বিশেষ আয়োজনলিড

 শহীদ এম আবদুল আলীর ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শহীদ এম আবদুল আলীর ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। ১৯৭০-এর শেষের দিকে রাঙামাটি মহকুমা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি রাঙামাটির ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। জেলার প্রশাসনিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সীমান্তের ওপাড়ে চলে গেলেও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আবদুল আলী যাননি।
১৯৭১সালের ১৬ এপ্রিল সীমান্ত থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে রাঙামাটি আসলে ডিসি বাংলো ঘাটে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। ১২দিন তাঁর উপর নির্মম নির্যাতন চালায় পাকিস্তানি হায়েনারা। তাঁকে জীপের পিছনে বেঁধে শহরে ঘুরানো হয়। ২৭এপ্রিল তাঁকে কেটে টুকরো করে লাশ বস্তাবন্দী করে কাপ্তাই হ্রদে ডুবিয়ে দেয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার তাঁর নামে শহরের পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং মাঠ সংলগ্ন স্থানে স্থানে শহীদ বেদী করা হয়। এছাড়াও শহরের রিজার্ভ বাজারে তাঁর নামে একটি স্কুলের নামকরণ করা হয়। ২০১৫সালে সাংবাদিক ইয়াছিন রানা সোহেল এই শহীদের জীবনগ্রন্থ প্রকাশ করেন। এরপর সর্বত্র এই শহীদের অবদান সম্পর্কে বেশ সাড়া পড়ে যায়। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অসামান্য অবদান সরকারের দৃষ্টিতে পড়ে।
ফলে ২০১৬ সরকার এই মহান বীরকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন। আর এটিই তিন পার্বত্য জেলায় প্রথম স্বাধীনতা পদক। প্রতিবছর এই দিনে শহীদ আবদুল আলী একাডেমিতে আড়ম্বরপূর্ণভাবে শহীদের জীবনী আলোচনা ও দোয়া মাহফিল করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে এ বছর সকল আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button