ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

সংবিধান ও আইনের বাইরে ভূমি কমিশনের কোনও কাজ হবে না: কমিশন চেয়ারম্যান

সংবিধান ও আইনের বাইরে ভূমি কমিশনের কিছুই করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন পার্বত্য ভূমি বিরোধ কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হক। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেছি, তাদের দাবীগুলো লিখিত আকারে আমার কাছে দিয়েছে আমি সেগুলো সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠিয়ে দিব। তিনি আরো বলেন, আইনটি ২০০১ সালে সংসদে পাশ করা হয়েছিল এটি সংশোধন করতে হলে সংসদে পাশ করা লাগবে। যা করার সব সরকারই নির্ধারণ করে দেবে, সে অনুসারেই আমরা কাজ করবো। সরকার আইন বদল না করলে কমিশনের কিছুই করার থাকবে না। সরকার আইন করে আমাদের হাতে বুঝিয়ে দিলে আমরা সেভাবে কাজ করবো।

সোমবার সকালে ভূমি কমিশনের সভা শেষে তিনি একথা বলেন। এর আগে সকালে পার্বত্য বাঙালিভিত্তিক সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের বিরোধিতা আর ঘেরাওয়ের মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের একঘন্টা পর রাঙামাটিতে শুরু হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা। সোমবার সকাল দশটায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত কমিশনের জেলা কার্যালয়েই এই পূর্বনির্ধারিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিন্তু সকাল আটটা থেকে পার্বত্য বাঙালিভিত্তিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতাকর্মীরা সভাস্থল রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে ঘেরাও করে রাখে। প্রধান সড়কটি অবরুদ্ধ থাকায় এসময় রাঙামাটি শহরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঘেরাওয়ের মধ্যেই কমিশন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হক এসে নাগরিক পরিষদের বাধার মুখে পড়েন। এসময় তিনি ঘেরাওকারিদের সাথে পৃথকভাবে কথা বলে তাদের দাবিদাওয়া সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া এবং দেশের সংবিধান ও আইনের বাইরে কিছু না করার ঘোষণা দিলে ঘেরাওকারিরা অবরোধ তুলে নিয়ে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দিকে চলে যায় এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেন।

ঘেরাও তুলে নেয়ার পর নির্ধারিত সময়ের ১ ঘন্টা পর বেলা এগারোটায় আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা, কমিশনের সদস্য তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বোমাং সার্কেল চিফ উ চ প্রু ও চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় উপস্থিত হলে শুরু হয় কমিশনের নির্ধারিত বৈঠক।

পার্বত্য বাঙালিভিত্তিক সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. সোলাইমান বলেন, ‘আমরা কমিশন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হক এর সাথে দেখা করে আমরা আমাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে দিয়েছি। আমরা বলেছি আই সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত যাতে আর কোন সভা ও সিন্ধান্ত নেয়া না হয়। যদি কমিশন আইন সংশোধন না করে কোন সভা করতে চায় আমরা তা হতে দিব না।

বোমাং সার্কেল চিফ উ চ প্রু বলেন, ‘চিন্তার কোন কারন নেই, পার্বত্য অঞ্চলে যারা বাস করেন তাদের বাস্তু হারা ও ভয়ের হওয়ার কোন কারন নেই।

আগামী সভা ৩ ফেব্রুয়ারি বান্দবানে ভূমি কমিশনের পরবর্তী সভা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button