রাঙামাটিলিড

শুধুই সম্ভাবনার গালগপ্প,নেই কার্যকর উদ্যোগ

শুভ্র মিশু
মেঘ, পাহাড় আর হ্রদের দেশ রাঙামাটি। প্রকৃতি তার রূপ অপার হস্তে দান করেছে এই জনপদে। যার টানে প্রতি বছর ছুটে আসেন প্রায় ৫ লাখ পর্যটক। তবে সিম্বল অব রাঙামাটি খ্যাত জেলার বৃহত্তম পর্যটন স্পট ঝুলন্ত সেতুতে নেই কোন উন্নয়নের উদ্যোগ। স্পটটিতে নেই কোনও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা, ছড়িয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা, ভাঙ্গা ও সরু রাস্তায় হতাশ পর্যটকরা। তবে পর্যটনকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানালেন পর্যটন কর্পোরেশন ব্যবস্থাপক।
রাঙামাটি পর্যটন শিল্পের আইকন হিসাবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতু। ১৯৮৫ সালে ৩০একর জায়গা নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে কাপ্তাই হৃদের উপর তৈরি করা হয় পর্যটন স্পট ও ৩৩৫ফুট দৈর্ঘ্যরে এই সেতু । এরপরে কেটে গেছে প্রায় চার দশক। শুধু এই ঝুলন্ত সেতুর টানে প্রতিবছর লাখো পর্যটক ভ্রমণ করে রাঙামাটিতে। তবে ঝুলন্ত সেতুটিকে ঘিরে কর্তৃপক্ষের পক্ষের নেই কোন পরিকল্পনা।
ঝুলন্ত সেতুতে গিয়ে দেখা মেলে আবর্জনা স্তুপ। স্পটটিতে নেই কোনও ওয়াশ রুম। ভাঙ্গা ও সরু রাস্তা দিয়ে পর্যটকদের চলাচল করতে হয়। পর্যটকদের জন্য নেই কোনও ছাউনি। অথচ এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি ঝুলন্ত সেতুর আশপাশ এলাকা সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে এই পর্যটন স্পটটিকে আরো আকর্ষণীয়ভাবে পর্যটকদের কাছে উপস্থাপন করা গেলে বর্তমান সময়ের চেয়ে পর্যটক বাড়তো দ্বিগুণ।
রাঙামাটি ঝুলন্ত সেতুতে ঘুরতে আসা পর্যটক ইলিয়াস জানান, এখানে নেই কোন ওয়াশরুম। রাজবাড়ি থেকে আসছি। এখানে নেমে কোন ওয়াশরুম পেলাম না। ঝুলন্ত সেতুর ছবি দেখে আসলাম কিন্তু এই স্পটে সেতুটি ছাড়া আর কিছু তেমন দেখার নাই।
আর এক পর্যটক হুমায়ুন জানান, চট্টগ্রাম থেকে ৭বছরে তিন বার ঝুলন্ত সেতুতে এসেছি। এখানে কোন কিছুতো সংযুক্ত হয়নি বরং ভেঙ্গে গেছে চলাচলের পথ।
টাঙ্গাইল থেকে আসা শিক্ষার্থী রিপন বলেন, এখানে বৃষ্টি আসলে যে কোন জায়গায় গিয়ে বসবো তার সুযোগ নাই। কোন ছাউনির ব্যবস্থা নাই। চাইলে এই স্পটকে অনেক সুন্দর ভাবে সাজানো যেত।
ঝুলন্ত সেতুর বেহাল দশার কথা স্বীকার করে নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন ব্যবস্থাপক বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া।
তিনি জানান, আমরা নতুন করে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি পর্যটন কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে। ঝুলন্ত সেতুর অপরপাশে চার একর জায়গা নিয়ে আমরা একটি নতুন পার্ক তৈরি করবো।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংশু প্রু চৌধুরী জানান, মন্ত্রণালয়ে রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে ১২শত কৌটি টাকার প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটি সময় সাপেক্ষ হওয়ায়, তার বাইরে আমরা বর্তমানে ছোট ছোট কয়েকটি পর্যটন স্পট তৈরি করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি রাঙামাটির পর্যটন সম্ভাবনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × four =

Back to top button