পার্বত্য উন্নয়নব্রেকিংরাঙামাটিলিড

সংকুচিত হচ্ছে রিজার্ভবাজারে প্রবেশের সড়ক !

রাঙামাটি সড়ক বিভাগ তাদের প্রতিশ্রুত কথা থেকে সরে এসে নিজেদের পরিকল্পনামতোই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় অনিশ্চিত সংকটে পড়তে যাচ্ছে রাঙামাটির বাণিজ্যিক কেন্দ্র রিজার্ভবাজার। রিজার্ভবাজারে প্রবেশ মুখেই রাঙামাটি পার্ক ও সওজ’র কার্যালয়ের মধ্যবর্তী সরু সড়কটিকে আরো সরু করছে সড়ক বিভাগ এমন অভিযোগে উত্তাল ফেসবুক। কোভিড-১৯ এর এই সংকটকালেই প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করতেই সড়কটি রিজার্ভবাজারবাসির প্রত্যাশানুসারে প্রশস্ততো করা হচ্ছেই না বরং সংকুচিত করা হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে রাঙামাটির বিভিন্ন মহলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
কন্তু সওজের দাবি, ভুলে কয়েকটি গর্ত পর্বের সীমানা প্রাচীরের বাইরে চলে এসেছিল, সড়কের জন্য জায়গা ছাড়া হবে, তবে তা মাত্র তিনফুট জায়গা।
শহরের বাণিজ্যিক এলাকাখ্যাত রিজার্ভ বাজারে ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত গাড়ি ছাড়াও জেলার চট্টগ্রাম মুখি পরিবহন পাহাড়িকা সার্ভিস, বিআরটিসি বাস সার্ভিস ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেড়ে যাওয়া অন্তত ৫টি পরিবহন সার্ভিসের প্রধান কাউন্টার রয়েছে এবং এই জায়গা থেকে প্রতিদিন সকাল বিকাল গাড়ি ছাড়া হয়। পাশাপাশি রিজার্ভ বাজার এলাকাই অবস্থিত জেলা শহরের সাথে উপজেলাগুলোর নদীপথে যোগাযোগে একমাত্র জেটিঘাট। এমন পরিস্থিতিতে জেলার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহণ সিএনজি চালিত অটোরিক্সাসহ প্রতিদিন রাঙামাটি জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে শতশত পরিবহণ চলাচল করে। কিন্তু সড়কটিতে একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলে আরেকটি গাড়ি পাড় হতে পারেনা। তার উপর সড়কটির উপর দিয়ে চলাচল করা কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও পথচারিদের জন্য বাম বা ডান কোন পাশেই নেই ফুটপাত।
যার কারণে দীর্ঘদিন থেকে রাঙামাটির সর্বসাধারণের দাবি ছিল সড়কটির জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয়ের সীমানা প্রচীর ভেঙ্গে কিছু জায়গা সড়কটির জন্য ছেড়ে দেয়া হোক। এই বিষয় নিয়ে একাধিকবার জেলার গুরুত্বপূর্ণ সভায়ও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। রাঙামাটি পার্ক সংক্রান্ত সভায় সওজ’র প্রাক্তন প্রকৌশলীরা অন্তত ৫ ফুট জায়গা ছাড়ার প্রতিশ্রæতি দিলেও নানান দীর্ঘসূত্রিতায়ও সওজ সড়কটি প্রশস্ত করার কাজ করেনি। সওজ জানিয়েছিলো,যখনই সীমানা প্রাচীর নতুন করে দেয়া হবে তখনই তারা নিজেদের দেয়াল ৫ ফুট সড়িয়ে নেবেন।
করোনা পরিস্থিতির সাধারণ ছুটির মধ্যে জেলা শহরটির বিভিন্ন সড়কে কার্পেটিং এর কাজ শেষ করে নিচ্ছে বিভাগটি। তার ফাঁকে তৈরি করা হচ্ছে সওজের জেলা কার্যালয়ের সামনে সীমানা প্রাচীরে ভেঙ্গে পুননির্মাণ কাজ। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে কয়েকটি পিলারের জন্য গর্ত করা হয়েছে পূর্বের সীমানা প্রাচীরের বাইরের রাস্তার পাশের অংশে। এতে রাস্তা বর্ধিত তো হচ্ছেইনা বরং সংকুচিত হওয়ার শংকায় আতংকিত হয়ে উঠে এলাকাবাসী। সমালোচনার ঝড় উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এমন পরিস্থিতে সওজের পক্ষ থেকে জানানো হয় ভুল করে গর্ত রাস্তার অংশে চলে গেছে। তা তিনফুট ভিতরে আনা হবে।
রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে জানান, গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রেখে, পথচারিরা ভালোভাবে চলাচল করতে যতটুকু জায়গার প্রয়োজন ততটুকু জায়গা সড়কটির জন্য সওজকে ছাড়তে বলবো। এটি রাঙামাটির অনেকদিনেে দাবি, ইতিপূর্বে অনেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফান্ডের কথা বলে রাস্তা প্রশস্তের কাজটি করেনি। এখন যখন সুযোগ এসেছে ভবিষ্যৎতের কথা বিবেচনা করে রাস্তাটি প্রশস্তের আহবান জানাবো। পাশাপাশি রিজার্ভবাজার প্রবেশের নীচের রাস্তাটিও প্রয়োজনীয় সংস্কার করে গাড়ি চলাচলের জন্য উপযুক্ত করে উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি সওজের কাছে।
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানান, জনগণের দাবি ও সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সওজ তার সর্বোচ্চ যতটুকু ছাড়া সম্ভব হয়, ততটুকুই জায়গা ছাড়–ক সেটা আমি চাই। পাশাপাশি আগে নিচের যে রাস্তাটি দিয়ে গাড়ি চলাচল করতো সে রাস্তাটি দ্রæত সময়ের মধ্যে যাতে ভারি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে সওজ। এতে করে করে ভানি যানচলাচল সে সড়কে চলে গেলে আমি মনে করি এই সড়কটির উপর চাপ কমবে।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য হাজী মো. মুছা মাতব্বর বলেন, প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের সাথে সমন্বয় রেখে একই সমানে সওজের সীমানা প্রাচীর করা হলে, আমার মনে হয় কোন সমস্যা থাকবে না। তাদের প্রতি অনুরোধ করব,রিজার্ভবাজারবাসির আবেগ অনুভূতির বিষয়টির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহি আরেফিন জানান, আমরা সড়কটি বড় করার জন্য বর্তমান সীমানা থেকে নতুন তৈরি সীমানা প্রাচীর তিনফুট ভিতরে নিয়েছি। কয়েকটি গর্ত ভুলে সামনে চলে আসাতে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, সেটি আমরা ঠিক করে দিচ্ছি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close