করোনাভাইরাস আপডেটখাগড়াছড়িপাহাড়ের অর্থনীতিব্রেকিংলিড

শর্তসাপেক্ষে খুলছে খাগড়াছড়ির পর্যটনকেন্দ্র

সাজেক নিয়ে ধোঁয়াশা

দীর্ঘ ৫ মাস পর খুলে দেয়া হচ্ছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো। আগামী ২৮ আগস্ট থেকে এই জেলার প্রধানতম চারটি পর্যটনকেন্দ্র খাগড়াছড়ি শহরের অদূরে অবস্থিত আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, রিছাং ঝর্ণা, পানছড়ির মায়াবিনী লেক এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক বা জেলা পরিষদ পার্ক জনগণের জন্য উম্মুক্ত হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এরআগে রাঙামাটি ও বান্দবানের পর্যটন কেন্দ্রসমূহ দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার ঘোষনা দেয়া হয়েছিল।’

সূত্রে জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে গঠিত জেলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু শর্তসাপেক্ষে পর্যটনকেন্দ্রগুলো উম্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে সভা অনুষ্ঠিত হলেও সন্ধ্যা ৮টার পর এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবশ্যই প্রতিটি পর্যটকের মাস্ক পরিধান, প্রবেশমূখে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার বা হাত জীবানুমুক্ত করা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা এবং অসুস্থ অবস্থায় পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ না করা প্রভৃতি। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সাজেকের হোটেল, রিজোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁসমূহ বন্ধ হয়ে যায় ২১ মার্চ থেকে।

এদিকে জেলার দীঘিনালার তৈদুঝর্ণা, পানছড়ির অরণ্যকুঠির, মাইসছড়ি দেবতা পুকুর, মানিকছড়ি রাজবাড়ি, রামগড়ে বিজিবি‘র জন্মস্থানসহ অন্যান্য ছোটখাটো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়া যাবে কিনা; সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার খবরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন খাগড়াছড়ি হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি কল্যান মিত্র বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। তারা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে স্বাগত জানিয়েছেন।

সাজেক নিয়ে ধোঁয়াশা

এই মুহুর্তে দেশের সবচেয়ে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর একটি ‘সাজেক ভ্যালি’। তবে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির প্রায় সব’কটি পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন কেন্দ্রটি উম্মুক্ত করা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে সাজেক রাঙামাটির অন্তর্গত হওয়ায় এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক।

উল্লেখ্য যে, খাগড়াছড়ির ওপর দিয়েই সাজেকে যাতায়াত করতে হয়। তিন পার্বত্য জেলার প্রধানতম পর্যটন কেন্দ্রসমূহ দর্শনার্থীদের জন্য উম্মুক্ত করার ঘোষনা এলেও সাজেক নিয়ে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা না আসায় হতাশ হয়েছেন সেখানকার কটেজ, রিজোর্ট ও রেস্তোরার মালিকরা।

‘মেঘমাচাং’ এর ম্যানেজার বাবলু এবং ‘গরবা’ এর মালিক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সাজেকে আসতে পর্যটকরা অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন। তারা খুব বিরক্ত করছেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে বুকিং নিতে পারছিনা।’

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ ত্রিপুরা জানান, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাজেক খুলে দেবার ব্যাপারে টুরিজম বোর্ড এর একটি নির্দেশনা ইতিপূর্বে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাঠিয়েছেন। তারপরও অজ্ঞাত কারণে সাজেক খুলছেনা।’ এক্ষেত্রে নিরাপত্তাবাহিনীর সবুজ সংকেত জরুরি বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button