ব্রেকিংরাঙামাটি

শেষ সম্বল বলতে রইল না কিছুই বিশ্বজিত আর অনিমেষের

‘প্রথমে দোকান, তারপর ঘরটাও জ্বালিয়ে দিলো, শেষ সম্বল বলতে কিছুই রইল না । পালিয়ে কোনো মতে জীবন রক্ষা করতে পেরেছি । তবে খেয়ে পড়ে বাঁচার মতো কিছুই আর নেই।’এভাবে অশ্রুশিক্ত নয়নে কথাগুলো বললেন অনিমেষ চাকমা ও বিশ্বজিত চাকমা ।
দুজনেই পাশাপাশি দুটি দোকান চালাতেন লংগদু বালিকা বিদ্যালয় গেটে । অনিমেষ চাকমার খাবারের দোকান আর বিশ্বজিতের চায়ের দোকান । দোকানের রোজগার থেকেই সংসার চলতো তাদের ।
ঘটনার দিন অনিমেষ চাকমা সকালে রান্না করে পরিবার সহ দোকানেই খাওয়া দাওয়া করছিলেন। মিছিল থেকে অন্যান্য দোকানে আগুন দেয়ার খবর শুনে নিজের দোকান বন্ধ করে কোনো মতে পালিয়ে জীবন রক্ষা করছেন । অনিমেষের দুই ছেলে মেয়ে । ওরা স্থানীয় বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করে । আগুনে পুড়েছে ছেলে মেয়েদের পোশাক বই খাতা সব । কি করে এ অবস্থার মোকাবেলা করবেন ভেবে পাচ্ছেন না । বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে ঋন নিয়ে ঘর করেছিলেন, দোকানে ফ্রিজ কিনেছিলেন । এখন কিভাবে এ ঋণ শোধ করবেন আর কি করে ঘর তৈরী করবেন কিছুই ভাবতে পারছেন না । বসত ঘর ও দোকান মিলে তার দশ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন ।
বিশ্বজিত চাকমা ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন। আগুন লাগার খবর শুনে বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে বাড়ীর পেছনে ঝিরিতে (পাহাড়ী ঝর্ণার পথ) আশ্রয় নিয়েছেন । দেখেছেন কে বা কারা তার ঘরে আগুন দিয়েছে । তাদের নাম পুলিশের কাছে বলেছেনও তিনি । তার দোকানেও ফ্রিজ ছিলো ,গ্যাস সিলিন্ডার চুলাসহ অনেক মালামাল ছিলো । কিছুই রক্ষা করতে পারেনি । এক বছরের ছোট শিশুকে নিয়ে স্ত্রীকে পাঠিয়ে দিয়েছেন শশুর বাড়ি খাগড়াছড়িতে। নিজে আশ্রয় নিয়েছেন তিনটিলা বনবিহারে । দোকান আর ঘর মিলে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন ।
উল্লেখ্য গত ১জুন রাঙামাটির লংগদু উপজেলার যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২জুন সকালে প্রতিবাদ মিছিল থেকে স্থানীয় পাহাড়ীদের দোকান,বসত ঘরসহ চারটি গ্রামের দু’শতাধিক বাড়ীঘরে আগুন দেয়া হয় ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

  1. বাংলার মানুষ কতটা বোকা তা এটাতে বোজা যাায় জদি বাঙ্গালিতে আগুন দিত তাহলে কিছু মানুষ তো খতি হতো কিনু কারো কোন কিছু হয়নি কোন পষুরও আচর লাগেনি অথচ বাঙ্গালিরা না কি আগুন দিছে দালালের কারনে আজ এই অবস্থা

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: