রাঙামাটিলিড

শহরে বন্ধ অভ্যন্তরীণ যানচলাচল, ছাড়েনি পাহাড়িকাও, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সাইফুল হাসান ॥
রাঙামাটির জেলা শহরের একমাত্র অভ্যন্তরীণ যানপরিবহন সিএনজি অটোরিকশা। শনিবার হঠাৎ জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সিএনজি অটোরিকশা চালকদের সাথে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরে বন্ধ রাখা হয়েছে শহরের একমাত্র অভ্যন্তরীণ পরিবহন। এতে শনিবার সকাল থেকে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ভেদভেদী থেকে বনরূপা যাওয়া জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী ফিরোজা বেগম জানান, আমি মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বের হয়েছি কিন্তু সিএনজি বন্ধ থাকায় এখন হেঁটে যেতে হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ এখন কি এত হাঁটতে পারি?

আরেক যাত্রী রাসেল বলেন, আমি বনরূপা একটি দোকানে চাকরি করি। সকালে দোকানে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি অনেকক্ষণ পরে একটি সিএনজি পেয়েছি তাও ভাড়া খুঁজে ৩০ টাকা যেখানে ভেদভেদী থেকে বনরূপা ভাড়া ১২ টাকা। এত বেড়ে যাওয়ার তো কারণ দেখছি না, তেলের দাম বাড়ছে সেক্ষেত্রে বার্তি নিতে পারে কিন্তু এত বেশি।

এদিকে সাধারণ যাত্রীদের সাথে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও পরেছে ভোগান্তিতে। তেমনি এক স্কুল ছাত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাবার জন্য বের হয়েছি এখন সিএনজি বন্ধ থাকায় স্কুলে যেতে পারছি না। তাই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি।

রুচকিয়া জান্নাত নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি সকালে স্কুল বাস ধরতে পারিনি তাই মনে করেছি সিএনজিতে করে যাবো কিন্তু সিএনজি বন্ধ থাকায় এখন স্কুলে যেতে পারছি না।

সিএনজি চালক মো. হারুন ও মোসমেল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ভাড়া নিয়ে সকাল থেকে যাত্রিদের সাথে চালকদের তর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাই জেলা প্রশাসন থেকে নতুন ভাড়া নির্ধারণ না করা পর্যন্ত শহরের একমাত্র গণপরিবহন অটোরিক্সা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাদের দাবি জেলা প্রশাসন দ্রুত ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেই পুনরায় গণপরিবহন চালু করবেন।

সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ থাকার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙামাটি অটোরিকশা সিএনজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু জানান, হঠাৎ তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আমরা ভাড়া নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। এরমধ্যে আমাদের দুইজন সিএনজি চালককে মেরেছে যাত্রীরা। জসিম নামের একজনকে মেরেছে কলেজ গেইট এলাকায় অন্যজন শফিউলকে মেরেছে রিজার্ভ বাজার এলাকায়।

শ্রমিক নেতা আরও বলেন, আমরা পৌরসভার মেয়রের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন এখনো প্রজ্ঞাপন আসেনি। আমাদেরকে নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করে না দিলে আমরা সিএনজি চালাবো না এবং আমাদের চালকদের ওপর হামলার বিচার করতে হবে প্রশাসনকে।

এদিকে শহর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে পাহাড়িকা সার্ভিসের কোন গাড়ি চলাচল করেনি। তবে বিটিআরসি আগের ভাড়ায় গাড়ি চালিয়েছে। বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে কোনও বাস চলাচল করেনি।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমরা আগামীকাল সকাল ১১ টায় মিটিং আহ্বান করেছি, মিটিং থেকে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। আর সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে, প্রজ্ঞাপন এলে আমরা সে অনুসারে ব্যবস্থা নিবো। গাড়ি চলাচল খুলে দেওয়ার জন্য বলে দিয়েছি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − seven =

Back to top button