লিড

শাহআলম নাকি ভূট্টো : কে হচ্ছেন বিএনপি’র সভাপতি ?

সুহৃদ সুপান্থ
তাদের মধ্যে মিলও প্রচুর,বৈরিতাও সমানে সমান। এককালে ঘনিষ্ঠ ছিলেন,তারপর দূরত্ব বেড়েছে। পরে আবার ঘনিষ্ঠ হয়েছে,এরপর আবার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এমন সাপে-নেউলে,অম্ল-মধুর সম্পর্কের পরিণতিতো আর সবসময় সমান যায়না ! হচ্ছেও তাই। এবার দুই শত্রু কিংবা মিত্র,সাবেক মিত্র কিংবা বর্তমান শত্রু, মুখোমুখি হয়েছে আরেকবার,একই পদে,বিজয়ী হতে,জেলার শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিতে। দুজনেরই হাজারো অনুসারি,দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ তো বটেই। তবে ব্যক্তিচরিত্রে আছে ভিন্নতা,একজন ধীরস্থির,চুপচাপ নিপাট ভদ্রলোক,অন্যজন বেপরোয়া আগ্রাসী ছাঁচাছোলা কথাবার্তায় যেনো বারুদ বয়ে বেড়ান ! এদের একজন জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মোঃ শাহ আলম,অন্যজন জেলা বিএনপির সহসভাপতি কিন্তু সভাপতি পদের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ভূট্টো ! রাঙামাটি জেলার জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে দুজনই বেশ চেনা ও পরীক্ষিত মুখ। শনিবার জেলা বিএনপির কাউন্সিলে লড়ছেন দুজনই !

শাহ আলমের রাজনীতির শুরু ছাত্রাবস্থাতেই। কলেজ জীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল হয়ে আজীবন এই রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি,জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শেষ সভাপতিও। এবার আবার প্রার্থী হয়েছে একই পদে। ব্যক্তিগত জীবনে ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে জড়িত শাহ আলমরা রাঙামাটির প্রাচীন নাগরিক। পুরান রাঙামাটি শহরের বাসিন্দা পূর্বপুরুষের হাত ধরে শহর ডুবে যাওয়ার পর বাঘাইছড়িতে থিতু হন তারা। কিন্তু শহর রাঙামাটির সাথে নাড়ির সম্পর্কটা ঠিকঠাক। তাই রাজনীতি কিংবা ব্যবসা,সবই শহরকেন্দ্রিক। রাজনীতি থেকে দিয়েছেও অনেক। দলের প্রায় সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদই তিনি আসীন ছিলেন নানান সময়ে। তবে মূল দায়িত্বগুলো পালনকালে দল ক্ষমতার বাহিরে ! তবুও ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতির সার্বক্ষণিক কর্মী শাহ আলম,ঠিকঠাক নিবেদিতপ্রাণ দলের জন্যই। জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী তিনি এবারও।

অন্যদিকে স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি সাইফুর ইসলাম ভূট্টোর। ছাত্রদলের কলেজ,জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে ছিলেন যুবদলে। সেখান থেকে পৌর বিএনপির সভাপতি। তারপর জেলা বিএনপির সহসভাপতি। হয়েছেন পৌর মেয়রও। রাঙামাটি পৌরসভার চল্লিশ বছরের ইতিহাসে তিনিই বিএনপির প্রথম মেয়র,শেষও। এবার সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন,মূলত শাহ আলমের প্রতি তার রাগ ক্ষোভের পাশাপাশি বলছেন, ‘পরিবর্তন প্রয়োজন’। ছাঁচাছোলা কথাবার্তার জন্য বরাবরই পরিচিত ভূট্টো। বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনা করে ঘোষণা দিয়েই প্রার্থী হয়েছেন শাহ আলমকে ঠেকাতে। চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলা থেকে উপজেলা,যাচ্ছেন কাউন্সিলরদের বাসায় বাসায়। বেশ সাড়া পাচ্ছেন বলেও দাবি তার। ‘ঠোঁটকাটা ও স্পষ্টভাষী’ ভূট্টোকে নিয়ে তাই বেশ টেনশনেই আছেন শাহ আলমও।

শাহ আলম এবং ভূট্টো, কে হবেন সভাপতি সেটা নির্বাচন করবেন কালকের কাউন্সিলের ১৫৪ জন কাউন্সিলর। তারা বিবেচনায় নিবেন দুই নেতার আগপিছ,আশপাশ,চারধার এবং অতীত বর্তমানের ভূমিকা। সঙ্গত কারণেই কে বিজয়ী হবেন বলা মুশকিল।

তবে যেই বিজয়ী হোন না কেনো,বাকিজনের রাজনীতি কঠিন হয়ে পড়বে বটে। যদি শাহ আলম বিজয়ী হন,ভূট্টোর জন্য বেশ কঠিনই হবে আসছে দিনের রাজনীতি, আর যদি ভূট্টো জিতে যান,তবে সম্ভবত ‘উপদেষ্টা কমিটি’তে ঠাঁই মিলবে শাহ আলমের। ফলে জেলার শীর্ষ নেতার এই মহাগুরুত্বপূর্ণ চেয়ারটি নিয়ে নেতাকর্মীরাও বেশ চিন্তায় আছেন। ‘নিপাট ভদ্রলোক’ শাহআলম নাকি ‘মারমারকাটকাট ভূট্টো’ কে হচ্ছেন বিএনপির সভাপতি,তার জন্য আরো অন্তত ২৪ ঘন্টা অপেক্ষাই করতে হবে !

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − 2 =

Back to top button