ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

শেষটা ভালো হলো না আওয়ামীলীগের

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির দশ উপজেলার নয়টিতেই শান্তিপূর্ণ সম্মেলন শেষ করেও শেষ উপজেলায় ঠিকই আটকে গেলো আওয়ামীলীগের উপজেলা সম্মেলন। বুধবার বরকল উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে কাউন্সিল ছাড়াই,হয়নি কমিটি ঘোষণাও। পুরো জেলায় ঘুরে ঘুরে জেলার প্রতিটি আনাচে কানাচে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ইউনিয়ন,উপজেলার সব সম্মেলন শেষ করতে পারলেও সীমান্ত উপজেলা বরকলে গিয়েই আটকে গেলো এই সম্মেলন। অথচ বাকি নয় উপজেলার কোনটিতেই ন্যুনতম সমস্যা কিংবা চ্যালেঞ্জ ছাড়াই শেষ হয়েছে সম্মেলন,এমনকি লাগেনি পুলিশের উপস্থিতিও। কিন্তু বরকলে একপক্ষকে সরাতে ভূমিকা রাখতে হয়েছে পুলিশকেও।

বুধবার দিনভর থেমে থেমে উত্তেজনা, বাকবিতন্ডা,প্রবল আপত্তি পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য আর অভিযোগের পাহাড়ের কারণে বরকল উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করে বিষন্ন মনেই শেষ বিকেলে শহরে ফিরেছেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। তাদের চোখে মুখে ছিলো তীরে এসে তরি ডোবার বিষাদ।

বুধবার সকালে প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শেষে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হলে জেলা নেতৃবৃন্দ প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করতে বলেন। এসময় সভাপতি পদে দুজন ও সাধারণ সম্পাদকের পদে ৪টি নাম প্রস্তাব করা হয়। নিজেরদের মধ্যে আলোচনা করে প্রার্থীতা চুড়ান্ত করার আহবান জানান জেলা নেতৃবৃন্দ। প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা শেষে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে দুজন সরে দাড়ালেও সভাপতি পদ থেকে কেউ সরেননি। ফলে সভাপতি পদে থাকেন সবীর কুমার চাকমা ও প্রভাত কুমার চাকমা। অন্য দিকে সাধারণ সম্পাদক পদে থাকেন ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন ও ভূষণছড়া ইউপি সাবেক মেম্বার মোঃ আলমগীর। কাউন্সিলের শুরুতেই কাউন্সিলরদের নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আলমগীর মেম্বার ভূষণছড়া থেকে আসা কাউন্সিলরদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এসময় আলমগীর অভিযোগ করেন, ৪ নং ভূষণছড়া ইউনিয়নের কাউন্সিলরদের মধ্যে জামাত বিএনপির লোক আছে, তাদের বাদ দিতে হবে। এক পর্যায়ে জেলা নেতৃবৃন্দ ভুষণছড়া ইউনিয়নের নির্ধারিত ৩১ কাউন্সিলরের পরিচিত যাচাই বাছাই করে ৮ কাউন্সিলরকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
এরপর নির্বাচনের জন্য প্রতীক বরাদ্দের আগে পুরনায় আরো কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তখন প্রচন্ড বাকবিতন্ডা হয়। শেষ পর্যন্ত বরকল উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করে দেন রাঙামাটি জেলা নেতৃবৃন্দ।
তখন ভূষণছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মামুনুর রশীদ ও তার সমর্থকরা নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকলে সভাপতি প্রার্থী সবীর কুমার চাকমা বলেন, আমাদের আভিভাবক জননেতা দীপংকর যে নির্দেশ বা যা করবেন আমরা তা মেনে নিবো। আপাতত আর কিছুই করার নেই। তখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।’

এর আগে বাহিরে বাকবিতন্ডা বেড়ে যাওয়ায় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে সকল ডেলিগেটদের সম্মেলন স্থল থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।

সম্মেলন কক্ষের বাহিরে দুই পক্ষের কর্মীরা বিভিন্ন অভিযোগ আনতে থাকে কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে। এক পক্ষের সমর্থক জেএসএস কর্মী, অন্য পক্ষ তাদের জামাত বিএনপি কর্মী বলে অভিযোগ করতে থাকে।
তবে জেলার কয়েক জন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘সন্তোষ কুমার চাকমা আলমগীরে পক্ষে এবং সবীর কুমার চাকমা মানুনের পক্ষে থাকায় এমন সমস্যা হয়েছে।’
তারা আরও বলেন , ‘যদি নির্বাচন হতো তাহলে সবীর ও মামুন নির্বাচিত হতেন, সেটা অনুমান করতে পেরে আলমগীর পুনরায় কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে বাহিরে থাকা ডেলিগেট ও কাউন্সিলরদের সাথে হয়, তারা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান সবীর কুমার চাকমা কর্মীবান্ধব, তিনি যে পদেই নির্বাচন করুক না কেন, তাকে কেউ হারাতে পারবে না।

সাধারন সম্পাদক প্রার্থী মামুনুর রশীদ বলেন,নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েও কেনো জেলা নেতৃবৃন্দ নির্বাচন দিলেন না আমরা বুঝতে পারছিনা। বিষয়টি আমাদের অভিভাবক জননেতা দীপংকর তালুকদারকে জানাব। তিনি যে নির্দেশনা দিবেন সেটাই মেনে নিব আমরা।’

সম্মেলনে উপস্থিত রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, ‘কাউন্সিলরের তালিকা দিয়েছে কাউন্সিলের দিন সকালে। এই কারণে প্রার্থীরা ভোটও চাইতে পারেনি। তাই কাউন্সিলর ও প্রার্থীরা আপত্তি জানানোয় বিশৃংখলা এড়াতে কাউন্সিল স্থগিত করেছি আমরা। এখন দাদা যে সিদ্ধান্ত দিবে,সেটাই হবে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button