ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

শক্তিমানকে শেষদেখা দেখতে গিয়েই সাঙ্গ হলো বর্মার জীবন

নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তার দাহক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে বেপরোয়া গুলিবর্ষনে ইউপিডিএফ-গনতান্ত্রিক এর শীর্ষ নেতা, দলটির আহ্বায়ক তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাসহ অন্তত: ৫ জন নিহত এবং আরো অন্তত: ৮ জন আহত হয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যাবার পথে শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টা দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ইউপিডিএফ-গনতান্ত্রিক এর নেতা লিটন চাকমা জানিয়েছেন, একটি মাইক্রোবাসে করে নানিয়ারচর যাচ্ছিলেন তারা। গাড়িটি বেতছড়ির কেঙ্গালছড়িতে পৌছালে একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ ব্রাশফায়ার করে। এতে গাড়িটি উল্টে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে। এসময় শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে গাড়ির একটি বহর যাচ্ছিল। পরে এলাকাবাসী ও আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ৫জনের লাশ এবং গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজনকে উদ্বার করে।

লিটন চাকমা জানিয়েছেন, দাদা ( তপনজ্যোতি) ওখানে যাওয়ার কথা নয়। তিনি মহালছড়ি থেকে ওই গাড়িতে উঠেছেন,আমরাও জানিনা বিষয়টি। সম্ভবত: শক্তি দা শেষ দেখা দেখার জন্যই তার দাহক্রিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন তিনি।

আহতরা জানিয়েছেন, শেষকৃত্যে অংশ নিতে যাওয়া গাড়ি বহরে বেশ কয়েকটি চাঁদের গাড়ি, বাস ও মাইক্রোবাস ছিল। মূলত: ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর শীর্ষনেতা তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মার গাড়িকে লক্ষ্য করেই ব্রাশফায়ার করা হয়।

আনুমানিক বেলা পোনে ২টার দিকে হতাহতদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে আনা হয়। এরমধ্যে সেতু লাল দেওয়ান (৪০) ও মাইক্রো চালক মো: সজিব হাওলাদার (৩৬) এর লাশ খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৮জনকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ৪জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। নিহত অপর ৩জনের লাশও পরে খাগড়াছড়িতে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর শীর্ষনেতা ও সভাপতি তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মার লাশও রয়েছে।

আহতরা হলেন দিগন্ত চাকমা (২৮), অর্চিন চাকমা (২৫), অর্জুন চাকমা (২৩), মিহির চাকমা (৩০), জীবন্ত চাকমা (৩০), শান্তি রঞ্জন চাকমা (৩৮), নিহার চাকমা (৫০) ও প্রীতি কুমার চাকমা (৪০)। আহতের মধ্যে কেবল নিহার চাকমা ও প্রীতি কুমার চাকমার বাড়ি রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরে। বাকিরা সবাই খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা নিহত দু‘জনের মধ্যে সেতু দেওয়ানের বাড়ি জেলার মহালছড়ির স‘মিল পাড়া এলাকায়। অন্যদিকে মাইক্রো চালক মো: সজিব হাওলাদারের গ্রামের বাড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার মুসলিমপাড়ায়।

খাগড়াছড়ি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, আহতদের মধ্যে অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ ও দূর্ঘটনায় আহত। বেশি আশংকাজনক হওয়ায় ৪জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত অন্যরা শংকামুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, দায়ীদের ধরতে অভিযান চালানো হবে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button