নীড় পাতা / ফিচার / খেলার মাঠ / শেখ রাসেল স্মৃতি নৌকা বাইচ : সাত অতিথির কেউই ছিলেন না !
parbatyachattagram

শেখ রাসেল স্মৃতি নৌকা বাইচ : সাত অতিথির কেউই ছিলেন না !

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তার জন্মদিনে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজন করেছিলো নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি শহরের শহীদ মিনার এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তুপ্রধান অতিথি,গেষ্ট অব অনার এবং বিশেষ অতিথি মিলিয়ে ৭ অতিথির একজনও উপস্থিত ছিলেন না অনুষ্ঠানে। এনিয়ে তৈরি হয়েছে শহরজুড়ে বিরূপ সমালোচনা।

বিপুল সাড়া ফেলা এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির। তার মাতৃবিয়োগ এবং বান্দরবানে একই দিনে মায়ের স্মরণে ধর্মীয় অনুষ্ঠান থাকায় উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। কিন্তু মন্ত্রী যুক্তিসঙ্গত কারণেই অনুপস্থিত থাকলেও, অজ্ঞাত কারণে উপস্থিত ছিলেন না অনুষ্ঠানের কোন অতিথিই।
রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পৃষ্ঠপোষকতায়, প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর এবং সদস্য সচিব ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক শফিউল আজম। এই দুজনের সাক্ষরে বিভিন্নস্থানে পাঠানো চিঠিতে দেখা গেছে,অনুষ্ঠানে পার্বত্য মন্ত্রীর পাশাপাশি গেষ্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার। কিন্তু তারা দুজনও উপস্থিত ছিলেন না। শুধু তাই নয় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙামাটির রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এমডি মাইনুর রহমান,পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ও রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর। এরা একজনও উপস্থিত ছিলেন না এই আয়োজনে। পুলিশ সুপার প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈনউদ্দিনকে। শুধুই জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন। সাথে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান শাহীনুর ইসলাম,সদস্য (পরিকল্পনা) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী।

তবে বিশাল অর্থব্যয়ে বিপুল এই আয়োজনে অতিথিদের প্রায় সবারই অনুপস্থিতিতে উপস্থিত অনেককেই হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকেই একে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাঙামাটির সিনিয়র তিনজন ক্রীড়া সংগঠন বলেছেন, ‘বুঝলাম মন্ত্রীর মায়ের প্রোগ্রামকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেউ কেউ আসেননি,বাকিরা আসেননি কেনো ? আমরা মনে করি এটা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা। একই সাথে অতিথিদের আন্তরিকতার অভাব ছিলো। জাতির পিতার ¯েœহভাজন কনিষ্ঠ সন্তানের স্মৃতিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার প্রতি তাহলে কি তাদের শ্রদ্ধা বা আবেগ নেই ? তারা কি এর দায় এড়াতে পারেন ? পুরো বিষয়টি দু:খজনক যে, ‘আমন্ত্রিত একজন অতিথিও উপস্থিত ছিলেন নাহ্ !’

নৌকা বাইচ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক হাজী মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন,এটা আমাদের ব্যর্থতা নয়। মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুজনিত অনুষ্ঠানের কারণে মন্ত্রী আসতে পারেননি আর সেখানে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেছেন উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। আর অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেছেন দীপংকর তালুকদার এমপি। বাকীরা কেনো আসেননি সেটা আমি জানিনা।’ অতিথিদের কারোই না আসাকে নিজেদের ব্যর্থতা মানতে রাজি নন প্রভাবশালী এই আওয়ামীলীগ নেতা।

অন্যদিকে আয়োজক রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক মোঃ শফিউল আযম বলেছেন, ‘ অতিথিরা আসার কথা,কিন্তু না আসলে তো আমার কিছু করার থাকেনা। মন্ত্রী মহোদয়ের মায়ের মৃত্যুজনিত কারণে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেছেন কেউ কেউ। বাকিরা কেনো আসেননি বুঝতে পারছিনা। আমাদের পুরো আয়োজনটি খুবই সুন্দর ছিলো,যেহেতু জাতির পিতার প্রিয় সন্তানের স্মৃতিতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা, সেহেতু আমরা সর্বোচ্চ ভালো করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অতিথিরা উপস্থিত থাকলে অনুষ্ঠানটি আরো সুন্দর হতো।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১

বান্দরবানের হাফেজঘোনায় চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। পুলিশ …

Leave a Reply