ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

শুকনো পাতার সুরে জীবনের গান……

বাতাসে ঝরা পাতার গান। গানের সুরে হিম আবেশ।ওপাশে আকাশের বুকে চুপটি করে রক্তিম আভায় ডুবি ডুবি সূর্যি।এপাড়ে দূরে আম বাগান লিচু বাগানের সীমা ছাড়িয়ে কুয়াশায় মোড়া জল,লেকের জল।জলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে জলপতঙ্গ,মাছের নৌকো।পাতার উপরে ক্ষনে ক্ষনে উড়ে আসছে শুকনো পাতার দল।বাউরী বাতাসে একবার এপাশ একবার অপাশে ছুটছে পাতার দল।পা পড়লেই যেন ঝনঝন।কি মুগ্ধ ঘুম বিকেল।গা এলিয়ে আসে প্রশান্ত আবেশে।
ঘুম ঘুম এই বিকেলে বাঁশের কঞ্চির কেদারায় পা ছড়িয়ে বসে অমরশান্তি বাবুর হাতের কড়া চা।পাহাড়ের উপরে পথ ঘেষেই অমরবাবুর ছোট্ট একটা দোকান।দোকানের সামগ্রী বলতে কেবল মুড়ি,বিস্কিট আর গরম চা।দোকানের সামনেই রাখা ধাবা(হুক্কা)।অমরশান্তি বাবুর এই ছোট্ট দোকানের সব চেয়ে বৈচিত্য অংশ।এই ধাবা রাখা হয়েছে সাধারন মানুষের জন্য।দোকানে আসা যে কেউ এই ধাবা ব্যবহার করতে পারবে,সিগারেটের বিকল্প ব্যবস্থা!!ব্যাপারটা বেশ মজার।
এই পথে রোজকারের পথিক আলতাফ সওদাগর,মাছ ব্যবসায়ী।কাপ্তাই থেকে এখানে আসেন,তার নৌকার কাজ চলছে এই পাশেই।প্রতিদিনের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার আগে ওই বাঁশের কেদারায় খানিকটা বিশ্রাম।গাড়ির সন্ধান।অমরশান্তির সাথে সখ্যতা বেশ।
অমরকান্তির বোন হাজির নাতনী কোলে।চা খেতে।এ পাড়ায় কাছেবিছে এই একটাই দোকান।অমরকান্তির বোনের সাথে আলতাফ সওদাগরের জমানো গল্প জানান দেয় প্রত্যেকেই এই বিকেলের নিয়মিত খরিদদার।ততক্ষনে জুম থেকে হাজির অমরকান্তির সহধর্মিণী অমররানী!একই নাম শুনেই অবাক।জিজ্ঞেস করতেই হাসি,মিলে গেছে আরকি।২০বছরের সংসার।পাহাড়ের নিচেই নিজ বাড়ি।স্বামী স্ত্রী সন্তানেরা মিলেই দোকান জুম আর ঋতু ভেদে ফল চাষে জীবন।দুই মেয়ে এক ছেলে।বড় মেয়ে মেয়ের জামাই এখানেই থাকে বাবা মাকে জুমের কাজে দোকানের কাজে সাহায্য করে।পড়াশোনা করাচ্ছেন ছোট দুই ছেলেমেয়েকে।সুরভী ক্লাশ ফাইভে আর লিটন ক্লাড সেভেনে।বিকেলের সময়টায় মিষ্টি চেহারার লিটনও থাকে দোকানে।আর সন্ধ্যায় পড়াশোনা।
গাছে গাছে মুকুল চলে এসেছে।গাছে ব্যবহার করেন না কোন ঔষুধ।লাগিয়ে দিয়েছি পানি দিয়েছি বৃষ্টি নামবে ফল পাকবে এভাবেই চলবে অতশত ঔষুধ দিতে পারবোনা।ফল পাকলেই ফল যাবে তবলছড়ি বাজারে নতুবা কাপ্তাই বাজের।এদিক থেকে অবশ্য কাপ্তাই কাছে।গোলাছড়ি ধরে এই অংশটাকে।কাপ্তাই রাস্তার বেশ কাছেই।
গল্পে ভীষন পটু অমরকান্তি।সাথে শিশুসুলভ হাসির ছটা যেন লেগেই থাকে মুখে।সিগারেটও যেন ছাড়েনা হাত!!তার গল্পে গল্পেই আমাদের ঘড়ির কাটা গিয়ে ঠেকেছে সূর্য্য ডুবে চাঁদ পোহাবার সময়ে।ফিরতে ফিরতে অমরকান্তি বাবুর হাতে তুলে দিলাম ধাবা,নিজে যদিও সিগারেটই খান,তবুও ধাবায় টান আমাদের কথায়।এত সিগারেট খাবেন না অমর বাবু!আবারো হাসি…..বেলা পড়েছে সেই কখন,ফিরতে হবে।বাতাসে বেড়েছে খানিকটা হীম আঁচ।মাথায় আধ ফালি চাঁদ আর মুখাবয়বে প্রশান্তির রেশ।ঘুম ঘুম ঘোর…..সারল্যে ভরা শিশুসুলভ হাসিতে অমরকান্তি বাবু বিদায় জানানো।..আবারো আসবো আবারো ভাসবো কোন এক ক্লান্ত বিকেলে জীবনের স্রোত ডিঙিয়ে অন্য জীবনে ভাসতে,শান্ত সুরে……….

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button