নীড় পাতা / ব্রেকিং / ‘শিক্ষা খাতে ব্যয় করলে পরিবার পরিকল্পনা এমনিতেই হবে’
parbatyachattagram

উন্নয়ন বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তি বিতরণকালে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ

‘শিক্ষা খাতে ব্যয় করলে পরিবার পরিকল্পনা এমনিতেই হবে’

রাঙামাটিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকালে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মাইনী মিলনায়তনে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, আমরা জীবনের পুরোটা সময়কে ব্যবহার না করে, অভাবিত জীবনটাকে শুধু আমরা তুচ্ছ তাচ্ছিল করি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও লিখেছিলেন আমি এক জীবনে দুই জীবনের কাজ করে গেলাম। কিন্তু আমরা এক জীবনে যে কাজ করার কথা তার ১০ শতাংশও করি না। আমরা মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে গেলে সৃষ্টিকর্তার নিকট বলি আমাকে আর কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখুন, তাহলে হয়তো আমরা ওই সময়টাতে জীবনের বাকি কাজগুলো করে ফেলবো, কিন্তু তাও যদি হয় সে সময়ও আমরা আলসেয়েমি করি। আর শেষ বয়সে এসে আমরা যতই দ্রুত কাজ করতে চাই না কেন, সেটা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, একটি একটি পা ফেলে। আর একটি একটি পা ফেলে এগিয়ে গেলেই আমরা এভারেস্ট থেকে শুরু করে এই বিশ্বকে জয় করে ফেলবো। তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনার জন্য অফিসের চেয়ে বেশি প্রয়োজন শিক্ষার। শিক্ষা খাতে ব্যয় করলে পরিবার পরিকল্পনা এমনিতেই হবে। যে পরিবারে শিক্ষা আছে সে পরিবারে এমনিতেই সন্তানের সংখ্যা কম। আমার দুইজন সন্তান, আমাকে কেউ কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা অফিস থেকে বলতে আসেনি।

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’ স্বপ্ন মানুষকে তার গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে সাহায্য করে। স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বড় কিছু করতে পারে না। তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে যেভাবে আর্থিক সহযোগিতা করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ শিক্ষা দীক্ষায় পিছিয়ে থাকার কোন সুযোগ নেই।

সভাপতির বক্তব্যে উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ২০১২ সালে শিক্ষাবৃত্তির জন্য বরাদ্দ ছিলো ২৫ লক্ষ টাকা। ২০১৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষাবৃত্তির বরাদ্দ পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়। প্রতিবছর ২কোটি টাকা শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ যাতে শিক্ষা দীক্ষায় পিছিয়ে না থাকে সেজন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যনয়ত মেধাবি, গরীব ও অনগ্রসর শিক্ষার্থী যাতে আরো বেশি কেউ বঞ্চিত না হয় সে বিষয় বিবেচনা করে আগামীতে শিক্ষাবৃত্তির অনুকূলে পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ প্রাপ্তির স্বাপেক্ষে শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য(পরিকল্পনা) ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী। শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নির্দশন চাকমা (কলেজ পর্যায়) আর সুমা দে (বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়) দুইজনই তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বোর্ডের সদস্য-বাস্তবায়ন মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (উপসচিব), অধ্যক্ষ, রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ, অধ্যক্ষ রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজ, অধ্যক্ষ, রাঙামাটি পাবলিক কলেজ, মেয়র রাঙামাটি পৌরসভা, মিজ্ নিরূপা দেওয়ান, দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক একেএম মকছুদ আহমদ, রাঙামাটি ইউনিট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রত্যন্ত এলাকায় মিশ্র ফল চাষ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জনাব মোঃ জানে আলম।

উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, এই বছর অনলাইনে প্রায় ৯ হাজার আবেদনের মধ্যে ২হাজার ২শত জন্য শিক্ষার্থীকে তিন পার্বত্য জেলায় শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। যার অর্থ মূল্য ২কোটি টাকা। তিন পার্বত্য জেলায় আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। তার মধ্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কলেজ পর্যায়ের ৩১৪ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৪১৫ জনসহ মোট ৭২৯ জনকে শিক্ষাবৃত্তির অর্থসহ একটি করে শিক্ষাবৃত্তি বই প্রদান করা হয়। কলেজ পর্যায়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রতিজনকে ৭ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তি অর্থ বিতরণ করা হয়। এতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই বৃত্তির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাবা মায়ের সাথে দুই শিশুর দীর্ঘ ‘অমানবিক পথ হাঁটা’ !

আব্দুল, বয়স আনুমানিক ৬, লাকি’র আনুমানিক ৩। তারা বাবা মায়ের সাথে হেঁটেই রওয়ানা দিয়েছে, গন্তব্য …

Leave a Reply