। স্কুল বন্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা বাসায় বন্দী। বিদ্যালয়ের পাঠদান কবে শুরু হবে কবে তাও কেউ জানে না।

এমন অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক পড়ালেখা নিয়ে যেমন চিন্তায় অাছে অাভিবাবক তেমনই ছাত্ররাও। বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ ও প্রাইভেটও বন্ধ তাই নির্দিষ্ট সিলেবাস শেষ করা ও পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নিয়ে দু:চিন্তায় রয়েছে সবাই। সরকার অবশ্য সংসদ টিভির মাধ্যমে ক্লাস চালু করলেও তা নিয়ে আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অন্য দিকে কিছু বিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস পরিক্ষা নিচ্ছে।

এসব পদেক্ষেপ কিছু স্বস্তি দিলেও পাঠদানের অভাব অনুভব করছে সবাই। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরিক্ষার সময় চলে আসলেও স্কুল বন্ধ থাকায় পরিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কবে ক্লাস পরিক্ষা হবে তাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয় বন্ধ নিয়ে নবম শ্রেনির ছাত্র মো: লাভলু ইসলাম জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় আমাদের পড়ালেখায় অনেক সমস্যা হচ্ছে, ক্লাস করতে পারছি না, প্রাইভেট বন্ধ, কিভাবে সিলেবাস শেষ করবো বুঝতে পারছি না।

তানিয়া আক্তার নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস চালু থাকলে আমাদের জন্য পড়ালেখা অনেক সহজ হতো। কিছু করার নাই বাসায় বসে যতটুকু সম্ভব ততটুকু পড়ালেখা করার চেষ্টা করছি।

অভিবাবক খোকন কুমার দে বলেন, এই বন্ধের মধ্যে তুলনামূলক বাচ্চারা লেখাপড়া তেমন একটা করছে না। কিন্তু লেকার্স  স্কুল  ভিন্ন আঙ্গিকে অনলাইনে পাঠ দান দিয়ে যাচ্ছে এবং সেই সিলেবাসের ভিত্তিতে পরীক্ষা ও নিচ্ছেন। পাশাপাশি শ্রেণী শিক্ষকরা খোঁজ নিচ্ছেন, বাচ্চারা  সিলেবাসগুলো দেখছে কিনা। কোন সমস্যা হলে ওই বিষয়ের শিক্ষককে ফোন করে জেনে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এটি অত্যন্ত ভালো দিক মনে করছি।

আরেক অভিবাবক আব্দুল কাদের বলেন, ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা নিয়ে চিন্তায় আছি সব বন্ধ, কি হবে বুঝতে পারছি না, ক্লাস বা প্রাইভেট না হলে শতভাগ ভালো ফলাফল আশা করা যায় না।

রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনতোষ মল্লিক বলেন, পৃথিবীতে এখন যে মহামারী চলছে এ সময়ে জীবন বাঁচিয়ে রাখাটা বর্তমানে মুখ্য। এমন অবস্থা কখন স্বাভাবিক হবে তার কোন ঠিক নাই, তারপরও ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেরা নিজ নিজ বাড়িতে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে হবে। বিদ্যালয় থেকে প্রদানকৃত সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশুনা করা এবং যদি কোন বিষয় সমস্যা দেখা দেয় তাহলে শিক্ষকদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার আহবান জানান তিনি, যাতে পরিবর্তিত সময়ে যদি পরীক্ষা হয়, সে সময়ে যাতে বেশী সমস্যা না হয়।

রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল কান্তি তালুকদার বলেন, করোনা মহামারীতে সরকার যেমন নির্দেশনা দিচ্ছে সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’ তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘ এই মহামারীতে যাতে কোন ছাত্র বাসা থেকে বের না হয়, মনযোগ দিয়ে পড়ালেখা করে, যেহেতু বাহির হলে করোনা সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত বাসায় বাড়ির কাজ করা, সংসদ টিভি দেখে সময় পার করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সংকটের বিষয়টি মাথায় নিয়ে সরকারের শিক্ষা মন্ত্রনালয় সংসদ টিভিতে চালু করে শিক্ষা কার্যক্রম। নির্দিষ্ট রুটিন ও সিলেবাস অনুসারে শুরু হয়েছে পাঠ কার্যক্রমও। স্কুল থেকে দৃশ্য দূর থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে সরকারের এই কার্যক্রম। (সংসদ টিভিতে আগামী ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল এর ক্লাস রুটিন নীচে দেয়া হলো)

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button